পরিবর্তিত মূল কাকে বলে | Modification Of Root

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

পরিবর্তিত মূল কাকে বলে – Modification Of Root : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকের এই পর্বটিতে তোমাদের সাথে শেয়ার করলাম মূল এর একটি বিশেষ পাঠ পরিবর্তিত মূল কাকে বলে সম্পর্কে।

পরিবর্তিত মূল কাকে বলে | Modification Of Root

পরিবর্তিত মূল কাকে বলে :

বিশেষ কার্য সম্পন্ন করার জন্য বা প্রতিকূল পরিবেশে সহজ ও স্বাভাবিক জীবনধারণের জন্য মূল পরিবর্তিত হয়ে নানান আকৃতি ধারণ করে ; বিশেষভাবে পরিবর্তিত এই মূলকে রূপান্তরিত বা পরিবর্তিত মূল বলে। মূলের রূপান্তর স্থানিক বা অস্থানিক মূলে হতে পারে।

A. প্রধান মূলতন্ত্রের রূপান্তর :

সঞ্চয়ী মূল : খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য কতিপয় উদ্ভিদের প্রধান মূল পরিবর্তিত হয়ে স্ফীত ও রসাল হয়। এক্ষেত্রে শাখাপ্রশাখা মূলগুলি সরু সুতোর মতো হয় এবং কাণ্ডটি সংকুচিত হয়। আকৃতি অনুসারে সঞ্চয়ী মূল নিম্নলিখিত প্রকারের হয়।

i. মুলাকার বা ফিউসিফরম : স্ফীত প্রধান মূলটির মধ্যস্থল স্ফীত হয় এবং এর দু-প্রান্ত সরু হয়। উদাহরণ-মুলো

ii. শাঙ্কবাকার বা কনিক্যাল : এইপ্রকার প্রধান মূলের উপরিভাগ সর্বাপেক্ষা স্ফীত হয় এবং নীচের অংশ ক্রমশ সরু হয়ে শঙ্কুর আকার ধারণ করে। উদাহরণ-গাজর

iii. শালগমাকার বা ন্যাপিফরম : এক্ষেত্রে প্রধান মূলের উপরিভাগ স্ফীত হয়ে গোলাকার ধারণ করে এবং নিম্নভাগ হঠাৎ সরু হয়ে লেজের আকার ধারণ করে। উদাহরণ-শালগম, বিট, ইত্যাদি।

iv. কন্দাকৃতি বা টিউবারাস : এক্ষেত্রে প্রধান মূল স্ফীত হয় কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার ধারণ করে না। উদাহরণ – সন্ধ্যামণি।

B. শাখা মূলের রূপান্তর :

i. অর্বুদযুক্ত মূল বা নডুলেটেড : শিম্বি গোত্রীয় (ডালজাতীয়) উদ্ভিদের শাখামূলে গুটির মতো অংশ লক্ষ করা যায় ; এদের অর্বুদ বলে। এই অর্বুদে নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া রাইজোবিয়াম অবস্থান করে। এই ব্যাকটেরিয়া বায়ুর নাইট্রোজেনকে নাইট্রেটে পরিবর্তিত করে যা মূল দ্বারা শোষিত হয়।

ii. শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর : সাধারণত মূল শ্বাসক্রিয়ার জন্য মাটির কণার অন্তর্বর্তী স্থানে অবস্থিত বায়ু গ্রহণ করে। কিন্তু সমুদ্র উপকূলবর্তী লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে বাতাস না থাকায় শ্বাসকার্যের সুবিধার্থে কিছু শাখাপ্রশাখা মূল অভিকর্ষের বিপরীতে খাড়াভাবে মাটির ওপরে উঠে আসে ; একে শ্বাসমূল বলে। শ্বাসমূলের গায়ে অবস্থিত শ্বাসছিদ্র এর মাধ্যমে শ্বসনের প্রয়োজনীয় O2 গৃহীত হয় এবং CO♭বর্জিত হয়। উদাহরণ- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।

C. অস্থানিক মূলতন্ত্রের রূপান্তর :

 সঞ্চয়ী মূল :

i. কন্দাল মূল বা টিউবারাস রুট : এই ধরনের অস্থানিক মূল ব্রততী জাতীয় উদ্ভিদের ভূমি সংলগ্ন কান্ডের পর্ব থেকে উৎপন্ন হয় এবং খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে অনির্দিষ্ট আকার ধারণ করে। উদাহরণ— রাঙা আলু, অর্কিস ইত্যাদি।

ii. গুচ্ছিত মূল বা ফ্যাসিকুলেটেড রুট : কাণ্ডের সর্বনিম্ন পর্ব থেকে অস্থানিক মূল গুচ্ছাকারে উৎপন্ন হয়ে প্রতিটি মূল খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীতকায় হয়ে ওঠে। উদাহরণ- শতমূলী, ডালিয়া ইত্যাদি।

আরও পড়ুন :

প্রধান মূল বা স্থানিক মূল কাকে বলে ?

অস্থানিক মূল কাকে বলে এবং শ্রেণীবিভাগ ?

Leave a Comment