পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে ? পুষ্পমঞ্জরির প্রকারভেদ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে ? পুষ্পমঞ্জরির প্রকারভেদ

পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে – what is Inflorescence : সুপ্রিয় ছাত্র ছাত্রী আজকে তোমাদের সাথে এই পরবর্তীতে শেয়ার করলাম পুষ্পমঞ্জরি বা পুষ্পবিন‍্যাস কাকে বলে এবং পুষ্পমঞ্জরির প্রকারভেদ সম্পর্কে।

পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে :

কান্ডের শীর্ষমুকুল বা কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন শাখা বা শাখাতন্ত্রের ওপর পুষ্প বা পুষ্পসমূহের বিন্যাস পদ্ধতিকে পুষ্পবিন্যাস বা পুষ্পমঞ্জরি বলে।

যে বিশেষ শাখার ওপর পুষ্প সজ্জিত থাকে, তাকে পুষ্পদণ্ড বা মঞ্জরিদণ্ড বলে। অনেক সময় মঞ্জরিদন্ড লম্বা না হয়ে চ্যাপটা থালার মতো বা পেয়ালার মতো হয়, একে পুষ্পাধার বলে। অনেক গাছে মঞ্জরিদন্ডে ফুলগুলি ক্ষুদ্র পাতার মতো অংশের কক্ষে জন্মায়, একে মঞ্জুরিপত্র বলে। কোনো উদ্ভিদে মঞ্জুরিপত্র ও ফুলের বৃতির মাঝখানে ক্ষুদ্র পাতার মতো বা শল্কের মতো অঙ্গ গঠিত হয়, এদের মঞ্জুরিপত্রিকা বলে।

পুষ্পমঞ্জরির প্রকারভেদ :

পুষ্পবিন্যাস বা পুষ্পমঞ্জরি প্রধানত তিন প্রকারের। যথা- নিয়ত বা সাইমোজ, অনিয়ত বা রেসিমোজ এবং বিশেষ বা স্পেশাল।

1. অনিয়ত বা রেসিমোজ পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে :

যে পুষ্পবিন্যাসে পুষ্পদন্ডটি অনির্দিষ্টভাবে বর্ধিত হয় এবং পুষ্পদন্ডের শীর্ষে কখনও ফুল সৃষ্টি হয় না এবং ফুলগুলি অগ্রোন্মুখভাবে বা অভিকেন্দ্রি কভাবে ফোটে, তাকে অনিয়ত পুষ্পবিন্যাস বলে। উদাহরণ : সরষে, রজনিগন্ধা, আম ইত্যাদির পুষ্পমঞ্জরি। প্রধান কয়েকপ্রকার অনিয়ত পুষ্পবিন্যাস হল-

2. নিয়ত বা সাইমোজ  পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে :

যে পুষ্পবিন্যাসে পুষ্পদণ্ডটি সীমিত বৃদ্ধিসম্পন্ন, পুষ্পদণ্ডের শীর্ষে ফুল উৎপন্ন হয় এবং ফুলগুলি পুষ্পদণ্ডের ওপর নিম্নোন্মুখভাবে বা অপকেন্দ্রিকভাবে ফোটে, তাকে নিয়ত পুষ্পবিন্যাস বলে।

উদাহরণ :  জবা, বেল, আকন্দ ইত্যাদির পুষ্পমঞ্জরি।

বৈশিষ্ট্য :

i. মঞ্জরিদন্ডের বৃদ্ধি সীমিত।

ii. মঞ্জরিদণ্ডের শীর্ষে ফুল জন্মায়।

iii. ফুলগুলি নিম্নোন্মুখভাবে প্রস্ফুটিত হয়।

iv. অনেকসময় মঞ্জরিদণ্ড পুষ্পাধার সৃষ্টি করে এবং ফুলগুলি অপকেন্দ্রিকভাবে প্রস্ফুটিত হয়।

3. বিশেষ বা স্পেশাল পুষ্পমঞ্জরি :

কতকগুলি উদ্ভিদের বিশেষ আকৃতিবিশিষ্ট পুষ্পবিন্যাস বর্তমান। এটি নিম্নলিখিত প্রকারের হয়-

i. হাইপ্যানথোডিয়া বা উদুম্বর :  যে পুষ্পবিন্যাসে পুষ্পমঞ্জরিটি একটি ফাঁপা, গোলাকার ও রসাল পুষ্পাধারে পরিণত হয় এবং পুষ্পাধারের ভিতরে ওপরের দিকে অবৃন্তক পুংপুষ্প ও নীচের দিকে অবৃন্তক স্ত্রীপুষ্পগুলি সজ্জিত থাকে, তাকে হাইপ্যানথোডিয়াম বলে। পুষ্পাধারের বাইরের ওপরের দিকে শল্কপত্র আবৃত একটি ক্ষুদ্র রন্ধ থাকে। উদাহরণ: ডুমুর, বট ইত্যাদি ।

ii. সায়াথিয়াম বা ভৃঙ্গারমঞ্জুরি :  যে পুষ্পবিন্যাসে পুষ্পদণ্ডটি সীমিত বৃদ্ধি পেয়ে উত্তলাকার পুষ্পাধার গঠন করে এবং পুষ্পাধারের কেন্দ্রে কেবল গর্ভপত্র সমন্বিত একটি দীর্ঘ স্ত্রীপুষ্প ও তাকে বেষ্টিত করে কেবল পুংকেশর সমন্বিত অসংখ্য পুংপুষ্প অবস্থান করে এবং সম্পূর্ণ মঞ্জুরিটি বর্ণময় কয়েকটি মঞ্জুরিপত্র দ্বারা আবৃত থাকে, তাকে সায়াথিয়াম বলে। উদাহরণঃ লালপাতা, রাংচিতা ইত্যাদি।

iii. ভার্টিসিলেস্টার : এইরকম বিশেষ পুষ্পবিন্যাসের অবৃন্তক ফুলগুলি প্রতিমুখ পত্র দুটির মাঝখানে নিয়তাকারে উৎপন্ন হয়। যেমন- রক্তদ্রোণ, শ্বেতদ্রোণ।

আরও পড়ুন :

পাতা কাকে বলে ? পাতার বৈশিষ্ট্য, কার্যাবলি ও অঙ্গসংস্থান ?

1 thought on “পুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে ? পুষ্পমঞ্জরির প্রকারভেদ”

Leave a Comment