তোমার প্রিয় কবি

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

তোমার প্রিয় কবি

তোমার প্রিয় কবি : সুপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা আজকে তোমাদের সাথে আলোচনা করলাম তোমার প্রিয় কবি প্রবন্ধ রচনাটি সম্পর্কে। চলুন দেখে নেওয়া যাক আজকের বিস্তৃত আলোচনা তোমার প্রিয় কবি রচনাটি।

তোমার প্রিয় কবি :

ভূমিকা :

একজন মানুষের ভালোলাগা খারাপ লাগা তার ব্যক্তিগত অনুভূতির ব্যাপার। ব্যক্তিগত অনুভূতির মানদণ্ডেই সে ঠিক করে নেয় কাকে কখন গ্রহণ করবে আর কাকেই বা বর্জন করবে। কাজেই আমার প্রিয় কবি একান্তই আমার নিজের নির্বাচিত কবি । আমার প্রিয় কবি শুধু নগরসভ্যতার নাগরিক কবি নন , আবার নিরাভরণ গ্রামবাংলার শুধু প্রকৃতিপ্রেমিক কবিও নন , তাঁর কবিতায় যেমন প্রেম আছে তেমনি অপ্রেমের কথাও তিনি বলেন , ভালোবাসার পাশাপাশি রণরক্ত সফলতা তাঁর কবিতাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে । বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ আমার প্রিয় কবি।,

ছাত্রজীবন :

জীবনানন্দের জন্ম 1899 খ্রিস্টাব্দের 23 ফেব্রুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালে। বাবার নাম সর্বানন্দ দাশ , মা লেখিকা কবি কুসুমকুমারী দাশ। 1908 সালে ব্রজমোহন স্কুলে ভরতি হন । 1915 খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন । পরে 1919 – এ প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ পাশ করে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি হন । 1921 – এ এখান থেকেই ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাশ করেন।

কর্মজীবন :

কর্মজীবন শুরু করেন 1922 সালে । সিটি কলেজে অধ্যাপনা করেন 1928 সাল পর্যন্ত। পরে বিভিন্ন সময়ে খুলনা জেলার বাগেরহাট কলেজে , দিল্লির রামযশ কলেজে , খড়গপুর কলেজে , বড়িশা কলেজে পড়ান। অবশেষে 1953 সালের জুলাই থেকে হাওড়া গার্লস কলেজে আমৃত্যু অধ্যাপনা করেন।

জীবনানন্দের কাব্যচর্চা :

জীবনানন্দ দাশের মুদ্রিত কবিতা ‘ বর্ষ আবাহন ’ সত্যানন্দ সম্পাদিত ‘ ব্রষ্মবাদী ‘ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । নিয়মিত লেখা শুরু করেন 1924-25 থেকে কল্লোল, কালিকলম, প্রগতি, পরিচয়, কবিতা, চতুরঙ্গ, পূর্বাশা প্রভৃতি নানা পত্রপত্রিকায় লিখতেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ ঝরাপালক ’ প্রকাশিত হয় 1927 সালে। পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয়েছে ‘ ধূসর পাণ্ডুলিপি ‘ ( 1936 ) , ‘ বনলতা সেন ‘ ( 1942 ) , ‘ মহাপৃথিবী ‘ ( 1944 ) , ‘ সাতটি তারার তিমির ‘ ( 1948 ) , ‘ রূপসী বাংলা ‘ ( 1957 ) , ‘ বেলা অবেলা কালবেলা ‘ ( 1961 ) প্রভৃতি।

জীবনানন্দের স্বাতন্ত্র্য :

রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক কালে বাংলা কবিতা মুক্তির পথ খুঁজছিল । খানিকটা অসচেতনভাবে নজরুল ইসলাম , মোহিতলাল মজুমদার এবং যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রবীন্দ্র কাব্যকলাকে পাশে সরিয়ে রেখে যে কবিতা লেখা যায় তার একটা মেঠো রাস্তা দেখিয়েছিলেন । এক ব্যতিক্রমী কাব্যসাধনা শুরু করলেন এঁরা । এঁদের এই ব্যতিক্রমী কাব্যসাধনা পরিণতি পেল সুধীন্দ্রনাথ দত্ত , অমিয় চক্রবর্তী , বুদ্ধদেব বসু , বিষ্ণু দে এবং জীবনানন্দ দাশের মধ্যে । এঁদের মধ্যে জীবনানন্দ একেবারেই পঞ্চম কবি ।

জীবনানন্দের কাব্যে যেমন রূপ – রস – গন্ধকে অনুভব করা যায় , তেমনি লক্ষ করা যায় তাঁর ইতিহাস সচেতনতা , সমাজ সচেতনতা । আর আছে মৃত্যুচেতনাজাত এক ধরনের নাগরিক বিচ্ছিন্নতাজনিত যন্ত্রণা , ফলে এক ধরনের আত্মিক সংকট তাঁর মধ্যে আমরা লক্ষ করি। এই যন্ত্রণার নাম কবি কখনও দিয়েছেন বোধ , কখনও – বা দিয়েছেন ‘ বিপন্ন বিস্ময় ‘ । আর এভাবেই বাস্তবতা ছাড়িয়ে পরাবাস্তবতার হাত ধরে জীবনানন্দ নতুন আধুনিকতার জন্ম দিলেন।

কি করণে প্রিয় কবি :

জীবনানন্দের কবিতায় আন্তর্জাতিক চেতনা , ইতিহাসবোধ , পৌরাণিক অনুভূতি থাকলেও তিনি ভুলে যাননি তাঁর দেশ – মাটি – মানুষের কথা । এই সুজলা – সুফলা বাংলা , এই শ্যামল বনছায়া , এই বাংলার লখিন্দর , বেহুলার গল্প , গাঙুড়ের নীল জল , কিশোরীর চাল ধোয়া হাতের গন্ধ , লাল ফুল , দোয়েল – ফিঙের নাচ — সবই উঠে আসে তাঁর কবিতায় । এখানেই জীবনানন্দ হয়ে ওঠেন বাঙালির কবি । আর একারণেই জীবনানন্দ আমার এত প্রিয় কবি।

মূল‍্যায়ন :

শতাব্দীর ব্যবধানে দাঁড়িয়ে আজ নজরুল ইসলামকে ( 1899 ) মনে হয় পুরোনো দিনের কবি , সুধীন্দ্রনাথ , বিষ্ণু দে – কে মনে হয় শিক্ষিতজনের কবি। কিন্তু জীবনানন্দ আপামর বাঙালির কবি । জীবনানন্দকে ‘ তাই আমাদের বহন করতে হয় না , তিনিই আমাদের বহন করে নিয়ে চলেন দুঃখ থেকে সুখে , সুখ থেকে আনন্দে , আনন্দ থেকে সাহিত্যরসের অমৃতলোকে।

আরও পড়ুন : শীতের সকাল রচনা

Leave a Comment