RNA কাকে বলে ? RNA এর প্রকারভেদ ও গঠন | What is RNA

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

আরএনএ কাকে বলে : সুপ্রিয় পাঠকবন্ধুরা আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা RNA  কাকে বলে এবং RNA এর গঠন ও প্রকারভেদ সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।চলুন দেখে নেওয়া যাক RNA কাকে বলে ।

RNA কাকে বলে

RNA – আরএনএ :

DNA এর মতো RNA-ও এক রকম নিউক্লিক অ্যাসিড। কোশের মধ্যে নিউক্লিয় ক্রোমাটিনের অংশ হিসেবে DNA-এর অবস্থান, সেদিক দিয়ে RNA মুখ্যত সাইটোপ্লাজমের অংশ হিসাবে থাকে। আকার আকৃতিতে DNA এর তুলনায় RNA অনেক ছোটো। খুব ছোটো আকারের RNA-তে 100 টিরও কম নিউক্লিওটাইড থাকে। বেশিরভাগ জীবে DNA থেকে RNA তৈরি হয়ে জিনবস্তুর প্রকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। জিনবস্তু হিসাবে পরিচিত DNA থেকে RNA তৈরি হয় বলে কোশের DNA-এর গঠন ভঙ্গির সাথে এদের অনেক মিল থাকে। RNA তার বেস সজ্জার মধ্য দিয়ে সংকেত হিসাবে DNA-এর তথ্য বয়ে আনে ও প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে জিনের প্রকাশ ঘটাতে সাহায্য করে বলে একে জিন বস্তুর সংবাদ প্রবাহের মাধ্যম হিসাবে ধরা হয়। জীবদেহে DNA থেকে RNA-তে ও RNA থেকে প্রোটিনের মধ্যে তথ্য সঞ্চালনের কৌশলকে সেন্ট্রাল ডগমা বলা হয়।

এতে দেখানো হয়েছে যে DNA-এর মধ্যে সঞ্চিত সংকেত যেমন RNA-এর মধ্যে প্রবাহিত হতে পারে তেমনি RNA রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পদ্ধতিতে তা আবার DNA-তে ফিরিয়ে দিতে পারে। একটি DNA আবার রেপ্লিকেশনের মাধ্যমে তার প্রতিলিপি গঠন করে ও তার মধ্যে সঞ্চিত সমস্ত সাংকেতিক তথ্য হুবহু সঞ্চারিত করতে পারে। তাই এটিও সেন্ট্রাল ডগমার অন্তর্ভুক্ত হয়। সেন্ট্রাল ডগমার শেষ ধাপে আছে RNA থেকে প্রোটিনে সংবাদ প্রবাহ। এটি কেবল একমুখী সংবাদ প্রবাহের কৌশল ও এটি ট্রান্সলেশনের মাধ্যমে রূপায়িত হয়।

RNA কাকে বলে :

RNA হল নাইট্রোজেন বেস, রাইবোজ শর্করা ও ফসফোরিক অ্যাসিডের এমন যৌগ যাতে উল্লেখিত তিনটি উপাদানের সংযোগে গঠিত রাইবোনিউক্লিওটাইডের সরল শৃঙ্খলিত প্রাথমিক একতন্ত্রী গঠন বর্তমান, যা DNA থেকে ট্রান্সক্রিপশন পদ্ধতিতে উৎপন্ন হয়ে সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে।

RNA এর প্রকারভেদ :

RNA নিজে জিনবস্তু DNA থেকে উৎপন্ন হলেও এরা জিনবস্তু রূপে কাজ করে না। তবে কোনো কোনো RNA ভাইরাসে এটি জিনবস্তু রূপে কাজ করে (যেমন TMV, HIV)। কোশে বিভিন্ন ধরনের RNA থাকে। তাদের মধ্যে প্রধান হল মেসেঞ্জার RNA বা mRNA, ট্রান্সফার RNA বা tRNA ও রাইবোজোমাল RNA বা rRNA। জিনবস্তু হিসাবে কাজ করে না বলে এদের নন্-জেনেটিক RNA বলে। যখন RNA জিনবস্তু হিসাবে কাজ করে তখন তাকে জেনেটিক RNA বলে।

RNA এর রাসায়নিক গঠন :

1. প্রতিটি RNA অণু অসংখ্য রাইবোনিউক্লিওটাইডের সমন্বয়ে গঠিত।

2. রাইবোনিউক্লিওটাইড অণু আবার রাইবোজ শর্করা, ফসফোরিক অ্যাসিড এবং নাইট্রোজেন বা বেস দিয়ে গঠিত।

3. RNA অণুতে পিউরিন ও পিরিমিডিন দুই ধরনের বেস পাওয়া যায়। অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন এই দুটি হল পিউরিন অণু এবং ইউরাসিল ও সাইটোসিন এই যৌগ দুটি পিরিমিডিন অণু।

4. রাইবোজ শর্করার সঙ্গে যে-কোনো একটি নাইট্রোজন মূলক যুক্ত হয়ে রাইবোনিউক্লিওসাইড গঠন করে এবং শর্করার সঙ্গে ফসফেট মূলকটি এস্টার বন্ধনীর সাহায্যে যুক্ত হয়ে একত্রে রাইবোনিউক্লিওটাইড উৎপন্ন করে।

5. অসংখ্য নিউক্লিওটাইড অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে একতন্ত্রী পলিনিউক্লিওটাইড গঠন করে।

6. একটি মাত্র নিউক্লিওটাইড তত্ত্ব দিয়ে গঠিত বলে RNA কখনই দ্বিতন্ত্রী ও সর্পিলাকার হয় না তবে RNA সূত্রটি অনেক সময় কুন্ডলীকৃত হয়ে বা ভাঁজ সৃষ্টি করার ফলে দ্বিতত্ত্বর ন্যায় আকৃতি গঠন করে। এই অঞ্চলগুলিতে সাইটোসিন গুয়ানিনের সঙ্গে এবং অ্যাডেনিন ইউরাসিলের সঙ্গে হাইড্রোজেন বন্ধনীর সাহায্যে যুক্ত হতে পারে।

গঠনগতভাবে প্রতিটি RNA অণু একতন্ত্রী হওয়ায় এদের দুটি প্রান্তদেশ থাকে যাদের 5′ ও 3′ দ্বারা চিহ্নিত করা যায়। এর সারা অঞ্চল জুড়ে অনেক রাইবোনিউক্লিওটাইড রৈখিক সজ্জায় জোড়া লেগে RNA গঠন করে। পাশাপাশি দুটি নিউক্লিওটাইড ফসফোডাইএস্টার বন্ধনী (যেমন, DNA-তে দেখা যায়) দিয়ে জোড়া লাগে। সুতরাং RNA শৃঙ্খলের 3′ প্রান্তে থাকে -OH ও 5′ প্রান্তে থাকে ফসফেট। কোনো কোনো RNA তে মাঝে মাঝে পরিপূরক বেস থাকায় RNA-এর কোনো কোনো অংশে গৌণভাবে দ্বিতন্ত্রী গঠন তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন প্রকার RNA আকার আকৃতিতে আলাদা হওয়ায় এদের একটি সাধারণ গঠন প্রকৃতি হওয়া মুশকিল।

A. ম্যাসেঞ্জার RNA কাকে বলে :

যে বিশেষ RNA, DNA-এর মধ্যে নিহিত জেনেটিক বার্তাকে সাইটোপ্লাজমে বহন করে নিয়ে আসে ও রাইবোজোমের সাহায্যে প্রোটিন সংশ্লেষের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে, তাকে ম্যাসেঞ্জার RNA বা m-RNA বলে।

ম‍্যাসেঞ্জার RNA এর বৈশিষ্ট্য :

i. DNA-এর যে তন্তু থেকে m-RNA সৃষ্টি হয় সেই তন্তুতে যে বেসগুলি থাকে m-RNA-তে তার পরিপূরক বেসগুলি লক্ষ করা যায়, তবে অ্যাডেনিনের জায়গায় m-RNA-তে থাইমিনের বদলে ইউরাসিল সংযুক্ত হয়। একটি DNA তন্তুর বেসের ধারাবাহিকতা ATCGCACCG হলে এই অঞ্চল থেকে যে m-RNA-এর সৃষ্টি হবে তার বিন্যাস UAGCGUGGC হবে।

ii. m-RNA সামান্য কুন্ডলীকৃত হলেও কুন্ডলীর মধ্যে কখনই পরিপূরক বেসগুলি বন্ধনী সৃষ্টি করে না।

iii. ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াসে উৎপন্ন m-RNA সাইটোপ্লাজমে এসে প্রোটিন সংশ্লেষে সহায়তা করে। প্রোক্যারিওটিক কোশের m-RNA অণুও রাইবোজোমের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণ করে।

iv. m-RNA অণুর তিনটি করে বেস (যেমন—GGC) একটি করে কোডন সৃষ্টি করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষের সময় প্রতিটি কোডন একটি করে অ্যামাইনো অ্যাসিডের সংকেত বহন করে। একটি প্রোটিনে পরপর কোন্ কোন্ অ্যামাইনো অ্যাসিড সংযুক্ত হবে তা কোডনগুলির সজ্জারীতির ওপর নির্ভর করে।

v. m-RNA-এর পরিমাণ কোশস্থ মোট RNA-এর মাত্র 3-5% হয়।

vi. একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক m-RNA একটি মাত্র প্রোটিন সৃষ্টি করে এবং এই ধরনের m-RNA-কে মনোসিস্ট্রনিক m-RNA বলে। অপরদিকে, একটি প্রোক্যারিওটিক m-RNA থেকে একাধিক প্রোটিন উৎপন্ন হয় বলে একে পলিসিস্ট্রনিক m-RNA বলে।

ম‍্যাসেঞ্জার RNA বা m-RNA-এর কাজ :

i. m-RNA কোশে প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে। m-RNA রাইবোজোমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই কাজ করে।

ii. m-RNA অণু কোডনগুলির মাধ্যমে DNA অণু থেকে কি ধরনের প্রোটিন সংশ্লিষ্ট হবে সেই বার্তা বহন করে আনে। তাই বিজ্ঞানী জ্যাকব ও মনোড এদের বার্তাবহ বা ম্যাসেঞ্জার RNA নামে অভিহিত করেন।

B. রাইবোজোমাল RNA কাকে বলে :

যে বিশেষ RNA রাইবোজোমের প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাইবোজোম অঙ্গাণুটি গঠন করে তাকে রাইবোজোমাল RNA বা r-RNA বলে।

রাইবোজোমাল RNA এর বৈশিষ্ট্য :

i. কোশে উপস্থিত মোট RNA-এর 80% হল r-RNA।

ii. সমস্ত RNA-এর মধ্যে r-RNA সবচেয়ে বেশি স্থায়ী।

iii. প্রোক্যারিওটিক রাইবোজোমের 30S অধঃএককে 16S r-RNA এবং 50S অধঃএককে 235 এবং 5S r-RNA থাকে। ইউক্যারিওটিক রাইবোজোমের 40S অধঃএককে 18S r-RNA এবং 60S অধঃ-এককটিতে 5S, 5.8S এবং 28S r-RNA থাকে।

iv. ওজনের ভিত্তিতে রাইবোজোমের 40-60% হল r-RNAএবং বাকি অংশটি প্রোটিন দিয়ে গঠিত।

রাইবোজোমাল RNA এর কাজ :

i. প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে রাইবোজোম গঠন করে।

ii. রাইবোজোমকে m-RNA-এর সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করে।

C. ট্রান্সফার RNA কাকে বলে :

যে RNA অণু সাইটোপ্লাজমের অ্যামাইনো অ্যাসিডের ভাণ্ডার থেকে অ্যামাইনো অ্যাসিড স্থানান্তরিত করে রাইবোজোমে নিয়ে আসে, তাকে ট্রান্সফার RNA বা t-RNA বলে।

ট্রান্সফার RNA এর বৈশিষ্ট্য :

i. প্রধান তিন ধরনের RNA-এর মধ্যে t-RNA ক্ষুদ্রতম। এই অণুর আণবিক ওজন 23000-28000 ডালটন, দৈর্ঘ্য 250Å এবং প্রতিটি t-RNA-তে 73-93টি নিউক্লিওটাইড থাকে।

ii. . t-RNA-এর অধঃক্ষেপণ গুণাঙ্ক 4S ।

iii. t-RNA-এর নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল বিভিন্ন স্থানে ভাঁজযুক্ত হয়ে দ্বিমাত্রিক গঠন সৃষ্টি করে।

ট্রান্সফার RNA এর কাজ :

i. t-RNA-এর প্রধান কাজ হল সাইটোপ্লাজমের অ্যামাইনো অ্যাসিড ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিডকে নিয়ে রাইবোজোমে পরিবহণ করা। ভিন্ন ভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড পৃথক পৃথক t-RNA-এর দ্বারা বাহিত হয়।

ii. t-RNA-এর 3′ প্রান্তে অ্যামাইনো অ্যাসিডযুক্ত হয়। t-RNA অণুর অ্যান্টিকোডন অঞ্চলের তিনটি বেস বিভিন্ন বিন্যাসে সজ্জিত থাকে। প্রোটিন সংশ্লেষের সময় রাইবোজোমে অবস্থিত m-RNA-এর কোডনের বেস তিনটির ঠিক বিপরীত বা পরিপূরক বেস যে t-RNA-এর অ্যান্টিকোডনে থাকে সেটিই কোডনের সাথে যুক্ত হয় এবং সেই স্থানে t-RNA অণুটি সুনির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিডকে প্রদান করে।

আরও পড়ুন : 

DNA কাকে বলে ? DNA এর কাজ, গঠন, প্রকারভেদ, আকার ও তাৎপর্য ?

1 thought on “RNA কাকে বলে ? RNA এর প্রকারভেদ ও গঠন | What is RNA”

Leave a Comment