ইন্টারফেজ কাকে বলে ? ইন্টারফেজ দশার বৈশিষ্ট্য , স্থায়িত্ব ও বিভিন্ন দশা | What is Interphase

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

ইন্টারফেজ কাকে বলে – what is interphase : প্রিয় পাঠকগন আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা ইন্টারফেজ কাকে বলে এবং ইন্টারফেজ দশার বৈশিষ্ট্য, স্থায়িত্ব ও বিভিন্ন দশা সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

ইন্টারফেজ কাকে বলে ? ইন্টারফেজ দশার বৈশিষ্ট্য , স্থায়িত্ব ও বিভিন্ন দশা | What is Interphase

ইন্টারফেজ কাকে বলে :

দুটি বিভাজন দশার অন্তর্বর্তী যে সময়ে কোষ বিভাজিত হয় না কিন্তু বিভাজনের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তাকে ইন্টারফেজ বলে।

● ইন্টারফেজ দশার  বৈশিষ্ট্য :

ইন্টারফেজ দশার বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

i. ইন্টারফেজ দশায় সংশ্লেষমূলক কাজ ও M-ফেজ-এর বিভিন্ন কার্যাবলির জন্য প্রয়োজনীয় ATP অণুর সংশ্লেষণ।

ii. DNA- প্রতিলিপিকরণ, RNA সংশ্লেষ, হিস্টোন ও অন্যান্য নিউক্লিয় প্রোটিন সংশ্লেষ;

iii. প্রাণী কোষে সেন্ট্রোজোমের বিভাজন ও দুজোড়া সেন্ট্রিওল গঠন;

iv. কোষ আয়তনে সর্বাধিক বৃদ্ধি পায়।

● ইন্টারফেজ দশার স্থায়িত্ব:

ইন্টারফেজ দশার স্থায়িত্বকাল অন্যান্য দশা অপেক্ষা অনেক বেশি। যেমন টিস্যু কালচারে মানুষের কোশ বিভাজনের মোট সময় লাগে 24 ঘণ্টা, সেক্ষেত্রে ইন্টারফেজে ব্যয়িত হয় 23 ঘণ্টা।

● ইন্টারফেজের বিভিন্ন দশা :

1. G1 দশা বা গ্যাপ 1 দশা বা প্রথম বৃদ্ধি দশা :

i. পূর্ববর্তী কোষচক্রের মাইটোটিক দশা এবং পরবর্তী কোশ বিভাজনের S বা সংশ্লেষ দশার মধ্যবর্তী পর্যায়কে G দশা বলে

ii. G1 দশাই কোষচক্রের সূচনা করে এবং নির্ধারণ করে যে কোশটি পরবর্তী বিভাজন দশায় প্রবেশ করবে কিনা।

iii. এই দশায় DNA সংশ্লেষিত হয় না, কিন্তু DNA সংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক ও RNA অণুর সংশ্লেষ ঘটে।

iv. বিভিন্ন নিউক্লিওটাইড, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ATP অণুর সংশ্লেষ
ঘটে।

v. কোষ আকৃতিতে বড়ো হয় এবং নিউক্লিয়াসের আকৃতিও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

2. S দশা বা সংশ্লেষ দশা :

i. DNA অণুর সংশ্লেষ ঘটে বা প্রতিলিপিকরণ সম্পূর্ণ হয় বলে এই দশাকে সংশ্লেষ দশা বলে।

ii. একটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণু দৈর্ঘ্য বরাবর দুটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণুতে পরিণত হয়। প্রতিটি কোষে DNA-এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়। অর্থাৎ হ্যাপ্লয়েড কোষে 1C থেকে 2C এবং ডিপ্লয়েড কোষে 2C থেকে 4C হয়।

iii. হিস্টোন প্রোটিন সংশ্লিষ্ট হয় এবং হিস্টোন ও নবনির্মিত DNA-এর সমন্বয়ে ক্রোমাটিন তত্ত্ব গঠিত হয়।

iv. কাইনেটোকোরের উপএকক সংশ্লেষিত হয়।

v. S দশার শেষের দিকে প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয় যারা সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত থাকে।

vi. প্রাণীকোষে সেন্ট্রোজোমের বিভাজন শুরু হয়। S দশাকে M দশার অদৃশ্য দশা বলা হয় কারণ মাইটোসিস বিভাজনের S দশাতেই ক্রোমোজোম DNA প্রতিলিপিকরণ ও ক্রোমাটিড গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

3. G2 দশা বা গ্যাপ 2 দশা বা দ্বিতীয় বৃদ্ধি দশা :

ইন্টারফেজের S দশা এবং M ফেজের প্রফেজ দশার মধ্যবর্তী দশাকে G2 দশা বলে। ইন্টারফেজের এই সমাপ্তিসূচক দশায় নিম্নলিখিত কার্যগুলি সম্পন্ন হয়-

i. বিভিন্ন প্রকার RNA অণুর (t-RNA, F-RNA ও m-RNA) সংশ্লেষ ঘটে।

ii. বেম তন্তু গঠনকারী প্রোটিনের সংশ্লেষ ঘটে।

iii. কোষে ATP অণুর সংশ্লেষ ও সঞ্চয় লক্ষ করা যায়।

iv. নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের আয়তনের আরও বৃদ্ধি ঘটে।

v. ক্ষতিগ্রস্ত DNA অণুর মেরামতি হয়।

G2 ও M-দশার মাঝে দ্বিতীয় চেক পয়েন্টে মাইটোটিক সাইক্লিন অবস্থান করে যা G2-দশাকে M-দশায় অনুপ্রবেশ করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন :

কোষচক্র কাকে বলে ? কোষচক্রের সময়কাল ও প্রকারভেদ ? 

2 thoughts on “ইন্টারফেজ কাকে বলে ? ইন্টারফেজ দশার বৈশিষ্ট্য , স্থায়িত্ব ও বিভিন্ন দশা | What is Interphase”

Leave a Comment