কোষচক্র কাকে বলে ? কোষচক্রের প্রকারভেদ ও সময়কাল | What Is Cell Cycle

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

কোষচক্র কাকে বলে : সুপ্রিয় পাঠকগন আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা কোষচক্র কাকে বলে ? এবং কোষচক্রের প্রকারভেদ ও সময়কাল সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কোষচক্র কাকে বলে।

কোষচক্র কাকে বলে ? কোষচক্রের প্রকারভেদ ও সময়কাল | What Is Cell Cycle

কোষচক্র কাকে বলে :

একটি কোষ বিভাজনের পর থেকে পরবর্তী কোষ বিভাজন শুরুর আগে পর্যন্ত কোষের মধ্যে যেসব পরিবর্তন ও ঘটনাবলি পরিলক্ষিত হয় তাকে কোষচক্র বলে।

কোষচক্রের সময়কাল :

কোষচক্রের সময়কালকে জনু কাল বলে। মানবদেহে কোশচক্রের সময়কাল 24 ঘণ্টা, ইস্ট কোষে এই সময়কাল 90 মিনিট। প্রোক্যারিওটিক কোষে কোষচক্রের সময়কাল 20-30 মিনিট। বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড ও পেল্ক কোশচক্রের বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।

কোষচক্রের প্রকারভেদ :

কোষচক্রের দুটি প্রধান অংশ A. ইন্টারফেজ  ও B. মাইটোটিক ফেজ বা M-ফেজ । ইন্টারফেজ আবার G1, S ও G2 এই তিনটি দশায় বিভক্ত । M দশাটি আবার ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিসে বিভক্ত। ক্যারিওকাইনেসিস প্রফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজে বিভক্ত।

A. ইন্টারফেজ :

দুটি বিভাজন দশার অন্তর্বর্তী যে সময়ে কোষ বিভাজিত হয় না কিন্তু বিভাজনের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তাকে ইন্টারফেজ বলে।

● ইন্টারফেজ দশার  বৈশিষ্ট্য :

ইন্টারফেজ দশার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

i. ইন্টারফেজ দশায় সংশ্লেষমূলক কাজ ও M-ফেজ-এর বিভিন্ন কার্যাবলির জন্য প্রয়োজনীয় ATP অণুর সংশ্লেষণ।

ii. DNA- প্রতিলিপিকরণ, RNA সংশ্লেষ, হিস্টোন ও অন্যান্য নিউক্লিয় প্রোটিন সংশ্লেষ;

iii. প্রাণী কোষে সেন্ট্রোজোমের বিভাজন ও দুজোড়া সেন্ট্রিওল গঠন;

iv. কোষ আয়তনে সর্বাধিক বৃদ্ধি পায়।

● ইন্টারফেজের বিভিন্ন দশা :

1. G1 দশা বা গ্যাপ 1 দশা বা প্রথম বৃদ্ধি দশা :

i. পূর্ববর্তী কোষচক্রের মাইটোটিক দশা এবং পরবর্তী কোশ বিভাজনের S বা সংশ্লেষ দশার মধ্যবর্তী পর্যায়কে G দশা বলে

ii. G1 দশাই কোষচক্রের সূচনা করে এবং নির্ধারণ করে যে কোশটি পরবর্তী বিভাজন দশায় প্রবেশ করবে কিনা।

iii. এই দশায় DNA সংশ্লেষিত হয় না, কিন্তু DNA সংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক ও RNA অণুর সংশ্লেষ ঘটে।

iv. বিভিন্ন নিউক্লিওটাইড, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ATP অণুর সংশ্লেষ
ঘটে।

v. কোষ আকৃতিতে বড়ো হয় এবং নিউক্লিয়াসের আকৃতিও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

2. S দশা বা সংশ্লেষ দশা :

i. DNA অণুর সংশ্লেষ ঘটে বা প্রতিলিপিকরণ সম্পূর্ণ হয় বলে এই দশাকে সংশ্লেষ দশা বলে।

ii. একটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণু দৈর্ঘ্য বরাবর দুটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণুতে পরিণত হয়। প্রতিটি কোষে DNA-এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়। অর্থাৎ হ্যাপ্লয়েড কোষে 1C থেকে 2C এবং ডিপ্লয়েড কোষে 2C থেকে 4C হয়।

iii. হিস্টোন প্রোটিন সংশ্লিষ্ট হয় এবং হিস্টোন ও নবনির্মিত DNA-এর সমন্বয়ে ক্রোমাটিন তত্ত্ব গঠিত হয়।

iv. কাইনেটোকোরের উপএকক সংশ্লেষিত হয়।

v. S দশার শেষের দিকে প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয় যারা সেন্ট্রোমিয়ার দ্বারা যুক্ত থাকে।

vi. প্রাণীকোষে সেন্ট্রোজোমের বিভাজন শুরু হয়। S দশাকে M দশার অদৃশ্য দশা বলা হয় কারণ মাইটোসিস বিভাজনের S দশাতেই ক্রোমোজোম DNA প্রতিলিপিকরণ ও ক্রোমাটিড গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

3. G2 দশা বা গ্যাপ 2 দশা বা দ্বিতীয় বৃদ্ধি দশা :

ইন্টারফেজের S দশা এবং M ফেজের প্রফেজ দশার মধ্যবর্তী দশাকে G2 দশা বলে। ইন্টারফেজের এই সমাপ্তিসূচক দশায় নিম্নলিখিত কার্যগুলি সম্পন্ন হয়-

i. বিভিন্ন প্রকার RNA অণুর (t-RNA, F-RNA ও m-RNA) সংশ্লেষ ঘটে।

ii. বেম তন্তু গঠনকারী প্রোটিনের সংশ্লেষ ঘটে।

iii. কোষে ATP অণুর সংশ্লেষ ও সঞ্চয় লক্ষ করা যায়।

iv. নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের আয়তনের আরও বৃদ্ধি ঘটে।

v. ক্ষতিগ্রস্ত DNA অণুর মেরামতি হয়।

G2 ও M-দশার মাঝে দ্বিতীয় চেক পয়েন্টে মাইটোটিক সাইক্লিন অবস্থান করে যা G2-দশাকে M-দশায় অনুপ্রবেশ করতে সাহায্য করে।

4. Go (G শূন‍্য) দশা বা গ্যাপ 0 দশা :

ইন্টারফেজ দশায় কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন না হলে কোষটি সুপ্ত বা অবিভাজন দশায় থেকে যায়। এই দশাকে Go দশা বলে। কোষের জিনগত সক্রিয়তার ফলে যদি বিভাজন সংক্রান্ত বিপাকক্রিয়া পুনরায় চালু করতে পারে তাহলে কোষ Go দশা থেকে আবার G1 দশায় প্রবেশ করে অর্থাৎ ইন্টারফেজ দশা সম্পন্ন করে আবার বিভাজিত হয়।

উদ্ভিদের স্থায়ীকলার কোষ, পরিণত প্রাণীর দেহকোশ Go দশায় থাকে। ক্যানসার কোষ অনন্তকাল ধরে বিভাজনক্ষম বলে এদের Go দশা থাকে না। উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা কোষ, ফাইব্রোব্লাস্ট কোষগুলি বিভাজনক্ষম বলে এদের Go দশা অনুপস্থিত। লোহিত রক্তকণিকা ও স্নায়ুকোশ বা নিউরোন কখনই বিভাজিত হয় না। এই ধরনের কোষ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে আজীবনকাল Go দশায় থেকে যায় বলে এদের বিভাজন ক্ষমতা থাকে না।

B. M ফেজ বা মাইটোটিক ফেজ :

ইন্টারফেজ দশার পর কোশ M ফেজে প্রবেশ করে। M ফেজ বা মাইটোটিক দশা হল কোষচক্রের অন্তিম পর্যায়। এই দশাতেই প্রধানত কোষ বিভাজন দেখা যায়। এই দশা আবার দুটি পর্যায়ে বিভক্ত যথ-

i. ক্যারিওকাইনেসিস : এই পর্যায়ে সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি দুই মেরুতে এসে দুটি অপত্য কোমোজোম গঠন করে। মাতৃকোশের দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং প্রতিটি নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান হয়। ক্যারিওকাইনেসিস দশাটি প্রফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ দশায় বিভক্ত।

ii. সাইটোকাইনেসিস : এই পর্যায়ে কোষের দুই মেরুতে উপস্থিত দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হওয়ার পরে কোষের নিরক্ষীয় তলে কোষপাত (উদ্ভিদ কোষে) বা খাঁজ সৃষ্টি (প্রাণীকোষে) হওয়ার ফলে মাতৃকোষটি দুটি অপত্য কোষে বিভাজিত হয়।

মাইটোটিক দশার পর কোষটি পুনরায় নতুন কোষচক্রে প্রবেশ করে অথবা Go দশায় ঢোকে। কোষটি আকৃতিতে বড়ো হয়। তার ফলে বিভাজন বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন :

কোষগহ্বর কাকে বলে ? অবস্থান, গঠন ও কাজ ? 

1 thought on “কোষচক্র কাকে বলে ? কোষচক্রের প্রকারভেদ ও সময়কাল | What Is Cell Cycle”

Leave a Comment