প্রধান মূল বা স্থানিক মূল কাকে বলে ? প্রধান মূল বা স্থানিক মূলের অঙ্গসংস্থান

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

প্রধান মূল বা স্থানিক মূল কাকে বলে : সুপ্রিয় ছাত্রছাত্রীরা আজকের এই পর্বটিতে আলোচনা করলাম প্রধান মূল বা স্থানিক মূল কাকে বলে এবং প্রধান মূল বা স্থানিক মূলের অঙ্গসংস্থান সম্পর্কে।

প্রধান মূল বা স্থানিক মূল কাকে বলে ? প্রধান মূল বা স্থানিক মূলের অঙ্গসংস্থান

◆প্রধান মূল বা স্থানিক মূল কাকে বলে :

ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন শাখাপ্রশাখাযুক্ত স্থায়ী মূলকে প্রধান মূল বা স্থানিক মূল বলে।

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজমধ্যস্থ ভ্রূণমূল বা র‍্যাডিকল-টি বৃদ্ধি পেয়ে যখন মাটিতে প্রবেশ করে তখন সেটিকে প্রাথমিক মূল বলে। প্রাথমিক মূল ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে শাখাপ্রশাখাযুক্ত হয়ে যে দৃঢ় মূল গঠন করে, তাকে প্রধান মূল বলে । প্রধান মূল সরাসরি ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন হয় বলে একে স্থানিক মূল বা প্রকৃত মূল বা সাধারণ মূল বলে। প্রধান মূল থেকে নির্গত শাখাকে শাখা মূল এবং শাখা মূল থেকে নির্গত মূলকে প্রশাখা মূল বলে। প্রধান মূল এবং তার থেকে সৃষ্ট শাখাপ্রশাখার সমন্বয়ে সৃষ্ট মূল তন্ত্রকে প্রধান মূল তন্ত্র বলে।

উদাহরণ : আম, জাম, কাঁঠাল, বট, লাউ, কুমড়ো প্রভৃতি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রধান মূল বর্তমান ।

◆স্থানিক বা প্রধান মূলের অঙ্গসংস্থান :

একটি স্থানিক মূলকে ভালো করে লক্ষ করলে নিম্নলিখিত পাঁচটি অংশ বা অঞ্চল দেখা যায়।

i. মূলত অঞ্চল :

মূলের নরম অগ্রভাগে যে টুপির মতো একটি ঢাকনা থাকে, তাকে মূলত্র বা মূলত্রাণ বলে। মূলের মূলত্র সংলগ্ন অঞ্চলটিকে মূলত্র অঞ্চল বলে। জলজ ও পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ ব্যতীত প্রায় সকল উদ্ভিদে এই অংশটি দেখা যায়। প্রোটোডার্ম নামক ভাজক কলা থেকে মূলত্র অঞ্চল গঠিত হয়।

মূলত্র সাধারণত একস্তর বিশিষ্ট হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যেমন- কেয়া (Pan- dams odoratissimus) গাছের মূলত্রটি বহুস্তর বিশিষ্ট হয়। এইপ্রকার মূলত্রকে বহুযোজী মূলত্র বলে। জলজ উদ্ভিদের মূলকে কঠিন মাটি ভেদ করতে হয় না বলে তাদের মূলত্র থাকে না; এর পরিবর্তে মূলাধার বা মূলজেব বা মূল পকেট থাকে। কচুরিপানা, টোপাপানা, লেমনা প্রভৃতি উদ্ভিদে মূলাধার লক্ষ করা যায়। মূলের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো মূলত্র নষ্ট হয়ে নতুন মূলত্র জন্মায় ।

কাজ : মূলত্র মূলের অগ্রভাগের নরম অংশকে রক্ষা করে। মূল যখন মাটি ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করে তখন মূলত্র মূলের নরম অগ্রভাগকে মাটির ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে রক্ষা করে। তা ছাড়া মূলত্রের বাইরের অংশ থেকে নিঃসৃত পিচ্ছিল রস মূলকে সহজেই মাটিতে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

ii. বিভাজন অঞ্চল বা কোশ সৃষ্টিকারী অঞ্চল :

মূলত অঞ্চল পরিবেষ্টিত মূলের অগ্রভাগের ভাজক কলা নিয়ে গঠিত অঞ্চলটিকে বিভাজন অঞ্চল বা কোশ সৃষ্টিকারী অঞ্চল বলে। এই অঞ্চলের কোশগুলি পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট, ঘন সাইটোপ্লাজমপূর্ণ ও বৃহৎ নিউক্লিয়াসযুক্ত হয়। এই অঞ্চলের কোশগুলি ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে নতুন কোশ সৃষ্টি করে।

কাজ : এই অঞ্চলের কোশগুলি ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে মূলের কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

iii. বর্ধিষ্ণু অঞ্চল :

বিভাজন অঞ্চলের ঠিক ওপরে অবস্থিত অঞ্চলটিকে বর্ধিষ্ণু বা বর্ধনশীল অঞ্চল বলে। এই অঞ্চলের কোশগুলি আকার ও আয়তনে বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়।

কাজ : বর্ধিষ্ণু অঞ্চল মূলের বৃদ্ধি ঘটায়।

iv. মূলরোম অঞ্চল :

বর্ধিষ্ণু অঞ্চলের ওপরে অবস্থিত রোমবিশিষ্ট নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের অঞ্চলটিকে মূলরোম অঞ্চল বলে। এই অঞ্চলের চারপাশ থেকে অসংখ্য এককোশী রোম জন্মায়, এদের মূলরোম বলে। মূলরোম ক্ষণস্থায়ী ; মূল বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো মূলরোম নষ্ট হয়ে নতুন মূলরোম সৃষ্টি হয়।

কাজ : মূলরোম মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে এবং উদ্ভিদকে মাটির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে।

v. স্থায়ী অঞ্চল :

মূলরোম অঞ্চলের ওপরের থেকে শুরু করে কাণ্ডের ঠিক নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটিকে স্থায়ী অঞ্চল বলে। এই অঞ্চলের কোশগুলির বিভাজন ক্ষমতা না থাকার ফলে কোশগুলি স্থায়ী কলায় পরিণত হয়। এই অঞ্চলে পরিচক্র থেকে শাখা মূল উৎপন্ন হয়।

কাজ : শাখাপ্রশাখা মূল উৎপন্ন করা এই অঞ্চলের প্রধান কাজ। এ ছাড়া শাখাপ্রশাখার সাহায্যে উদ্ভিদকে মাটির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখা এবং মূলরোম দ্বারা শোষিত জল ও খনিজ লবণকে কাণ্ডে প্রেরণ করা।

আরও পড়ুন :

মূল কাকে বলে ? মূলের বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ ও কাজ ? 

1 thought on “প্রধান মূল বা স্থানিক মূল কাকে বলে ? প্রধান মূল বা স্থানিক মূলের অঙ্গসংস্থান”

Leave a Comment