বিস্মৃতি কাকে বলে ? বিস্মৃতির কারণ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

বিস্মৃতি কাকে বলে ? বিস্মৃতির কারণ

বিস্মৃতি কাকে বলে : আমরা দীর্ঘকাল ধরে যা কিছু শিখি সব কিছু মনে রক্ষা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কোন কিছু শেখার পর যত সময় অতিবাহিত হতে থাকে তত আমরা নতুন নতুন কিছু শিখতে থাকি। কিন্তু পূর্বের শেখা জিনিসগুলি আর সবকিছু মনে থাকে না এটাই হল বিস্মৃতি আজকে আমরা আলোচনা করব বিস্মৃতি কাকে বলে এবং বিস্মৃতির কারণ সম্পর্কে।

বিস্মৃতি কাকে বলে :

কোন কিছু শেখার পরে যদি দেখা যায় সেটি মস্তিষ্কে সংরক্ষিত হয়নি তখন তাকে বলা হয় বিস্তৃতি।

স্মৃতির অভাবকেই বিস্মৃতি বা বিস্মরণ বলা হয়। বিস্মৃতি বা ভুলে যাওয়া হল মনে রাখার বিপরীত। স্মৃতি হল শিখন , সংরক্ষণ , মনে করা এবং চেনা এই কয়েকটি মানসিক প্রক্রিয়ার সম্মিলিত রূপ। এই জটিল ক্রিয়া কোনো কারণে ব্যাহত হলে বিস্মৃতি দেখা দেয়।

বিভিন্ন মনোবিদের মতে বিস্মৃতির সংজ্ঞা :

চলুন দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন মনোবিদদের মতে বিস্মৃতি কাকে বলে-

ড্রেভারের মতানুসারে, কোন সময় কোন অভিজ্ঞতা বা পূর্বার্জিত কোন কাজ পুনরায় সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়াকে বিস্তৃতি বলে।

মান এর মতে, পূর্বার্জিত কোন বিষয়কে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে স্মরণ করার অক্ষমতাকে বলা হয় বিস্মৃতি।

ভাটিয়া এর মতানুসারে, মূল উদ্দীপকর সাহায্যে ব্যাতীত কোন ভাবনা বা চেতনা মনে নিয়ে আসার ব্যর্থতাকেই বলা হয় বিস্মৃতি।

বিস্মৃতির কারণ :

বিস্মৃতির কারণ গুলি হল-

1. শিখনের লিমিট বা মাত্রা :

প্রত্যেক বিষয় শেখার একটা মাত্রা আছে যেখানে পৌঁছোলে শিখন পরিপূর্ণ হয়। কিন্তু বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শেখার পরেও যদি ভালোকরে চর্চা করা হয় তাহলে তাকে অতিশিখন বলা হয়। অতিশিখনের ক্ষেত্রে বিস্মৃত কম দেখা যায়।

2. চর্চার অভাব :

অনভ্যাসে বিদ্যাহ্রাস -কথাটি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোনো কিছু শেখার পর দীর্ঘদিন চর্চা না করলে তার বিস্মৃতি ঘটে।

3. আবেগজনিত প্রতিরোধ :

তীব্র আবেগমূলক পরিস্থিতিতে খুব ভালো করে শেখা বিষয়গুলিকেও মনে করতে কষ্ট হয় । ভয়, রাগ, দুঃখ, লজ্জা ইত্যাদি প্রক্ষোভ তীব্রমাত্রায় দেখা দিলে বিস্মৃতির মাত্রা অধিক হয়ে যায়।

4. বিষয়বস্তুর গতিপ্রকৃতি :

বিষয়বস্তুর গতিপ্রকৃতির ওপর মনে রাখা বা ভুলে যাওয়া অনেকখানি নির্ভর করে। এবিংহাউসের পরীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, অর্থহীন শব্দতালিকা, অর্থযুক্ত শব্দতালিকা, সম্পূর্ণ বাক্য ইত্যাদি বিষয়বস্তুর মধ্যে অর্থহীন শব্দতালিকার ক্ষেত্রে বিস্মৃতির হার সর্বাধিক বেশি।

5. অবদমন :

ফ্রয়েড বলেন, অবদমন হল বিস্মৃতির মূল কারণ। যা আমরা চাই না, যেটি অসামাজিক বা আমাদের কাছে অপ্রিয় সেটিকে আমরা অবদমন অর্থাৎ , ভুলে যেতে চাই খুব শ্রীঘ্রই।

6. তীব্র শোক :

তীব্র সকল ফলে ব্যক্তির স্মৃতি পরিপূর্ণ ভাবে লোপ পায়। এই স্মৃতি লোককে বলা হয় অ্যামনেশিয়া।

7. পশ্চাৎমুখী প্রতিরোধ :

যে কোনো বিষয়বস্তু ভালোভাবে শেখার আগে যদি অন্য কোনো সদৃশ বিষয়বস্তু শিখতে যাই, তবে দ্বিতীয় বিষয়টি প্রথমে শেখা বিষয়টির কিছু অংশ ভুলিয়ে দেয়। এই মানসিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় পশ্চাৎমুখী প্রতিরোধ।

8. নেশাকারক জিনিস :

দীর্ঘদিন ধরে নেশা করার ফলে মস্তিষ্কের স্মরণচিহ্ন অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং বিস্মৃতি ঘটে।

আরও পড়ুন : 

স্মৃতি কাকে বলে ? স্মৃতির স্তর গুলির বর্ণনা

1 thought on “বিস্মৃতি কাকে বলে ? বিস্মৃতির কারণ”

Leave a Comment