ফ্লোয়েম কাকে বলে ? What is Phloem | ফ্লোয়েমের উৎপত্তি, উপাদান, প্রকারভেদ ও কাজ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

ফ্লোয়েম কাকে বলে – What is Phloem : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকের এই পর্বটিতে তোমাদের সাথে শেয়ার করলাম ফ্লোয়েম কাকে বলে এবং ফ্লোয়েমের উৎপত্তি, উপাদান, প্রকারভেদ ও কাজ সম্পর্কে।

ফ্লোয়েম কাকে বলে ? What is Phloem | ফ্লোয়েমের উৎপত্তি, উপাদান, প্রকারভেদ ও কাজ

◆ফ্লোয়েম কাকে বলে :

উদ্ভিদের যে জটিল স্থায়ী কলার মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয়, তাকে ফ্লোয়েম কলা বলে।

◆ফ্লোয়েমের উৎপত্তি :

প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে প্রাথমিক ফ্লোয়েম এবং ফ্যাসিকিউলার ক্যাম্বিয়াম থেকে গৌণ ফ্লোয়েম কলা সৃষ্টি হয়।

◆ফ্লোয়েমের উপাদান :

ফ্লোয়েম চার প্রকার কোশ দিয়ে তৈরি। ফ্লোয়েমের অন্তর্গত কোশগুলি হল- A.সিভ উপাদান (সিভকোশ, সিভনল), B. সঙ্গীকোশ, C. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং D. ফ্লোয়েম তন্তু।

A. সিভ উপাদান :

i. সিভকোশ :

সংজ্ঞা : ফ্লোয়েম কলায় সজীব, দীর্ঘ, সিভপ্লেটবিহীন কোশগুলিকে সিভকোশ বলে।

অবস্থান : ফার্ন ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েমে থাকে।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. সিভকোশ দীর্ঘ, ক্রমসূক্ষ্ম প্রাপ্তযুক্ত, সেলুলোজ নির্মিত পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট।
ii. কোশের কেন্দ্রস্থ বড়ো গহ্বরের চারদিকে পাতলা স্তরের প্রোটোপ্লাজম থাকে।
iii. কোশপ্রাচীরে কতগুলি ছিদ্র একত্রিত হয়ে সিভ ক্ষেত্র গঠন করে, ছিদ্রগুলিকে সিভ ছিদ্র বলে।
iv. কোনো সিভ প্লেট গঠিত হয় না।

কাজ : খাদ্য পরিবহণ ও সঞ্চয় এর প্রধান কাজ।

ii. সিভনল :

সংজ্ঞা : ছিদ্রযুক্ত প্রান্তপ্রাচীরবিশিষ্ট, নিউক্লিয়াসবিহীন নলাকার সজীব ফ্লোয়েম কলাকে সিভনল বলে।

অবস্থান : গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েমে বর্তমান।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. সিভনল কোশগুলি দেখতে লম্বা ও নলাকার।
ii. কোশগুলিতে সাইটোপ্লাজম থাকে, কিছু নিউক্লিয়াস থাকে না।
iii. কোশগুলি উল্লম্বভাবে পরপর একটি সারিতে সজ্জিত থাকে।
iv. প্রান্তপ্রাচীর চালুনির মতো ছিদ্রযুক্ত হয়ে সিডপ্লেট গঠন করে।
v. পরিণত কোশে বড়ো কোশ গহ্বর থাকে।
vi. কোশপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।
vii. সিভপ্লেটের মধ্য দিয়ে একটি কোশের সাইটোপ্লাজম রজ্জুর মতো অন্য কোশের সাইটোপ্লাজমের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
viii. শীতকালে ক্যালোস নামক এক- প্রকার বর্ণহীন, কেলাসিত উজ্জ্বল অদ্রবণীয় কার্বোহাইড্রেট জমা হয়ে সিভ ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায়, একে ক্যালাস বা ক্যালাস প্যাড বলে। বসন্তকালে এই ক্যালাস দ্রবীভূত হয়ে যায়।

কাজ : পাতায় উৎপন্ন জৈব খাদ্যরস পরিবহণ ও খাদ্য সঞ্চয় করা।

B. সঙ্গীকোশ :

সংজ্ঞা : সিভনলের সঙ্গে সংলগ্নভাবে অবস্থিত নিউক্লিয়াসযুক্ত সজীব কোশগুলিকে সঙ্গীকোশ বলে।

অবস্থান : গুপ্তবীজী উদ্ভিদে সঙ্গীকোশ বর্তমান।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. কোশগুলি দেখতে লেন্সের মতো।
ii. প্রতিটি সঙ্গীকোশে ঘন দানাদার সাইটোপ্লাজম, একটি বড়ো নিউক্লিয়াস থাকে।
iii. কোশগুলির মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গহ্বর থাকে।

কাজ : খাদ্যরস সংবহনে সাহায্য করে।

C. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা :

সংজ্ঞা : ফ্লোয়েমে অবস্থিত প্যারেনকাইমা কোশগুলিকে ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা বলে।

অবস্থান : দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের ফ্লোয়েম কলায় থাকে।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. কোশগুলি আকৃতিতে লম্বা ও সরু।
ii. কোশগুলি সজীব।
iii. কোশপ্রাচীর পাতলা।

কাজ : সংবহনে ও বিভিন্ন জৈব বস্তু সঞ্চয়ে সাহায্য করে

D. ফ্লোয়েম তন্তু বা বাস্ট তন্তু :

সংজ্ঞা : ফ্লোয়েমে অবস্থিত স্কেরেনকাইমা তন্তুগুলিকে ফ্লোয়েম তন্তু বা বাস্ট তন্তু বলে।

অবস্থান : গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েম কলায় অবস্থিত।

গঠন বৈশিষ্ট্য :

i. কোশগুলি লম্বা, সরু ও দু-প্রান্ত ছুঁচোলো।
ii. কোশগুলি মৃত।
iii. কোশপ্রাচীর লিগনিনযুক্ত হওয়ায় খুব স্থূল।
iv. কোশপ্রাচীরে কৃপ বর্তমান।

কাজ : দৃঢ়তা প্রদান করা ও কয়েক প্রকার খাদ্যবস্তুর পরিবহণ করা।

◆ফ্লোয়েমের প্রকারভেদ :

উৎপত্তি অনুসারে ফ্লোয়েম দু-প্রকার- 1. প্রাথমিক ফ্লোয়েম ও 2. গৌণ ফ্লোয়েম।

1. প্রাথমিক ফ্লোয়েম কাকে বলে :

অগ্রস্থ ভাজক কলার কেন্দ্রে অবস্থিত প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে উদ্ভূত প্রাথমিক উদ্ভিদদেহে বর্তমান ফ্লোয়েমকে প্রাথমিক ফ্লোয়েম বলে। প্রাথমিক ফ্লোয়েম আবার দুপ্রকার যথা-

a. প্রোটোফ্লোয়েম : নালিকা বান্ডিলের অন্তর্গত ছোটো গহ্বরবিশিষ্ট যে ফ্লোয়েম প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে প্রথম পর্যায়ে বিভেদিত হয় তাকে প্রোটোফ্লোয়েম বলে।

b. মেটাফ্লোয়েম : নালিকা বান্ডিলের অন্তর্গত বড়ো গহ্বরবিশিষ্ট যে ফ্লোয়েম প্রোটোফ্লোয়েমের পরবর্তীকালে প্রোক্যাম্বিয়ামের বিভাজন দ্বারা সৃষ্টি হয় তাকে মেটাফ্লোয়েম বলে।

2. গৌণ ফ্লোয়েম কাকে বলে :

প্রাথমিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার পর উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধিকালে নালিকা বান্ডিলের ফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট ফ্লোয়েমকে গৌণ ফ্লোয়েম বলে।

ফ্লোয়েমের কাজ : ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন খাদ্যরস উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে সংবাহিত হয়।

আরও পড়ুন :

জাইলেম কাকে বলে এবং জাইলেমর উৎপত্তি ও উপাদান ?

Leave a Comment