বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান কাকে বলে এবং প্রদর্শন

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান কাকে বলে এবং প্রদর্শন

বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান : সুপ্রিয় পাঠকগন আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান কাকে বলে এবং বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টানের প্রদর্শন সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান :

পত্ররন্ধ্রের মাধমে উদ্ভিদদেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পমোচন  বলে। পত্ররন্দ্র ছাড়াও উদ্ভিদ ত্বক ও লেন্টিসেলের মাধ্যমেও সামান্য পরিমাণ বাষ্পমোচন হয়।

মূল দ্বারা শোষিত জল ঊর্ধ্বমুখী সংবহনের ফলে পাতার মেসোফিল কলায় এসে পৌঁছায়। মেসোফিল কলায় জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব পাতাসংলগ্ন বায়ুমন্ডলের জলীয় বাষ্পের ঘনত্বের চেয়ে বেশি হওয়ায় পত্ররন্ধ্রের মাধমে জল বাষ্পাকারে নির্গত হয়। এই কারণে মেসোফিল কলার কোষগুলিতে ব্যাপন চাপ ঘাটতি বেড়ে যায় বা জল বিভব কমে যায়। দেখা গেছে যে বৃক্ষের ওপরের দিকের পাতায় বাষ্পমোচনের ফলে জল বিভব 30 বার পর্যন্ত কমে যায়। প্রোটোপ্লাজমে জলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য মেসোফিল কলার কোশ নিকটবর্তী জাইলেম বাহিকা থেকে জল শোষণ করতে থাকে ও ফলস্বরূপ জাইলেম বাহিকায় একটি চোষণ চাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপের ফলেই খনিজ লবণমিশ্রিত জল মূল থেকে জাইলেম বাহিকার মাধ্যমে ঊর্ধ্বমুখে পরিবাহিত হয় যাকে রসের উৎস্রোত বলে। বাষ্পমোচনের ফলে মেসোফিল কলায় যে ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা যায় তা জাইলেম বাহিকায় যে বিশেষ চোষণ চাপ সৃষ্টি করে মূল থেকে খনিজ লবণমিশ্রিত জলকে ঊর্ধ্বমুখে পরিবাহিত করে, তাকে বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান বলে।

বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান কাকে বলে :

উদ্ভিদের মাটি থেকে শোষিত অতিরিক্ত জল বাষ্পমোচন প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাষ্পাকারে নির্গত হয়। বাষ্পমোচনের সময় জল ও রসের স্তরটি দৈর্ঘ্যটানের বশবর্তী হয়ে ওপরের দিকে বাহিত হয়। বাষ্পমোচনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ওই প্রকার দৈর্ঘ্যটানকে প্রস্বেদন টান বা ট্রান্সপিরেশন পুল বলে।

বিজ্ঞানী ডিক্সন ও জলি প্রস্বেদন টান বা বাষ্পমোচন টানকেই রসের উৎস্রোতের মুখ্য কারণ বলে ব্যাখ্যা করেন। তাদের মতবাদ অনুসারে i. মূলজ চাপের মাত্রা প্রায় 2 বায়ুমন্ডলীয় চাপের সমান হয় যা উঁচু গাছের অগ্রভাগে জলস্তম্ভকে ঠেলে তুলতে পারে না। কিন্তু বাষ্পমোচন টানের ফলে আনুমানিক 20 বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সৃষ্টি হয় যা সর্বোচ্চ উদ্ভিদের অগ্রভাগেও জল সংবহন করতে পারে। ii. এটি সম্পূর্ণ ভৌত প্রক্রিয়া এবং কোনো বিপাকীয় শক্তির ওপর নির্ভর করে না।

প্রস্বেদন টানের প্রদর্শন :

উপকরণ : i. 50-100 cm দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি দীর্ঘ কাচনল, ii. রবার নল, iii. জলের নীচে কাটা একটি তাজা পত্রসহ উদ্ভিদাংশ, iv. বায়ুমুক্ত জল, v. পারদ, vi. বিকার এবং vii. স্ট্যান্ড ও ক্ল্যাম্প।

পরীক্ষা পদ্ধতি :

i. লম্বা নলটি বায়ুমুক্ত জল দিয়ে ভর্তি করা হল।
ii. বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কাচনলের একটি মুখ চেপে ধরে অপর মুখে এক টুকরো পুরু রবার নল লাগাতে হবে।
iii. নলের মধ্যে কাণ্ডের কাটা অংশটি এমনভাবে প্রবেশ করতে হবে যাতে বায়ু চলাচল করতে না পারে।
iv. কাচনলের অন্য প্রান্তটিকে একটি পারদপূর্ণ বিকারে রেখে হাত সরিয়ে নিয়ে নলটিকে ক্ল্যাম্প ও স্ট্যান্ডে আটকে রাখতে হবে। নলটিকে উলম্বভাবে রাখতে হবে। এই অবস্থায় সমগ্র যন্ত্রটিকে আলো বাতাসপূর্ণ স্থানে কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থির ভাবে রেখে দিতে হবে।

পর্যবেক্ষণ : কিছুক্ষণ পরে পারদস্তম্ভকে কাচনলের ওপরে উঠতে দেখা যাবে।

ফলাফল : পারদের ঊর্ধ্বগতি থেকে প্রমাণিত হয় নলের মধ্যের জলের টান সৃষ্টি হয়েছে। তার ফলে জলের টান দ্রুততার সঙ্গে ওপরের দিকে উঠেছে। টানের ফলে পারদের ঊর্ধ্বগতি সম্ভব হয়েছে। নচেৎ পারদ জলের থেকে 13.6 গুণ ভারি এবং ওপরের দিকে নিজে নিজে উঠতে পারে না। পাতায় বাষ্পমোচন হওয়ার জন্য যে প্রস্বেদন টানের সৃষ্টি হয় তার ফলেই জল ও পারদ ওপরের দিকে উঠেছে।

সতর্কতা : i. উদ্ভিদের কাণ্ড জলের নীচে কাটতে হবে। ii. বায়ুবিহীন জল ব্যবহার করতে হবে। iii. সন্ধিস্থলে ভেসলিন দিয়ে বায়ু নিরুদ্ধ করতে হবে। iv. প্রশস্ত পাতা যুক্ত গাছ নিতে হবে।

আরও পড়ুন :

অভিস্রবণ কাকে বলে এবং প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও শর্তাবলি ?

বাষ্পমোচন কাকে বলে ? বাষ্পমোচনের স্থান, সময়, প্রকারভেদ, গুরুত্ব ? 

Leave a Comment