পাখি কাকে বলে ? What is the Bird | পাখির বৈশিষ্ট্য

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

পাখি কাকে বলে ? What is the Bird | পাখির বৈশিষ্ট্য

পাখি কাকে বলে – What is the Bird : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকের এই পর্বটিতে আলোচনা করলাম পাখি কাকে বলে এবং পাখির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।

পাখি কাকে বলে :

যেসব মেরুদন্ডী প্রাণীদের দেহ পালক দ্বারা আবৃত, চোয়াল চঞ্চুতে রূপান্তরিত এবং অগ্ৰপদ ডানায় রূপান্তরিত, তাদের অ্যাভিস বা পাখি বলে।

পাখির বৈশিষ্ট্য :

পাখির বৈশিষ্ট্য গুলি হলো

১. দেহ মাকু আকৃতিবিশিষ্ট। দেহ চারটি অংশে বিভক্ত, যথা—মাথা, গ্রীবা, দেহকাণ্ড ও লেজ (খুব ক্ষুদ্র)।

২. অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে। পশ্চাদপদ এপিডারমাল আঁশ দ্বারা আবৃত এবং পশ্চাদ্‌পদে চারটি নখরযুক্ত আঙুল আছে।

৩. অন্তঃকঙ্কাল হালকা এবং নিউম্যাটিক অর্থাৎ স্পঞ্জি বা বাতাসপূর্ণ।

৪. পেক্টোরাল পেশি খুব উন্নত ও শক্তিশালী।

৫. স্টারনাম কিল অস্থিতে রূপান্তরিত ।

৬. চোয়াল চঞ্চুতে রূপান্তরিত। চোয়ালে দাঁত থাকে না।

৭. গ্রাসনালি গ্রুপে রূপান্তরিত হয়েছে। গ্রুপের মধ্যে অবস্থিত গ্রন্থি থেকে থকথকে দুধের মতো পদার্থ নির্গত হয়, একে ক্রপ মিল্ক বলে। যা বাচ্চাদের খাওয়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।

৮. পৌষ্টিকনালিতে পেষণ যন্ত্র গিজার্ড উপস্থিত থাকে। পৌষ্টিকনালি অবসারণী ছিদ্র দিয়ে উন্মুক্ত।

৯. শ্বাসঅঙ্গ ফুসফুস। ফুসফুসে অতিরিক্ত বায়ুথলি বিদ্যমান।

১০. ট্রাকিয়া ও ব্রংকাসের সংযোগস্থলে শব্দ সৃষ্টিকারী অঙ্গ সিরিংক্স
বিদ্যমান। ল্যারিংক্সে ভোকাল কর্ড থাকে না।

১১. হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠযুক্ত-দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়। লোহিত রক্তকণিকা নিউক্লিয়াসযুক্ত।

১২. দেহ পালক দ্বারা আচ্ছাদিত। লেজের গোড়ায় তৈলগ্রন্থি অবস্থিত।

১৩. উষ্ণ শোণিতবিশিষ্ট প্রাণী অর্থাৎ হোমিওথার্মাল ।

১৪. এদের পিত্তথলি ও মূত্রাশয় থাকে না। স্ত্রী পাখিদের ডান ডিম্বাশয় ও ডান ডিম্বনালি (ব্যতিক্রম-উটপাখি, হাঁস)।

১৫. এরা ডিম পাড়ে অর্থাৎ ওভিপেরাস। ভ্রূণ ভ্রূণপর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

পাখির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য :

১. দেহাবরণ : দেহ পালক দ্বারা আবৃত।

২. ডানা : অগ্রপদ দুটি ডানায় রূপান্তরিত।

৩. চঞ্চু : ওষ্ঠদ্বয়ের অগ্রভাগ প্রলম্বিত চঞ্চুতে রূপান্তরিত, চোয়ালদ্বয় দাঁতবিহীন।

৪. বায়ুথলি : উড্ডয়ন পক্ষীদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের সঙ্গে বায়ুথলি (৯টি) যুক্ত থাকে।

৫. হৃৎপিণ্ড : হৃৎপিণ্ড চারপ্রকোষ্ঠবিশিষ্ট- দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয় নিয়ে গঠিত।

বিশেষ তথ্য :

পাখিদের উদ্ভব ঘটেছে 150 মিলিয়ন বছর আগে জুরাসিক পিরিয়ডে। অরনিথিশ্চিয়ান ডাইনোসর, টেরোসর থেকে পাখির উৎপত্তি ঘটেছে বলে মনে করা হয়। তবে আধুনিক পাখিরা ক্রিটেসিয়াস পিরিয়ডে উদ্ভূত। প্রাণীবিদ হাক্সলে সরীসৃপ থেকে পাখিদের উদ্ভব হয়েছে বলে, ‘birds are glorified reptile’ বলে অভিহিত করেছেন। শ্রেণি অ্যাভিসের মধ্যে প্রায় 9000 প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাণীবিদ্যার যে শাখায় পাখি নিয়ে আলোচনা হয় তাকে অরনিথোলজি আখ্যা দেওয়া হয়। প্রায় সমস্ত রকম পাখি ডিম থেকে বাচ্চা তোলার জন্য বাসা বানায়।

যে শাস্ত্র পাখির বাসা সম্বন্ধে আলোচনা করে তার নাম নিডোলজি। অনেক পাখির মধ্যে পরিযান লক্ষ করা যায়। পাখিদের পরিযান নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে বলে ফেনোলজি। পাখিরা যে সরীসৃপ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে তার অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর্কিওপটেরিক্স নামক একটি প্রাণীর জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে যা দেখতে পাখির মতো, দুটি ডানা ও পালকযুক্ত কিন্তু এদের সরীসৃপদের মতো চোয়াল ও দাঁত আছে। এই কারণে আর্কিওপটেরিক্সকে ধরা হয় সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী অবস্থা। এই অশ্মীভূত প্রাণীটিকে একটি মিসিং লিংক হিসেবে গণ্য করা হয়।

মুখ্যত পাখিদের উড্ডয়নের জন্য অভিযোজন ঘটেছে। এদের দেহ বেশ হালকা, অস্থিগুলি বায়ুপূর্ণ, সারা দেহ পালকে ঢাকা, সামনের পা উড্ডয়নের জন্য ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে, সুঠাম ও শক্তিশালী উড্ডয়ন পেশিও গঠিত হয়েছে। তবে কোনো কোনো পাখি মোটেই উড়তে পারে না। এদের দৌড়পাখি বা র‍্যাটিটি বা প্যালিওগ্যানথি  বলে। উড্ডয়নে পটু পাখিদের বলে ক্যারিনেটি। কিছু কিছু পাখি আবার জলে বসবাসের জন্য অভিযোজিত হয়েছে। যেমন-পেঙ্গুইন, এরা ডানার সাহায্যে জলে ভালো সাঁতার কাটতে পারে। অনেক জলবাসী পাখির সাঁতারে সহায়ক লিপ্তপদ গঠিত হয়। যেমন হাঁসের লিপ্তপদ দেখা যায়।

কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা শুধুমাত্র পাখিদের মধ্যেই পাওয়া যায়। এমন কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল গায়ের পালক, হৃৎপিণ্ডে ডান অ্যাওটিক আর্চের উপস্থিতি, অগ্রপদের ডানায় রূপান্তর, চোয়ালে চঞ্চুর উপস্থিতি ও দাঁতের অনুপস্থিতি, বায়ুপূর্ণ হাড়, দুটি ক্লেভিকলের সংযোগে ফারকুলা বা মেরিথট bone-এর সৃষ্টি ইত্যাদি। এই কারণে পাখি অন্যান্য প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ।

আরও পড়ুন :

উভচর প্রাণী কাকে বলে এবং বৈশিষ্ট্য ?

সরীসৃপ প্রাণী কাকে বলে এবং বৈশিষ্ট্য ?

Leave a Comment