সন্ধি কাকে বলে ? সন্ধির প্রকারভেদ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

সন্ধি কাকে বলে ? সন্ধির প্রকারভেদ

সন্ধি কাকে বলে :

সন্ধি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো মিলন । পাশাপাশি দুটি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনকে বলা হয় সন্ধি । যেমন- বিদ‍্যা+আলয় = বিদ‍্যালয় , হিম+আলয় =হিমালয় প্রভৃতি ।

অপর আর এক ভাবে সন্ধি কাকে বলে বলতে গেলে, পাশাপাশি দুটি বর্ণের এক বর্ণে মিলিত হওয়াকে সন্ধি বলা হয় ।

সন্ধির প্রকারভেদ :

সন্ধি সাধারণত তিন প্রকারের যথা- ১. স্বরসন্ধি ২. ব্যঞ্জন সন্ধি এবং ৩. বিসর্গ সন্ধি ।

তথ‍্য : weekipedia

🔵 স্বরসন্ধি কাকে বলে : স্বরবর্ণের সঙ্গে স্বরবর্ণের মিলনে যে সন্ধি সংঘটিত হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে ।

১. অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়। আ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

অ + অ = আ : হিত + হিত = হিতাহিত, হিম + অদ্রি = হিমাদ্রি, শুভ+ অনুধ্যায়ী = শুভানুধ্যায়ী, চরণ + অমৃত = চরণামৃত, বেদ + অন্ত = বেদান্ত, পার+ অবার = পারাবার, অপর + অহ্ন = অপরাহ্ন।

আ + অ = আ: আশা + অতিরিক্ত= আশাতিরিক্ত,
যথা + অর্থ = যথার্থ, বিদ্যা + অর্জন = বিদ্যার্জন, পূজা + অৰ্চনা = পূজার্চনা।

আ + আ = আ: মহা + আশয় = মহাশয়, বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, তন্দ্রা + আচ্ছন্ন = তন্দ্রাচ্ছন্ন, পরীক্ষা + আগার  পরীক্ষাগার।

২. ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে ঈ-কার হয়। ঈ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

ই + ই = ঈ : মণি + ইন্দ্ৰ = মনীন্দ্র, অতি + ইত = অতীত, প্রতি + ইতি = প্রতীতি। অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্ৰিয়।

ই + ঈ = ঈ :কবি + ঈশ = কবীশ, গিরি + ঈশ = গিরীশ, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা, অধি + ঈশ = অধীশ।

ঈ + ই = ঈ : যোগী + ইন্দ্ৰ = যোগীন্দ্র, যতী + ইন্দ্ৰ = যতীন্দ্র, রথী + ইন্দ্র = রথীন্দ্র, সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্ৰ

৩. উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয় মিলে উ-কার হয়। সেই ঊ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

উ+ উ = উ : মৃত্যু + উত্তীর্ণ = মৃত্যুতীর্ণ,

উ + উ = উ: বধূ + উৎসব = বধূৎসব, ভূ + উত্থিত = ভূখিত, বধূ + উদয় = বধূদয়,

উ + উ = উ: সরযূ + ঊর্মি = সরযূমি, ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

৪. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ভবর্ণে যুক্ত হয়।

অ + ই = এ: ঘ্রাণ + ইন্দ্রিয় = ঘ্রাণেন্দ্রিয়, স্ব + ইচ্ছায় = স্বেচ্ছায়, শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, পূর্ণ + ইন্দু = পূর্ণেন্দু

অ+ ঈ = এ: পরম+ ঈশ = পরমেশ, প্রাণ + ঈশ = প্রাণেশ,অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষা, হৃষীক + ঈশ = হৃষীকেশ, রাজ্য + ঈশ্বর =রাজ্যেশ্বর।

আ+ ই = এ: যথা+ ইচ্ছা = যথেচ্ছা, যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট, রসনা + ইন্দ্রিয় = রসনেন্দ্রিয়, মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র ।

আ+ ঈ = এ: মহা+ঈশ = মহেশ, মহা+ ঈশ্বর = মহেশ্বর, মহা + ঈশাণ = মহেশাণ, রমা + ঈশ = রমেশ ।

৫. অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয় মিলে ও-কার হয়। ও-কার পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।

অ + উ = ও: পর + উপকারী
= পরোপকারী, সময় + উপযোগী = সময়োপযোগী, পাদ + উদক = পাদোদক, পর + উপকারী = পরোপকারী।

আ + উ = ও: যথা + উচিত = যথোচিত, মহা + উপকার =
মহোপকার, দুর্গা + উৎসব = দুর্গোৎসব, স্বাধীনতা + উত্তর =
স্বাধীনোত্তর, গঙ্গা + উদক = গঙ্গোদক। আ+ উ = ওঃ নর্মদা + ঊর্মি = নর্মদোমি ইত‍্যাদি ।

🔵 ব্যঞ্জন সন্ধি কাকে বলে  : ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ব্যঞ্জনবর্ণের অথবা স্বরবর্ণের মিলনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে । যেমন- পরি+ছেদ= পরিচ্ছেদ, দিক+অন্ত=দিগন্ত ।

১. স্বরবর্ণ, বর্গের ৩য় বা ৪র্থ বর্ণ কিংবা য্, র্, ল, ব্, হ্ পরে থাকলে পূর্ভপদের ক্ স্থানে গ্, চ-স্থানে জ্, ট স্থানে ড্ এবং প্ স্থানে ব হয় । যেমন – বাক্ + ঈশ্বরী = বাগীশ্বরী, পৃথক + অন্ন = পৃথগন্ন, দিক্ + অন্ত = = + দিগন্ত, দিক্ + বিজয়ী = দিগ্বিজয়ী, দিক্ + গজ = দিগ্‌গজ  ইত‍্যাদি ।

২. স্বরবর্ণ, গ, ঘ, দ, ধ, ব, ভ কিংবা য, র, ব পরে থাকলে পূর্বপদের ত্ বা দ স্থানে দ হয়। যেমন- বিপদ + আপন্ন = বিপদাপন্ন, জগৎ + অতীত = জগম্ভীত, জগৎ + আনন্দ = জগদানন্দ, জগৎ + ঈশ্বর = বিদ্যুৎ + বেগে = বিদ্যুবেগে, উদ্ + ভিদ= উদ্ভিদ, সৎ + আশয় = সদাশয়, ভগবৎ + গীতা = ভগবদ্গীতা ইত‍্যাদি ।

৩. ত্ বা দ্ এরপর চ্ কিংবা ছ থাকলে পূর্বপদের ত্/দ স্থানে চ্ হয়। যেমন – উদ + চারণ = উচ্চারণ, সৎ + চরিত্র = সচ্চরিত্র, চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র, উদ্ + ছেদ = উচ্ছেদ, শরৎ + চন্দ্র = শরচ্চন্দ্ৰ ইত‍্যাদি ।

৪. ত্ বা দ্ এরপর জ কিংবা ঝ থাকলে পূর্বপদের ত্ বা দ স্থানে জ হয়। যেমন – যাবৎ + জীবন = যাবজ্জীবন, জগৎ + জননী = জগজ্জননী, জগৎ + জীবন = জগজ্জীবন, বিদ্বৎ + জন = বিশ্বজন ইত্যাদি ।

🔵 বিসর্গ সন্ধি কাকে বলে : স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের  সহিত বিসর্গের মিলনে যে সন্ধি সংঘটিত হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে ।

যেমন- মনঃ + চক্ষু = মনশ্চক্ষু, শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ, নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্ৰ, চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়, ইতঃ + ততঃ = ইতস্ততঃ, মনঃ + তাপ = মনস্তাপ, নিঃ + তার = নিস্তার, ততঃ + অধিক = ততোধিক, মনঃ + অভিলাষ = মনোভিলাষ, তপঃ + বন = তপোবন, সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত, বয়: + বৃদ্ধ = বয়োবৃদ্ধ, মনঃ + যোগ = মনোযোগ, অন্তঃ + নিহিত = অন্তর্নিহিত, অন্তঃ + গত = অন্তর্গত, অন্তঃ + হিত = অন্তর্হিত, নিঃ + আকার = নিরাকার, নিঃ + অর্থক = নিরর্থক, দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা, দুঃ + অভিমান = দুরভিমান, আশীঃ + বাদ = আশীবাদ, নিঃ + রব = নীরব, চক্ষুঃ + রত্ন = চক্ষুরত্ব, নিঃ + রক্ত = নীরক্ত, পুরঃ + কার = পুরস্কার, নিঃ + প্রয়োজন = নিষ্প্রয়োজন, আবিঃ + কার = – আবিষ্কার, চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ, মনঃ + পীড়া = মনঃপীড়া ইত‍্যাদি।

🔵 নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কাকে বলে : যে সমস্ত সন্ধি ব্যাকরণ এর নিয়ম কে ফলো করে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে ।

যেমন- গো+ অক্ষ = গবাক্ষ, কুল + অটা = কুলটা, সম + অর্থ = সমর্থ,  অক্ষ + ঊহিণী অক্ষৌহিণী, সীমন্‌ + অন্ত = সীমন্ত। 1 দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক, আ + চর্য = আশ্চর্য, বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি, পর + পর = পরস্পর, বন + পতি = বনস্পতি, হিনস্ + অ = সিংহ, পুস্ + লিঙ্গ = পুংলিঙ্গ ইত্যাদি ।

আরও পড়ুন ● Read More : 

🔻 সমাস কাকে বলে এবং প্রকারভেদ

🔻 বর্ণ কাকে বলে এবং প্রকারভেদ

🔻 কারক কাকে বলে এবং প্রকারভেদ 

🔻 শব্দ কাকে বলে এবং প্রকারভেদ 

সন্ধি কাকে বলে থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :

1. ব্যঞ্জন সন্ধি কত প্রকার ?

উ: তিন প্রকার

2. বিসর্গ সন্ধি কত প্রকার ও কি কি ?

উ: দুই প্রকার যথা- ১. স- জাত বিসর্গ ২. র- জাত বিসর্গ

3. তৎসম সন্ধি কত প্রকার ও কি কি ?

উ: তিন প্রকার যথা- স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জন সন্ধি, ও বিসর্গ সন্ধি

4. খাঁটি বাংলা সন্ধি কাকে বলে ?

উ: যখন দুটি খাঁটি বাংলা শব্দ পর পর উচ্চারণ হয় তাকে খাঁটি বাংলা সন্ধি বলে ।

Leave a Comment