কোষ বিভাজন কাকে বলে ? কোষ বিভাজনের কারণ ও গুরুত্ব | What is Cell Division

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

কোষ বিভাজন কাকে বলে : সুপ্রিয় পাঠকবন্ধুরা আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা কোষ বিভাজন কাকে বলে এবং কোষ বিভাজনের কারণ ও গুরুত্ব সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

কোষ বিভাজন কাকে বলে ? কোষ বিভাজনের কারণ ও গুরুত্ব | What is Cell Division

কোষ বিভাজন কাকে বলে :

যে পদ্ধতিতে কোশীয় উপাদানের দ্বিত্বকরণ ও পৃথক্‌করণের মাধ্যমে মাতৃকোশ থেকে দুই বা দুইয়ের বেশি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়, তাকে কোশ বিভাজন বলে।

কোশ বিভাজনের কারণ :

আধুনিক বিজ্ঞানীদের মতে কোশ বিভাজনের প্রধান কারণগুলি নিম্নরূপ :

i. ন্যূনতম বৃদ্ধি : একটি নবজাত কোশ তৎক্ষণাৎ বিভাজিত হয় না। কোশ বিভাজনের ক্ষমতা অর্জনের জন্য কোশ ও সেটির উপাদান সমূহের ন্যূনতম বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন।

ii. পৃষ্ঠতল-আয়তন অনুপাত : কোশের আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পৃষ্ঠতল-আয়তন অনুপাত হ্রাস পায়। ফলে সুষ্ঠ বিপাকীয় ক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের বহিঃতলীয় বিনিময় ক্ষমতা হ্রাস পায়। পৃষ্ঠতল আয়তন অনুপাত একটি সংকট মাত্রায় পৌঁছলে কোশ বিভাজনের জন্য তৈরি হয়।

iii. নিউক্লিও-সাইটোপ্লাজমিক অনুপাত : নিউক্লিয়াস কোশের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। নিউক্লিয়াসের আয়তন বৃদ্ধি পায় না কিন্তু কোশ বৃদ্ধির ফলে সাইটোপ্লাজমের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং নিউক্লিও-সাইটোপ্লাজমীয় অনুপাত হ্রাস পায় ফলে কোশ বিভাজনে উদ্দীপিত হয়।

iv. মাইটোজেন : কোশ বিভাজনে উদ্দীপনা প্রদানকারী পদার্থ যেমন—উদ্ভিদ কোশে সাইটোকাইনিন, প্রাণীকোশে EGF (Epidermal growth factor), PDGE (Platelet derived growth factor) এবং লিম্ফোকাইন প্রভৃতি কোশ বিভাজনে উদ্দীপনা জোগায়।

v. জিন নিয়ন্ত্রণ : প্রকৃতপক্ষে কোশ বিভাজন একটি জিন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া। জিনের নিয়ন্ত্রণে উৎসেচকের সংশ্লেষ ঘটে। উৎসেচক কোশীয় বস্তুর সংশ্লেষণে সাহায্য করে। নিউক্লিয়াসে DNA-র পরিমাণ দ্বিগুণ হলেই বিভাজন শুরু হয়।

কোশ বিভাজনের গুরুত্ব :

কোষ বিভাজনের গুরুত্ব গুলি হল-

i. সকল প্রকার কোশ পূর্বসূরি কোশ থেকে বিভাজনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।

ii. প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয় একটি মাত্র কোশ থেকে, নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোট বিভাজনের মাধ্যমে নতুন জীবের সৃষ্টি করে।

iii. জীবদেহের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুরণের জন্য কোশ বিভাজন প্রয়োজন।

iv. জীবদেহে আঘাত ও ক্ষতস্থান নিরাময়ের জন্য কোশ বিভাজন আবশ্যক।

v. জীবের বংশবিস্তার বিশেষ করে জনন কোশ গঠনের জন্য কোশ বিভাজন প্রয়োজন।

vi. কোশ বিভাজনের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অপত্য কোশ সৃষ্টি হয় যা জীবের অভিযোজন ও অভিব্যক্তিতে সাহায্য করে।

vii. কোশ বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহে কোনো অঙ্গের বা খণ্ডাংশ থেকে সমগ্র দেহের পুনরুৎপাদন ঘটে।

viii. কোশ বিভাজনের সময় বংশগতি বস্তুর (DNA) প্রতিলিপি গঠিত হয়, DNA প্রতিলিপি গঠনের সময় কোনো ত্রুটির কারণে পরিব্যক্তির উদ্ভব হয়।

আরও পড়ুন : 

কোষপর্দা কাকে বলে ? কোষ পর্দার গঠন, অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য ? 

Leave a Comment