প্রেষণা কাকে বলে ? প্রেষণার বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণীবিভাগ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

প্রেষণা কাকে বলে ? প্রেষণার বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণীবিভাগ

প্রেষণা কাকে বলে-What is Motivation : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকে তোমাদের সাথে আলোচনা করব প্রেষণা কাকে বলে ? প্রেষণার শ্রেণীবিভাগ এবং প্রেষণার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে। চলো দেখে নেওয়া যাক আজকের বিস্তারিত আলোচনাটি।

প্রেষণা কাকে বলে :

প্রেষণা হল এক ধরনের মানসিক শক্তি যা আমাদের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য মূখি আচরণে সহায়তা করে। প্রেষণা শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Motivation ।এটির উৎপত্তি হয়েছে ল‍্যাটিন শব্দ Moveers থেকে যার অর্থ চলা। অর্থাৎ মনের অভ্যন্তরীণ যে চালিকাশক্তি আমাদের কর্মোদ‍্যম সৃষ্টি করে তাকে প্রেষণা বলে।

মনোবিদের মতে প্রেষণার সংজ্ঞা :

মনোবিদ সুইফট এর মতে, ব্যক্তির নানান প্রকার চাহিদা পরিতৃপ্তির জন্য, যে পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া তার আচরণধারাকে সর্বদা নিয়ন্ত্রণ করে, তা হল প্রেষণা।

মনোবিদ ক্রাইডার এর মতে, আকাঙ্ক্ষা, প্রয়োজন এবং আগ্রহ যা একটি প্রাণীকে সক্রিয় করে তোলে এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে পরিচালনা করে তাই হল প্রেষণা।

মনোবিদ উইনার এর মতে, প্রেষণা এমন একটি অবস্থা যা ব্যক্তিকে বিশেষ একটি ক্রিয়া সম্পাদনে উদ্বুদ্ধ করে, ক্রিয়া সম্পাদনাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমুখী করে এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিকে কর্মসম্পাদনে ব্যস্ত রাখাই হল প্রষণা।

সুতরাং মনোবিদগণের উপরোক্ত সংজ্ঞার ভিত্তিতে বলা যেতে পারে, প্রেষণা বা মোটিভেশন হল সেই আচরণ বা ক্রিয়া যা কোনো অভাববোধ এবং ওই অভাব দূর করার উদ্দেশ্যে তাড়না দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়।

প্রেষণার শ্রেণীবিভাগ :

প্রেষণাকে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করা হয় যথা- 1. জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় প্রেষণা 2. ব্যক্তিগত প্রেষণা এবং 3.  সামাজিক প্রেষণা । এগুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল‌।

1. জৈবিক প্রেষণা কাকে বলে :

ব্যক্তির জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় চাহিদাগুলি থেকে যে প্রেষণার সৃষ্টি হয়, তাকে জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় প্রেষণা বলে। ব্যক্তির জীবনধারণের জন্য এইসব প্রেষণার উন্মেষ ঘটে বলে এগুলিকে মুখ্য প্রেষণাও বলা হয়। ক্ষুধা , তৃস্না , যৌন প্রেষণা , মাতৃত্ব ইত্যাদি হল জৈবিক প্রেষণার উদাহরণ। এগুলি মূলত সহজাত প্রেষণা।

2. ব্যক্তিগত প্রেষণা কাকে বলে :

ব্যক্তির মানসিক চাহিদা বা আত্মসচেতনতার সঙ্গে যুক্ত প্রেষণাগুলিকে ব্যক্তিগত প্রেষণা বলা হয়। ব্যক্তির আত্মসচেতনতামূলক চাহিদার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল আত্মশ্রদ্ধার চাহিদা। মনোবিজ্ঞানী ম্যাসলোর মতানুসারে, এই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির মধ্যে আত্মশ্রদ্ধার প্রেষণার উন্মেষ ঘটে।

3. সামাজিক প্রেষণা কাকে বলে :

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। তার মধ্যে নিরাপত্তা, ভালোবাসা, খ্যাতির স্পৃহা প্রভৃতি সামাজিক চাহিদাগুলি বিরাজমান থাকে। সে ওই চাহিদাগুলির পরিতৃপ্তির মাধ্যমে সুস্থ সামাজিক জীবন যাপন করতে চায়। ওই সমস্ত সামাজিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে যে প্রেষণা সৃষ্টি হয়ে থাকে সামাজিক প্রেষণা  বলে।

পড়ুন : মনোযোগ কাকে বলে ? মনোযোগের শ্রেণীবিভাগ, বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতি ও শর্ত 

প্রেষণার বৈশিষ্ট্য :

প্রেষণার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য গুলি হল –

1. তাড়না : ব্যক্তির চাহিদা সরাসরি উদ্দেশ্যমুখী আচরণ সৃষ্টি করতে পারে না। ব্যক্তির অভাববোধ তার মধ্যে এক ধরনের মানসিক অবস্থা, অর্থাৎ তাড়নার সৃষ্টি করে। তাড়নাই পরবর্তী পর্যায়ে ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যমুখী আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। অর্থাৎ  প্রেষণার সৃষ্টি হয়।

2. বাধ‍্যতামূলক আচরণ : প্রেষণার একটি বাধ‍্যতামূলক ক্ষমতা থাকে। ওই ক্ষমতা মূলত ব‍্যক্তির চাহিদার প্রকৃতি এবং লক্ষ‍্যবস্তুর দ্বারা নির্ণিত হয়।

3. চাহিদার অভাব : প্রেষণা বিশেষভাবে একটি ব্যক্তিগত চাহিদা থেকে শুরু হয়। কোন সময় ব্যক্তি তার বিশেষ কোনো চারিদিকে প্রত্যক্ষণ করলে তার মধ্যে প্রেষণার উম্মেষ ঘটে।

4. লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ : প্রেষণার অন‍্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ। প্রেষিত আচরণের পরিণতি হিসেবে ব্যক্তি লক্ষ্যবস্তু অর্জনে সক্ষম হয়। লক্ষ্যবস্তু প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে কর্মতৎপরতা হ্রাস পায়।

5. ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বজায় : প্রেষণা ব্যক্তি জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষভাবে সহায়তা করে। দৈহিক চাহিদা, সামাজিক চাহিদা,ও  মানসিক চাহিদা পূরণ না হলে ব্যক্তিজীবনে যে ভারসাম্যের অভাব ঘটে তা পূরণ করতে সাহায্য করে।

6. প্রেষণার হ্রাস ও বৃদ্ধি : যে চাহিদা বা অভাববোধ থেকে প্রেষণার উন্মেষ ঘটে, সেই প্রেষণা পূর্ণ হওয়ার পর ব্যক্তির মধ্যে আর – একটি নতুন প্রেষণার জাগরণ ঘটে।

7. ব্যক্তি – আচরণের গতি নির্ণয় : প্রেষণা ব্যক্তি – আচরণের গতি নির্ণয় করে। অর্থাৎ প্রেষণা ব্যক্তির উদ্দেশ্যমুখী আচরণের পাশাপাশি তার কর্মতৎপরতাকে বাড়িয়ে তোলে বা কমিয়ে আননে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন : পরিণমন কাকে বলে ? পরিণমনের বৈশিষ্ট্য শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্ব

1 thought on “প্রেষণা কাকে বলে ? প্রেষণার বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণীবিভাগ”

Leave a Comment