মুকুল কাকে বলে ? মুকুল কয় প্রকার ও কি কি

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

মুকুল কাকে বলে : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকের এই পর্বতে তোমাদের সাথে শেয়ার করলাম গাছের একটি বিশেষ অংশ মুকুল কাকে বলে এবং মুকুলের প্রকারভেদ সম্পর্কে।

মুকুল কাকে বলে ? মুকুল কয় প্রকার ও কি কি

◆মুকুল কাকে বলে :

অতিশয় ক্ষুদ্র, সংকুচিত ও অবিকশিত বিটপকে মুকুল বলা হয়। মুকুলের মধ্যে পর্ব, পর্বমধ্য, পত্র ইত্যাদি সবই বিদ্যমান। কিন্তু এগুলি এত ঘনসন্নিবিষ্টভাবে অবস্থান করে যে আপাতদৃষ্টিতে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা যায় না ৷

◆মুকুলের প্রকারভেদ :

A. প্রকৃতি অনুসারে :

প্রকৃতি অনুসারে মুকুল নিম্নলিখিত প্রকারের হয় –

1. অঙ্গজ মুকুল : এই মুকুল নতুন কান্ড ও শাখা উৎপন্ন করে।

2. পুষ্প মুকুল : এই মুকুল ফুল সৃষ্টি করে।

3. মিশ্র মুকুল : এই মুকুল উদ্ভিদের দৈহিক অঙ্গ ও পুষ্প উভয়ই সৃষ্টি করে। উদাহরণ- আপেল ।

4. আকর্ষমুকুল : এই মুকুল আকর্ষে রূপান্তরিত হয়। উদাহরণ- ঝুমকোলতা।

B. উৎপত্তি ও অবস্থান অনুসারে মুকুলের প্রকারভেদ :

উৎপত্তি ও অবস্থান অনুসারে মুকুল নিম্নলিখিত প্রকারের হয়-

1. অগ্রমুকুল : এইপ্রকার মুকুল কান্ড ও শাখাপ্রশাখার অগ্রভাগে উৎপন্ন হয় এবং এদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

2. পার্শ্বমুকুল : এই ধরনের মুকুল নিম্নলিখিত প্রকারের হয়-

i. কাক্ষিক মুকুল : পাতার কক্ষে উৎপন্ন মুকুলকে কাক্ষিক মুকুল বলে। এই মুকুল থেকে শাখাপ্রশাখা এমনকি ফুলও উৎপন্ন হয়। উদাহরণ-গোলাপ, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

ii. অতিরিক্ত মুকুল : যখন একটি পাতার কক্ষে একের অধিক মুকুল উৎপন্ন হয়, তখন তাকে অতিরিক্ত মুকুল বলে। উদাহরণ- বেগুন, লংকা ইত্যাদি ।

iii. সুপ্ত মুকুল : যে কাক্ষিক মুকুল শাখাপ্রশাখা সৃষ্টি না করে সুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে ; তাকে সুপ্ত মুকুল বলে।

3. অস্থানিকমুকুল : কাণ্ডের নির্দিষ্ট স্থান থেকে মুকুল উৎপন্ন না হয়ে যখন অন্য কোনো অংশ থেকে উৎপন্ন হয়, তখন তাকে অস্থানিক মুকুল বলে। এইপ্রকার মুকুল নিম্নলিখিত প্রকারের হয়-

i. পত্রাশ্রয়ী মুকুল : পাতা থেকে উৎপন্ন মুকুলকে পত্রাশ্রয়ী মুকুল বলে। উদাহরণ- পাথরকুচি পাতার কিনারা থেকে এবং বিগোনিয়া পাতার শিরার ওপর উৎপন্ন মুকুল।

ii. কান্ডজ মুকুল : কান্ড বা শাখাপ্রশাখার কাটা স্থান থেকে উৎপন্ন মুকুলকে কান্ডজ মুকুল বলে। উদাহরণ- দুরন্ত, ডালিয়া, গোলাপ ইত্যাদি।

iii. মূলজ মুকুল : ভূনিম্নস্থ পরিবর্তিত মূল থেকে উৎপন্ন মুকুলকে মূলজ মুকুল বলে। উদাহরণ- পটল, রাঙাআলু ইত্যাদি।

4. মুকুল শল্কপত্র : কাঁঠাল, চাঁপা, বট প্রভৃতি উদ্ভিদের মুকুল শল্ক দ্বারা আবৃত থাকে। এই শল্কপত্র পাতা বা পাতার কোনো অংশরূপে রূপান্তরিত হতে পারে।

5. শীতকালীন মুকুল : প্রচণ্ড ঠান্ডার সময় যখন উদ্ভিদের সব পাতা ঝরে যায় তখন কাণ্ডে উৎপন্ন বিশেষ মুকুল অক্ষত অবস্থায় থেকে যায় এবং বসন্তকালে ওই মুকুল থেকে নতুন পাতা উৎপন্ন হয়। এই ধরনের মুকুলকে শীতকালীন মুকুল বলে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি এই ধরনের মুকুল। বাঁধাকপি সবচেয়ে বড়ো মুকুল।

6. বিশেষ মুকুল বা বল : কাক্ষিক মুকুল খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে যে স্ফীত ও গোলাকার আকৃতি ধারণ করে, তাকে বুলবিল বলে। এই বুলবিল উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করে। উদাহরণ চুপড়ি আলু, কন্দপুষ্প ইত্যাদি।

আরও পড়ুন :

কান্ড কাকে বলে ? কান্ডের, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ ও অঙ্গসংস্থান ? 

মূল কাকে বলে ? মূলের প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য ও কাজ ?

Leave a Comment