স্মৃতি কাকে বলে ? স্মৃতির স্তর গুলির বর্ণনা

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

স্মৃতি কাকে বলে ? স্মৃতির স্তর গুলির বর্ণনা

স্মৃতি কাকে বলে – What is Memory : স্মৃতি হল আমাদের চারপাশের পরিবেশ থেকে তথ‍্য নেওয়ার প্রক্রিয়া। এই তথ‍্য গুলিকে সংরক্ষণ করা ও স্বরণ করায় হল স্মৃতির কাজ আজকে আমরা আলোচনা করবো স্মৃতি কাকে বলে এবং স্মৃতির স্তর গুলি সম্পর্কে।

মানুষের স্মৃতিকে প্রায়শই কম্পিউটার মেমোরি সিস্টেমের সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ লোকেরা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা মনে রাখে না যার ফলে স্মৃতি গুলি বিকৃত হয়ে যায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক স্মৃতি কাকে বলে এবং স্মৃতির বিভিন্ন স্তর গুলি।

স্মৃতি কাকে বলে :

স্মৃতি বা স্মরণক্রিয়া হল এক বিশেষ প্রকার মানসিক প্রক্রিয়া। অতীত বিষয়বস্তুকে মনে রাখা এবং প্রয়োজনমতো তাকে অবিকল স্মরণ করাকেই স্মৃতি বলা হয়।

অপরভাবে স্মৃতি কাকে বলে বলতে গেলে, অতীত বিষয়বস্তুকে মনে রাখা এবং সরণ করাকেই স্মৃতি বলে।

স্মৃতির বিভিন্ন স্তর :

আধুনিক মতবাদ অনুযায়ী , স্মৃতিকে বিশ্লেষণ করলে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত চারটি স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। এই স্তরগুলি নীচে আলোচনা করা হল-

1. অভিজ্ঞতা অর্জন :

এটি হল স্মৃতির প্রথম স্তর, কোনো বিষয় স্মরণে রাখতে হলে সর্বপ্রথম যে মানসিক প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে হয় , তাই হল শিখন।

2. ধারণ বা সংরক্ষণ :

সংরক্ষণ বা ধারণ হল স্মৃতির দ্বিতীয় স্তর এটি, এমন এক প্রক্রিয়া যার দ্বারা শিখনজাত নানাপ্রকার বিষয় বা অভিজ্ঞতা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিবর্তিত হয় । বাস্তবে মানুষ শিখন প্রচেষ্টার দ্বারা যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করে , নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তার অনেক অংশই স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ধারণ বা সংরক্ষণের শর্ত :

অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের ধারণ বা সংরক্ষণ কয়েকটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল। ওই শর্তগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

i. উত্তম শিখন এবং অনুশীলন : সংরক্ষণের প্রথম শর্ত হল উত্তম শিখন। বিষয়বস্তুটিকে খুব ভালো করে অর্থবহ করে তুলে শেখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিষয়টির বাস্তব প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা বিচার করা দরকার। ধারণ বা সংরক্ষণের জন্য বিষয়টি বারবার অনুশীলন করা প্রয়োজন।

ii. মনোযোগ : কোনো বিষয় স্মৃতিতে ভালোভাবে ধরে রাখতে গেলে গভীর মনোযোগের বিশেষ প্রয়োজন।

iii. আগ্রহ : যে কোনো বিষয়ের প্রতি অনুরাগ বা আগ্রহ সেই বিষয়টিকে ভালোভাবে অনুশীলন করতে এবং দীর্ঘদিন মনে রাখতে সাহায্য করে।

iv. অধিকশিখন : যে কোন বিষয় সংরক্ষণের জন্য বিষয়টির অধিকশিখন  দরকার। অধিকশিখন বলতে বোঝায় বিষয়টি আয়ত্ত করার পরেও শিখন চালিয়ে যাওয়া।

v. শরীর ও মনের সুস্থতা : ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

vi. বিশ্রাম : সংরক্ষণের জন্য শিখনের পরে বিশ্রামের প্রয়োজন। এর ফলে পশ্চাৎমুখী প্রতিরোধ কম হয়। বিশ্রাম শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুগুলিকে সংগঠিত করতে সাহায্য করে , যা সংরক্ষণের সহায়ক।

vii. পুনরাবৃত্তি : সংরক্ষণের জন্য মাঝেমাঝেই বিষয়টির পুনরাবৃত্তি করা প্রয়োজন। আবৃত্তি যেভাবে পুনরুদ্রেক করা হবে , সেইভাবে পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

3. পুনরুদ্রেক :

এটি হল স্মৃতির তৃতীয় স্তর, কারণ যে বিষয়টি বা যেসব অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করা হয় তা যদি ঠিক সময়ে , ঠিক জায়গায় এবং সঠিকভাবে পুনরুদ্রেক করা না যায় , তাহলে স্মৃতির কাজটি পরিপূর্ণ হয় না। পুনরুদ্রেক প্রধানত দুই প্রকার-প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক ও পরোক্ষ পুনরুদ্রেক।

i. প্রত্যক্ষ পুনরুদ্ৰেক কাকে বলে : যখন কোনো অভিজ্ঞতাকে স্বরণ করার সময় কেবল তার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত অভিজ্ঞতাটির সাহায্য নেওয়া হয় , তখন তাকে প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক বলে। উদাহরণ- শ‍্যাম ও যদু দুই বন্ধু । শ‍্যামের কথা বললে যদি যদুর কথা মনে পড়ে তবে তা প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক।

ii. পরোক্ষ পুনরুদ্রেক কাকে বলে : যখন কোনো অভিজ্ঞতাকে স্বরণ করার জন্য তার সঙ্গে পরোক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত অভিজ্ঞতার সাহায্য নেওয়া হয় তখন তাকে পরোক্ষ পুনরুদ্রেক বলে। উদাহরণ- শ‍্যাম ও যদু দুই বন্ধু । যদুর ভাই মধু । এক্ষেত্রে যদি শ‍্যামের নাম মনে করার সময় যদুর ভাই মধুর নাম মনে পড়ে তাহলে সেটি হল পরোক্ষ পুনরুদ্রেক।

পুনরুদ্রেকের শর্ত :

উত্তম পুনরুদ্রেকের জন্য যেসব নিয়ম অনুসরণ করা হয় তাদের পুনরুদ্রেকের শর্ত বলা হয়। উল্লেখযোগ্য গুলি হল-

i. উত্তম শিখন ও সংরক্ষণ : কার্যকরী শিখনপদ্ধতির ব্যবহার শিখতে হবে ও উত্তম সংরক্ষণের শর্তগুলি মেনে চলতে হবে।

iii. পুনরনুশীলন এবং পুনরাবৃত্তি : বিষয়বস্তুকে মাঝে মাঝে অনুশীলন এবং আবৃত্তি করা প্রয়োজন।

iv. দৈহিক ও মানসিক সুস্থতা : শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে হবে। দৈহিক অসুস্থতা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা পুনরুদ্রেকের পক্ষে ক্ষতি সাধন করে।

4. প্রত্যভিজ্ঞা :

প্রত‍্যাভিজ্ঞা হল স্মৃতির চতুর্থ স্তর। পূর্বার্জিত অভিজ্ঞতা যখন তার প্রতিরূপের সাহায্যে পুনরুত্থাপিত হয় তখন তাকে প্রত্যভিজ্ঞা বলে। প্রত্যভিজ্ঞা কথাটির প্রকৃত অর্থ চিনে নেওয়া। পূর্বে প্রত্যক্ষ করা অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানকে বর্তমানে চিনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় প্রত্যভিজ্ঞা। প্রত্যভিজ্ঞা প্রক্রিয়াটি পুনরুদ্রেক প্রক্রিয়ার থেকে অনেক বেশি সহজ।

আরও পড়ুন : 

মনোযোগ কাকে বলে ? মনোযোগের শ্রেণীবিভাগ, বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতি ও শর্ত 

1 thought on “স্মৃতি কাকে বলে ? স্মৃতির স্তর গুলির বর্ণনা”

Leave a Comment