অভিস্রবণ কাকে বলে ? অভিস্রবণের প্রকারভেদ, গুরুত্ব এবং শর্তাবলি

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

অভিস্রবণ কাকে বলে ? অভিস্রবণের প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও শর্তাবলি

 সুপ্রিয় পাঠকগন আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা অভিস্রবণ কাকে বলে এবং অভিস্রবণের গুরুত্ব, প্রকারভেদ ও শর্তাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

নীচে অভিস্রবণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

অভিস্রবণ কাকে বলে :

অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক দুটি সমপ্রকৃতির অসম ঘনত্বের দ্রবণের দ্রাবক অণুর অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে প্রবেশ করাকে অভিস্রবণ বলে।

অভিস্রবণের প্রকারভেদ :

অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জল কোশের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে আবার জল বেরিয়ে যেতেও পারে। এই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে অভিস্রবণ নিম্নলিখিত প্রকারের হয়, যথা- i. অন্তঃঅভিস্রবণ ii. বহিঃঅভিস্রবণ iii. কোশান্তর অভিস্রবণ iv. বিপরীত অভিস্রবণ ।

i. অন্তঃঅভিস্রবণ কাকে বলে : পরিবেশের দ্রবণের ঘনত্ব কোশীয় দ্রবণের ঘনত্ব অপেক্ষা কম হলে পরিবেশ থেকে জল কোশপর্দা ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করে, একে অন্তঃঅভিস্রবণ বলে। অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে কোশ রসস্ফীত হয় ও আয়তনে বৃদ্ধি পায়।

ii. বহিঃঅভিস্রবণ কাকে বলে : পরিবেশের দ্রবণের ঘনত্ব কোশীয় দ্রবণের ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি হলে কোশ থেকে জল কোশপর্দা ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে, একে বহিঃঅভিস্রবণ বলে। বহিঃঅভিস্রবণ ঘটার ফলে কোশের সাইটোপ্লাজম সংকুচিত হয় এবং আয়তনে হ্রাস পায় ।

iii. কোশান্তর অভিস্রবণ কাকে বলে : জীবদেহের অভ্যন্তরে সব কোশের ঘনত্ব সমান নয়, ফলে অভিস্রবণের মাধ্যমে কোশ থেকে কোশান্তরে দ্রাবকের গতি অব্যাহত থাকে, একে কোশান্তর অভিস্রবণ বলে।

iv. বিপরীত অভিস্রবণ কাকে বলে : যে প্রক্রিয়ায় অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে চাপ সৃষ্টি করে অধিক ঘনত্বযুক্ত দ্রবণ থেকে দ্রাবকে কম ঘনত্বযুক্ত দ্রবণে প্রবেশ করানো হয় তাকে বিপরীত অভিস্রবণ বলে। লবণাক্ত জল থেকে পানীয় জল তৈরি, ফলের রসকে ঘন করার জন্য, আধুনিক প্রক্রিয়ায় পানীয় জল পরিশ্রুত করার জন্য এই কৃত্রিম পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।

অভিস্রবণের গুরুত্ব গুলি হল :

i. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে জল বা রস শোষণ করে।

ii. মূলরোম দ্বারা শোষিত জল কোশান্তর অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় জাইলেম বাহিকায় পৌঁছোয় এবং জাইলেম থেকে জল উদ্ভিদের অন্যান্য কলা-কোষে পৌঁছোয়।

iii. অভিস্রবণের ফলে ভাজককলা কোশে সৃষ্ট রসস্ফীতি অবস্থা কোশের বৃদ্ধি ঘটায়।

iv. রসস্ফীতির হ্রাসবৃদ্ধির ফলে রক্ষীকোশে পত্ররন্ধ্রের উন্মোচন ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

v. রসস্ফীতি বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ ও কোমল উদ্ভিদ অঙ্গকে দৃঢ় রাখে।

vi. রসস্ফীতি উদ্ভিদ অঙ্গের ফোটোন্যাস্টি, সিসমোন্যাস্টি ইত্যাদি চলন এবং বিদারী ফলের বিদারণ নিয়ন্ত্রণ করে।

vii. প্রাণীকোশে দ্রবণের প্রবেশ ও চলাচল অভিস্রবণের ফলে ঘটে থাকে।

viii. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ত থেকে কলায় জলের আদান-প্রদান ঘটে। যেমন- অস্ত্র থেকে রক্তে জল শোষিত হয় এবং বৃক্ক নালিকার প্রাচীরের কোশের মাধ্যমে গ্লোমেরিউলার ফিলট্রেট থেকে জল শোষিত হয়ে মূত্র উৎপন্ন হয়।

ix. উচ্চ অভিস্রবণ চাপ বজায় রাখার ফলে জাঙ্গল উদ্ভিদ শুষ্কতা সহ্য করতে পারে।

x. মূলাগ্রের কোশে রসস্ফীতি চাপ মূলকে মাটি ভেদ করে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে।

অভিস্রবণের শর্তাবলি :

i. দ্রবণের ঘনত্ব : কোশে দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রাবের মোলার গাঢ়ত্বের সমানুপাতিক।

ii. উষ্ণতা : কোনো দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ উয়তার সঙ্গে সমানুপাতিক। OP ∝ T।

iii. দ্রবণের আণবিক ওজন : কোনো দ্রবণের অসমোটিক চাপ দ্রাবের আণবিক গুরুত্বের সঙ্গে ব্যস্তানুপাতিক।

অভিস্রবণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন চাপ :

i. জলস্ফীতি চাপ : অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে বিশোষিত জল কোশপর্দার ওপর যে চাপ সৃষ্টি করে তাকে জলস্ফীতি চাপ বা ঔদস্থৈতিক চাপ বলে।

ii. রসস্ফীতি চাপ : কোশের রসস্ফীতি অবস্থায় কোশপ্রাচীরে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রসস্ফীতি চাপ বলে। 

iii.প্রাচীর চাপ : রসস্ফীতি অবস্থায় কোশপ্রাচীর রসস্ফীতি চাপের বিপরীতে যে চাপ সৃষ্টি করে তাকে প্রাচীর চাপ বলে। রসস্ফীতি অবস্থায় রসস্ফীতি চাপ এবং প্রাচীর চাপ সমান হয়, অর্থাৎ TP = WP।

iv. অভিস্রবণ চাপ : কোনো নির্দিষ্ট দ্রবণে ন্যূনতম যে চাপ প্রয়োগ করলে অভিস্রবণ পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তাকে অভিস্রবণ চাপ বলে।

v. ব্যাপন চাপ ঘাটতি : কোন দ্রবণে দ্রাবক অণুর ব্যাপন চাপ ওই দ্রাবক অণুর বিশুদ্ধ অবস্থায় সৃষ্ট ব্যাপন চাপের চাইতে যে পরিমাণে কম হয়, তাকেই দ্রবণের ব্যাপন চাপ ঘাটতি বা জলবিভব বলে। দ্রবণে দ্রাব অণুর পরিমাণ যত বেশি হবে ওই দ্রবণের ব্যাপন চাপ ঘাটতি তত বেশি হবে। বিজ্ঞানী মেয়ার প্রথম ‘ব্যাপন চাপ ঘাটতি’ কথাটি প্রচলন করেন।

vi. চোষণ চাপ : অর্ধভেদ্য পর্দার ভিতরের দ্রবণের দ্রাবক এবং পর্দার বাইরের দ্রবণের দ্রাবকের অণুর ব্যাপন চাপের পার্থক্যকে চোষণ চাপ বলে।

ব‍্যাপন কাকে বলে ? ব্যাপনের ব‍্যাখ‍্যা ও চাপ ?