সংবহন কলা কাকে বলে ? সংবহন কলার অবস্থান, উৎপত্তি, গঠন ও কাজ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

সংবহন কলা কাকে বলে – What is Vascular Tissue : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকের এই পর্বটিতে তোমাদের জন‍্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সংবহন কলা কাকে বলে ? সংবহন কলার অবস্থান, উৎপত্তি, গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করলাম। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সংবহন কলা কাকে বলে কাকে বলে।

সংবহন কলা কাকে বলে ? সংবহন কলার অবস্থান, উৎপত্তি, গঠন ও কাজ

সংবহন কলা কাকে বলে :

জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামক জটিল কলার সমন্বয়ে গঠিত যে কলাতন্ত্র উদ্ভিদদেহে জল, জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ এবং খাদ্যরস সংবহনে সহায়তা করে, তাকে সংবহন কলাতন্ত্র বলে।

অবস্থান : কাণ্ড ও মূলে সংবহন কলাতন্ত্র বহিঃস্তর ও মজ্জার মধ্যবর্তী স্থানে এবং পাতায় ঊর্ধ্ব ও নিম্ন ত্বকের মাঝে মেসোফিল কলায় অবস্থান করে।

উৎপত্তি : অগ্রস্থ ভাজক কলার প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে এর উৎপত্তি ঘটে।

সংবহন কলার গঠন :

উদ্ভিদের সংবহন কলাতন্ত্র প্রধানত জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা দিয়ে গঠিত। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে কখনো-কখনো ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক কলা থাকে। কাণ্ডের নালিকা বান্ডিল ক্যাম্বিয়ামযুক্ত অথবা ক্যাম্বিয়ামবিহীন হয়। কিন্তু মূল ও পাতার নালিকা বান্ডিল কেবল জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা দিয়ে গঠিত ; ক্যাম্বিয়াম থাকে না। নালিকা বান্ডিলে ক্যাম্বিয়াম থাকলে নালিকা বান্ডিলকে মুক্ত বলে এবং ক্যাম্বিয়াম না থাকলে তাকে বদ্ধ বলে। নালিকা বান্ডিলের অন্তর্গত ছোটো গহ্বরবিশিষ্ট জাইলেমকে প্রোটোজাইলেম এবং বড়ো গহ্বরযুক্ত জাইলেমকে মেটাজাইলেম বলে। মূলের ক্ষেত্রে প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে ও মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অবস্থান করে ; এই ধরনের জাইলেমকে এক্সার্ক বলে।

আবার কাণ্ডে প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে ও মেটাজাইলেম পরিধির দিকে অবস্থান করে; এই ধরনের জাইলেমকে এন্ডার্ক বলে। ফার্ন ও সাইকাড বিভাগযুক্ত উদ্ভিদের পাতায় প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং তার উপরে ও নীচে মেটাজাইলেম দ্বারা পরিবৃত থাকে ; এই ধরনের জাইলেমকে মেসার্ক বলে। টেরিডোফাইটাতে কেন্দ্রে প্রোটোজাইলেম এবং তাকে চারদিকে পরিবেষ্টিন করে মেটাজাইলেম থাকে ; এইরূপ জাইলেমকে সেন্ট্রাক বলে।

● নালিকা বান্ডিল :

সংজ্ঞা : জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা দিয়ে গঠিত উদ্ভিদের সংবহনে অংশগ্রহণকারী কলাগুচ্ছকে নালিকা বান্ডিল বলে।

নালিকা বান্ডিলের প্রকারভেদ : নালিকা বান্ডিলে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের অবস্থান অনুসারে নালিকা বান্ডিলকে নিম্নলিখিত রূপে ভাগ করা হয়েছে।

1.সংযুক্ত নালিকা বান্ডিল :

জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা যখন একই ব্যাসার্ধের ওপর অবস্থিত থেকে পরিবহণ কলাগুচ্ছ গঠন করে, তখন তাকে সংযুক্ত নালিকা বান্ডিল বলে। এই নালিকা বান্ডিল নিম্নলিখিত তিন প্রকারের হয় যথা-

a. সমপার্শ্বীয় : যখন জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা পাশাপাশি সংযুক্তভাবে একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করে ; ফ্লোয়েম বাইরের দিকে এবং জাইলেম ভিতরের দিকে বিন্যস্ত থাকে, তখন তাকে সমপার্শ্বীয় সংযুক্ত নালিকা বান্ডিল বলে। এটি নিম্নলিখিত দু-প্রকারের হয় যথা-

i. মুক্ত সমপার্শ্বীয় : সমপার্শ্বীয় নালিকা বান্ডিলে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মধ্যে যখন ক্যাম্বিয়াম নামক পার্শ্বীয় ভাজক কলা উপস্থিত থাকে, তখন তাকে মুক্ত সমপার্শ্বীয় নালিকা বান্ডিল বলে।

উদাহরণ : সকল প্রকার ব্যক্তবীজী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ড (সূর্যমুখী, রক্তদ্রোণ প্রভৃতি)।

ii. বন্ধ সমপার্শ্বীয় : সমপার্শ্বীয় নালিকা বান্ডিলে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মধ্যে যখন ক্যাম্বিয়াম অনুপস্থিত থাকে, তখন তাকে বদ্ধ সমপার্শ্বীয় নালিকা বান্ডিল বলে।

উদাহরণ : সকল প্রকার একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ড (ভুট্টা, কচু ইত্যাদি)।

b. সমদ্বিপার্শ্বীয় নালিকা বান্ডিল : যখন সংযুক্ত নালিকা বান্ডিলে একই ব্যাসার্ধে মাঝখানে জাইলেম ও তার দু-পাশে (বাইরের ও ভিতরের দিকে) ক্যাম্বিয়াম ও ফ্লোয়েম থাকে, তখন তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় সংযুক্ত নালিকা বান্ডিল বলে। সুতরাং সমদ্বিপার্শ্বীয় বান্ডিলে কলাগুলির অনুক্রম হল—বহিঃফ্লোয়েম, বহিঃক্যাম্বিয়াম, জাইলেম, অন্তঃক্যাম্বিয়াম এবং অন্তঃফ্লোয়েম। এই প্রকার নালিকা বান্ডিল সবদা মুক্ত হয়।

উদাহরণ : কিউকারবিটেসি গোত্রভুক্ত দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ড (কুমড়ো)।

c. কেন্দ্রীয় নালিকা বান্ডিল : এই প্রকার পরিবহণ কলায় জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধের ওপর একটি অপরটিকে বেষ্টন করে অবস্থান করে। জাইলেম ও ফ্লোয়েমের অবস্থান অনুসারে এটি দু-প্রকার যথা-

i. হ্যাড্রোসেন্ট্রিক : এই প্রকার কেন্দ্রীয় নালিকা বান্ডিলে জাইলেম কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং তাকে চক্রাকারে বেষ্টন করে থাকে ফ্লোয়েম।

উদাহরণ : ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের (Lycopodium sp., Selaginella sp. প্রভৃতি) কাণ্ড।

ii. লেপ্টোসেন্ট্রিক : এই প্রকার কেন্দ্রীয় নালিকা বান্ডিলে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং তাকে সম্পূর্ণ বেষ্টন করে জাইলেম থাকে।

উদাহরণ : ড্রাসিনা, উক্কা প্রভৃতি একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ড।

2.অরীয় নালিকা বান্ডিল :

যখন জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলাগুচ্ছ পৃথকভাবে এবং পর্যায়ক্রমে অক্ষীয় ব্যাসার্ধে বিন্যস্ত থাকে, তখন তাকে অরীয় নালিকা বান্ডিল বলে। এক্ষেত্রে জাইলেম ফ্লোয়েম কলাগুচ্ছ যোজক কলা দ্বারা পৃথক থাকে। অরীয় নালিকা বান্ডিল উদ্ভিদের মূলে দেখা যায়।

সংবহন কলাতন্ত্রের কাজ :

i. সংবহন কলাতন্ত্রের প্রধান কাজ হল বিভিন্ন পদার্থের সংবহন করা। সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত জাইলেম মূলরোম দ্বারা শোষিত জল ও খনিজ লবণকে পাতায় প্রেরণ করে এবং ফ্লোয়েম পাতায় উৎপন্ন খাদ্যরসকে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে প্রেরণ করে।

ii. উদ্ভিদকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে।

আরও পড়ুন :

জাইলেম কাকে বলে এবং জাইলেমের উৎপত্তি ও উপাদান ?

ফ্লোয়েম কাকে বলে এবং ফ্লোয়েমের উৎপত্তি, উপাদান, প্রকারভেদ ও কাজ ? 

1 thought on “সংবহন কলা কাকে বলে ? সংবহন কলার অবস্থান, উৎপত্তি, গঠন ও কাজ”

Leave a Comment