উৎসেচক কাকে বলে ? উৎসেচকের বৈশিষ্ট্য, আবিস্কার ও রাসায়নিক প্রকৃতি | what is enzyme

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

উৎসেচক কাকে বলে : প্রিয় পাঠকবন্ধুরা আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা উৎসেচক কাকে বলে এবং উৎসেচকের আবিস্কার, বৈশিষ্ট্য ও রাসায়নিক প্রকৃতি সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

উৎসেচক কাকে বলে

উৎসেচক কাকে বলে :

সজীব কোশে উৎপন্ন যেসব প্রোটিনধর্মী জৈব অনুঘটক জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু বিক্রিয়ার শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাদের উৎসেচক বা এনজাইম বলে।

প্রত্যেক সজীব কোশে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গঠনমূলক ও ভাঙনমূলক বিপাকক্রিয়া ঘটে চলেছে। এইসব বিপাকক্রিয়াগুলি বিশেষ এক ধরনের জৈব যৌগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই জৈব যৌগগুলি নিজেরা সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করে বিক্রিয়াগুলির হার বাড়াতে বা কমাতে সাহায্য করে। ওই যে জৈব যৌগগুলি অনুঘটকরূপে বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের উৎসেচক বা এনজাইম বলে।

DNA কাকে বলে ? DNA এর কাজ ও শ্রেণীবিভাগ ?

উৎসেচকের আবিষ্কার :

i. রেনে রিআমুর : 1752 খ্রিস্টাব্দে খাদ্যের ওপর পাচক রসের ক্রিয়া অনুধাবন করেন।

ii. ডুব্রানফট : 1830 খ্রিস্টাব্দে মল্ট নির্যাস তৈরি করেন যা শ্বেতসারকে গ্লুকোজে পরিণত করে।

iii. পাস্তুর : 1860 খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ও অন্যান্য অণুজীবে উপস্থিত সন্ধানকারী বস্তুকে ফারমেন্ট নামে অভিহিত করেন।

iv. জন জ্যাকব বার্জেলিয়াস : 1835 খ্রিস্টাব্দে তিনি সজীব কোশে জৈব অনুঘটকের উপস্থিতি প্রথম আবিষ্কার করেন।

v. উইলি কুন : 1878 খ্রিস্টাব্দে উৎসেচকের নামকরণ করেন।

vi. এডুয়ার্ড বুকনার : 1897 খ্রিস্টাব্দে ইস্টে কোহল সন্ধানের সময় প্রকৃত অর্থে জৈব অনুঘটক আবিষ্কার করেন এবং ইস্টের নির্যাসকে জাইমেজ নামে অভিহিত করেন। 1903 খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম ইস্টের নির্যাস থেকে জাইমেজ উৎসেচক পৃথক করেন এবং তাঁর কাজের জন্য তিনি ওই বছরেই নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

vii. জেমস বি. সামনার : 1926 খ্রিস্টাব্দে ইউরিয়েজ উৎসেচককে পৃথক করে কেলাসিত করেন এবং enzyme একপ্রকার প্রোটিনবস্তু বলে অভিহিত করেন।

viii. জন এইচ নরথ্রপ : পেপসিন, ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন এবং ওয়েনডেল এম. স্ট্যানলে TMV প্রোটিন পৃথকীকৃত ও কেলাসিত করেন। সামনার, নরথ্রপ ও স্ট্যানলে তাঁদের কাজের জন্য 1947 খ্রিস্টাব্দে রসায়ন বিভাগে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎসেচকের বৈশিষ্ট্য :

1. প্রতিটি উৎসেচক কেবল একটি নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের ওপর কাজ করে।

2. উৎসেচক অনুঘটকরূপে কাজ করে এবং বিক্রিয়া-শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে; অর্থাৎ বিক্রিয়া-শেষে উৎসেচকের রাসায়নিক গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না।

3. উৎসেচক কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়াকে শুরু করতে পারে না; কেবল রাসায়নিক বিক্রিয়ার হারকে বাড়াতে বা কমাতে সাহায্য করে।

4. উৎসেচকের সক্রিয়তা একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত 25°-40°C তাপমাত্রায় উৎসেচকের ক্রিয়া সবচেয়ে ভালো হয়। অধিক তাপে উৎসেচক নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কম তাপে নষ্ট হয় না, তবে তার কার্যকারিতা কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়।

5. উৎসেচক একটি নির্দিষ্ট অ্যাসিড ও ক্ষারের ভারসাম্যে ক্রিয়া করে। যেমন- পেপসিন একটি নির্দিষ্ট অ্যাসিড মাধ্যমে (pH 2.0) এবং ট্রিপসিন একটি নির্দিষ্ট ক্ষারীয় মাধ্যমে (pH 8.3) কাজ করে।

6. রাসায়নিক ধর্মে উৎসেচক সাধারণত প্রোটিন জাতীয়।

7. উৎসেচক কোশে সাধারণত কোলয়েড রূপে থাকে।

উৎসেচকের রাসায়নিক প্রকৃতি :

1. উৎসেচক প্রোটিনধর্মী হওয়ায় তারা ঝিল্লি-বিশ্লেষণযোগ্য নয়। প্রোটিন নয় এমন একটি অংশও উৎসেচকের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। সংযুক্ত অংশটি প্রোটিনের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকলে তাকে প্রস্থেটিক গ্রুপ এবং শিথিলভাবে আবদ্ধ থাকলে তাকে কো-এনজাইম বা সহ-উৎসেচক বলে।

2. উৎসেচক প্রোটিন হওয়ায় এরা কোলয়েডধর্মী হয় [ব্যতিক্রম কিছু r-RNA বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উৎসেচকের মতো কাজ করে, এদের রাইবোজাইম বলে ]।

3. উৎসেচকের অণু প্রোটিন অণুর মতোই বৃহদাকার এবং প্রোটিনের মতোই আণবিক ওজনসম্পন্ন।

4. কিছু সংখ্যক স্নেহবিশ্লেষণকারী উৎসেচক ছাড়া সব উৎসেচকই জল, অ্যালকোহল এবং গ্লিসারলে দ্রবণীয়।

5. উৎসেচকের আর্দ্রবিশ্লেষণে প্রোটিনের মতোই অ্যামাইনো অ্যাসিড উৎপন্ন হয়।

6. বেশি তাপে প্রোটিনের মতো উৎসেচকও তঞ্চিত হয় এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন : 

RNA কাকে বলে ? RNA এর প্রকারভেদ ও গঠন ? 

Leave a Comment