পাতার প্রকারভেদ | Types Of Leaves

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

পাতার প্রকারভেদ – Types Of Leaves : সুপ্রিয় বন্ধুরা এই পর্বটিতে আমরা শেয়ার করলাম পাতার প্রকারভেদ সম্পর্কে। নীচে পাতার প্রকারভেদ গুলি নিয়ে আলোচনা করা হলো।

পাতার প্রকারভেদ | Types Of Leaves

বিটপতন্ত্রের অন্তর্গত কান্ড ও তার শাখাপ্রশাখার পর্ব থেকে যে চ্যাপটা, প্রসারিত, সাধারণত সবুজ বর্ণের পার্শ্বীয় অঙ্গ সৃষ্টি হয়, তাকে পাতা বলে। পাতা সীমিত বৃদ্ধিসম্পন্ন অঙ্গ। পাতার কক্ষে একটি মুকুল থাকে। বিভিন্ন পরিবেশে বসবাসকারী উদ্ভিদের পাতার গঠন বিভিন্ন ধরনের হয়। পাতা উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষকারী অঙ্গ। সালোকসংশ্লেষে সক্ষম পাতাকে পল্লবপত্র বলে। পল্লবপত্র ছাড়াও উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন রকমের পাতা দেখা যায়, যেমন- শল্কপত্র, মঞ্জুরিপত্র, বীজপত্র ও পুষ্পপত্র।

পাতার প্রকারভেদ :

পত্রফলকের অঙ্গসংস্থানের ওপর ভিত্তি করে পাতাকে প্রধানত দু-ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 1. সরল পত্র বা একক পত্র, 2. যৌগিক পত্র।

1. সরল বা একক পত্র কাকে বলে :

অখন্ডিত বা আংশিক খন্ডিত ফলকযুক্ত পাতাকে সরল বা একক পত্র বলে। উদাহরণ- আম, জবা, বট ইত্যাদির পাতা। একক পত্রকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-  A. পক্ষল একক পত্র ও B. করতলাকার একক পত্র।

A. পক্ষল একক পত্র : একক পত্রের ফলকে যখন একটিমাত্র মধ্যশিরা থাকে তখন তাকে পক্ষল একক পত্র বলে। খন্ডনের গভীরতা অনুসারে এই পাতাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

i. পক্ষল খন্ডিত : ফলকের খণ্ডনের গভীরতার দূরত্ব ফলকের কিনারা থেকে মধ্যশিরা পর্যন্ত দূরত্বের অর্ধেক কম হয়। উদাহরণ- চন্দ্রমল্লিকা

ii. পক্ষল উপখন্ডিত : ফলকের খণ্ডনের গভীরতার দূরত্ব ফলকের কিনারা থেকে মধ্যশিরা পর্যন্ত দূরত্বের অর্ধেক হয়। উদাহরণ- শিয়ালকাঁটা ।

iii. পক্ষল অতিখন্ডিত : ফলকের খন্ডনের গভীরতার দূরত্ব ফলকের কিনারা থেকে মধ্যশিরা পর্যন্ত দূরত্বের অর্ধেকের বেশি বা প্রায়
মধ্যশিরা পর্যন্ত হয়। উদাহরণ- গাঁদা ।

B. করতলাকার একক পত্র : একক পত্রফলকে যখন একাধিক মধ্যশিরা থাকে তখন তাকে করতলাকার একক পত্র বলে। খন্ডনের গভীরতা অনুসারে এই পাতাকেও তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

i. করতলাকার খন্ডিত : ফলকের খন্ডনের গভীরতা ফলকের কিনারা থেকে বৃত্তের দূরত্বের অর্ধেক অপেক্ষা কম হয়। উদাহরণ- ট্যাড়শ ।

ii. করতলাকার উপখন্ডিত : ফলকের খন্ডনের গভীরতা ফলকের কিনারা থেকে বৃত্তের দূরত্বের অর্ধেক পর্যন্ত হয়। উদাহরণ- রেড়ি ।

iii. করতলাকার অতিখন্ডিত : ফলকের খন্ডনের গভীরতা ফলকের কিনারা থেকে বৃত্তের দূরত্বের অর্ধেকের অধিক বা প্রায় বৃত্ত পর্যন্ত হয়। উদাহরণ- ট্যাপিওকা ।

2. যৌগিক পত্র কাকে বলে :

পত্রফলকের কিনারা যখন গভীরভাবে কর্তিত হয়ে মধ্যশিরা বা বৃত্ত পর্যন্ত পৌঁছোয়, ফলে ফলক অনেকগুলি পৃথক খন্ডিতত অংশে অর্থাৎ অনুফলকে বা পত্রকে বিভক্ত হয়, তখন সেইপ্রকার পাতাকে যৌগিক পত্র বা যৌগপত্র বলে। উদাহরণ- তেঁতুল, গোলাপ, নিম, বেল প্রভৃতি পাতা।

যৌগিক পত্ৰ প্ৰধানত দু-প্রকারের হয়, যথা-  A. পক্ষল যৌগিক পত্র, B. করতলাকার যৌগিক পত্র।

A. পক্ষল যৌগিক পত্র : যৌগিক পত্রের পত্রকগুলি যখন পত্রক-অক্ষের দুপাশে পাখির পালকের মতো সাজানো থাকে,
তখন সেইপ্রকার যৌগিক পত্রকে পক্ষল যৌগিক পত্র বলে। পক্ষল যৌগিক পত্র চার প্রকারের হয়, যথা-

i. একপক্ষল : ফলকটি যখন একবারমাত্র কর্তিত হয়, ফলে একটি মাত্র পত্র- অক্ষের সৃষ্টি হয় এবং অনুফলকগুলি পত্রক-অক্ষের দু-পাশে সজ্জিত থাকে। একপক্ষল যৌগিক পত্র দু-রকমের হয়। যথা-

a. অচূড় পক্ষল : পত্রক-অক্ষের অগ্রভাগে যখন একজোড়া পত্রক থাকে। যেমন- তেঁতুল , কালকাসুন্দা ইত্যাদির পাতা।

b. সচূড় পক্ষল : পত্রক-অক্ষের অগ্রভাগে যখন বিজোড় সংখ্যায় বা একটিমাত্র পত্রক থাকে। যেমন- গোলাপ, অপরাজিতা, নিম ইত্যাদির পাতা।

ii. দ্বিপক্ষল : এই ধরনের যৌগিক পত্রের ফলকটি দু-বার কর্তিত হয়, অর্থাৎ একপক্ষলের পত্রকগুলি পুনরায় কর্তিত হয় ; ফলে পত্রক-অক্ষ থেকে শাখা-পত্রক অক্ষের সৃষ্টি হয় এবং পত্রকগুলি শাখা পত্রক-অক্ষের দু-পাশে সাজানো থাকে। উদাহরণ- বাবলা, লজ্জাবতীর পাতা।

iii. ত্রিপক্ষল : এক্ষেত্রে ফলকটির কর্তন তিনবার হয়, ফলে শাখা পত্রক-অক্ষ থেকে প্রশাখা পত্রক-অক্ষ উৎপন্ন হয় এবং এই প্রশাখা পত্রক-অক্ষের দুপাশে পত্রকগুলি সাজানো থাকে। যেমন- সজিনা পাতা।

iv. অতিযৌগিক : এক্ষেত্রে ফলকটি তিনবারের বেশি কর্তিত হয়। ফলে প্রশাখা পত্রক-অক্ষ বহু শাখা অংশে বিভক্ত হয়। উদাহরণ- ধনে, মৌরি ইত্যাদির পাতা।

B. করতলাকার যৌগিক পত্র : যৌগিক পত্রের পত্রকগুলো যখন বৃত্তের অগ্রভাগে একটি বিন্দুতে যুক্ত থাকে এবং দেখতে করতলের মতো হয়, তখন সেই রকম যৌগিক পত্রকে করতলাকার যৌগিক পত্র বলে। পত্রকের সংখ্যা অনুসারে যৌগিক পত্র নিম্নলিখিত প্রকারের-

i. একফলক : বৃত্তের অগ্রভাগে যখন একটিমাত্র পত্রক অবস্থান করে। উদাহরণ- লেবু পাতা।

ii. দ্বিফলক : বৃত্তের অগ্রভাগে একই বিন্দুতে দুটি পত্রক যুক্ত থাকে। উদাহরণ- অঞ্জন, হিজ্ঞান ইত্যাদির পাতা।

iii. ত্রিফলক : এক্ষেত্রে বৃত্তের অগ্রভাগে একই বিন্দুতে সংযুক্ত তিনটি পত্রক বর্তমান। উদাহরণ- বেল, আমরুল ইত্যাদি।

iv. চতুর্ফলক : বৃত্তের অগ্রভাগে চারটি পত্রক একই বিন্দুতে যুক্ত থাকে। উদাহরণ- শুশনি শাকের পাতা, প্যারিস গাছের পাতা।

v. অঙ্গুলাকার : বৃত্তের অগ্রভাগে চারের অধিক পত্রক একই বিন্দুতে যুক্ত থাকে। উদাহরণ- শিমুল পাতা, ঘোড়া বাদাম পাতা।

আরও পড়ুন :

পাতা কাকে বলে ? পাতার বৈশিষ্ট্য, কার্যাবলি ও অঙ্গসংস্থান ?

Leave a Comment