জাইলেম কাকে বলে ? What is Xylem | জাইলেমের উৎপত্তি ও উপাদান

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

জাইলেম কাকে বলে ? What is Xylem | জাইলেমের উৎপত্তি ও উপাদান

জাইলেম কাকে বলে – What is Xylem : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকের এই পর্বটিতে শেয়ার করলাম জাইলেম কাকে বলে এবং জাইলেমের উৎপত্তি ও উপাদান সম্পর্কে।

জাইলেম কাকে বলে :

উদ্ভিদের যে জটিল স্থায়ী কলার মাধ্যমে মূল থেকে শোষিত জল ও জলে দ্রবণীয় খনিজ লবণ উদ্ভিদের পাতায় পরিবাহিত হয়, তাকে জাইলেম কলা বলে।

জাইলেমর উৎপত্তি :

উদ্ভিদদেহে প্রাথমিক বৃদ্ধির সময় প্রোক্যাম্বিয়াম নামক প্রাথমিক ভাজক কলা থেকে যে জাইলেম সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। অপরদিকে ব্যক্তবীজী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম নামক গৌণ ভাজক কলা থেকে যে জাইলেম কলার সৃষ্টি হয় তাকে গৌণ জাইলেম বলে। প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে প্রারম্ভিক দশায় গঠিত প্রাথমিক জাইলেমকে প্রোটোজাইলেম এবং পৃথকীকরণের মাধ্যমে প্রোটোজাইলেমের পর যে জাইলেমের আবির্ভাব ঘটে তাকে মেটাজাইলেম বলে। প্রোটোজাইলেমের উপাদানগুলি আকৃতিতে ছোটো ও স্বল্প ব্যাস যুক্ত এবং মেটাজাইলেমের উপাদানগুলি বড়ো ও অধিক ব্যাসযুক্ত হয়।

জাইলেমের উপাদান :

জাইলেম চার প্রকার সজীব ও মৃত কোশ দিয়ে গঠিত। যথা- ট্র্যাকিড, ট্র্যাকিয়া, জাইলেম প্যারেনকাইমা এবং জাইলেম তত্ত্ব। ট্র্যাকিড ও ট্র্যাকিয়া জল ও খনিজ লবণ পরিবহণে সংশ্লিষ্ট থাকায় এদের একত্রে ট্র্যাকিয়ারি উপাদান বলে।

A. ট্র্যাকিড :

সংজ্ঞা : পুরু কোশপ্রাচীরযুক্ত, লম্বা, ছুঁচোলো প্রান্তবিশিষ্ট, মৃত জাইলেম কোশকে ট্র্যাকিড বলে।

অবস্থান : গুপ্তবীজী, ব্যক্তবীজী ও ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতায় ট্র্যাকিড অবস্থিত।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

I. ট্র্যাকিড কোশগুলি দেখতে লম্বা এবং দু-প্রান্ত সরু ও বন্ধ প্রান্ত প্রাচীরযুক্ত।
ii. কোশপ্রাচীরে অত্যধিক লিগনিন জমা হওয়ায় কোশপ্রাচীর স্থূল হয়।
iii. কোশপ্রাচীরে প্রচুর কৃপ বর্তমান।
iv. পরিণত কোশে প্রোটোপ্লাজম না থাকায় কোশগুলি মৃত।
v. কোশপ্রাচীরে সোপানাকার, বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালকাকার এবং সপাড় কৃপাকৃতি প্রভৃতি অলংকরণ দেখা যায়।

কাজ : জল ও জলীয় রস সংবহন, জল সঞ্চয় ও উদ্ভিদকে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করা।

B. ট্র্যাকিয়া :

সংজ্ঞা : প্রান্তপ্রাচীরবিহীন, নলাকার, মৃত জাইলেম কোশগুলিকে ট্র্যাকিয়া বা বাহিকা বলে।

অবস্থান : সকল গুপ্তবীজী ও নির্দিষ্ট কতকগুলি ব্যস্তবীজী উদ্ভিদে, যেমন- নিটাম,ইত্যাদি এবং কয়েকটি ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদে, যেমন- সেলজিন, টেরিস ইত্যাদিতে ট্র্যাকিয়া উপস্থিত।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. ট্র্যাকিয়ার কোশগুলি দেখতে লম্বা নলের মতো।
ii. নলাকার কোশগুলির প্রান্তপ্রাচীর ছিদ্রযুক্ত হয়, একে ছিদ্রপাত বলে। ছিদ্রপাত একাধিক বা একটি বড়ো গোলাকার ছিদ্রযুক্ত হয়।
iii. প্রথম অবস্থায় কোশগুলিতে প্রান্তপ্রাচীর অর্থাৎ প্রস্থপ্রাচীর থাকলেও পরবর্তীকালে ওই প্রান্তপ্রাচীর বিনষ্ট হয়ে গিয়ে পরস্পর যুক্ত হয়ে লম্বা নল বা বাহিকা গঠন করে।
iv. কোশপ্রাচীর লিগনিনযুক্ত হওয়ায় খুব স্থূল।
v. কোশপ্রাচীরে কূপ বর্তমান।
vi. প্রোটোপ্লাজম না থাকায় কোশগুলি মৃত।
vii. কোশপ্রাচীরে ট্র্যাকিডের মতো নানারকম অলংকরণ (যেমন-বলয়াকার, সর্পিলাকার, সোপানাকার, জালিকাকার ও কৃপাকৃতি) দেখা যায়।

কাজ : জল ও খনিজ লবণ সংবহন করা ও দৃঢ়তা প্রদান করা।

C. জাইলেম প্যারেনকাইমা :

সংজ্ঞা : জাইলেম কলার অন্তর্গত পাতলা প্রাচীরযুক্ত, সজীব প্যারেনকাইমা কোশগুলিকে জাইলেম প্যারেনকাইমা বলে।

অবস্থান : কয়েকপ্রকার ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ ছাড়া সমস্ত উন্নত উদ্ভিদে জাইলেম প্যারেনকাইমা বর্তমান।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. কোশগুলি দেখতে লম্বাটে।
ii. প্রোটোপ্লাজম থাকায় কোশগুলি সজীব।
iii. কোশপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত ও পাতলা।

কাজ : জল ও খনিজ লবণ সংবহন করা এবং খাদ্য বস্তু ও নানান বর্জ্য পদার্থ সঞ্চয় করা।

D. জাইলেম তন্তু বা কাষ্ঠল তন্তু :

সংজ্ঞা : জাইলেম কলায় অবস্থিত স্থূল প্রাচীরবিশিষ্ট, লম্বাটে, মৃত স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুকেকে জাইলেম তন্তু বা কাষ্ঠল তত্ত্ব বলে।

অবস্থান : অধিকাংশ কাষ্ঠল দ্বিবীজপত্রী (গুপ্তবীজী) উদ্ভিদের নালিকা বান্ডিলে অবস্থিত।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. জাইলেম তন্তুগুলি দেখতে লম্বা ও ছুঁচোলো।
ii. প্রোটোপ্লাজম না থাকায় কোশগুলি মৃত।
iii. কোশপ্রাচীর লিগনিনযুক্ত হওয়ায় স্থূল।
iv. কোশপ্রাচীরে কৃপ বর্তমান।

জাইলেম তত্ত্ব দু-প্রকারের হয়, যেমন- লিব্রিফর্ম তন্তু, ও ট্র্যাকিড তন্তু।

কাজ : উদ্ভিদ অঙ্গের দৃঢ়তা প্রদান করা জাইলেম তন্তুর প্রধান কাজ।

আরও পড়ুন :

কোলেনকাইমা কাকে বলে এবং অবস্থান, গঠন ও কাজ ?