নিউক্লিয়াস কাকে বলে ? নিউক্লিয়াসের অবস্থান, গঠন এবং কাজ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

নিউক্লিয়াস কাকে বলে ? নিউক্লিয়াসের অবস্থান, গঠন এবং কাজ

নিউক্লিয়াস কাকে বলে : নিউক্লিয়াস হল একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্গানল যা প্রায় সমস্ত ধরনের সেলুলার ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণে দায়ী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদ‍্যমান প্রতিটি ধরনের কোষকে তার কোষের মধ‍্যে নিউক্লিয়াসের অনুপস্থিতি বা উপস্থিতির ভিত্তিতে আবদ্ধ করা হয়। আজকে আমরা জানবো নিউক্লিয়াস কাকে বলে এবং নিউক্লিয়াসের গঠন ও কাজ সম্পর্কে।

নিউক্লিয়াস কাকে বলে :

ইউক্যারিওটিক কোশের প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে সবচেয়ে ঘন , গোলাকার , পর্দাবেষ্টিত , ক্রোমোজোম সমন্বিত যে অংশ কোশের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে , তাকে নিউক্লিয়াস বলে।

নিউক্লিয়াসের অবস্থান :

সকল প্রকার ইউক্যারিওটিক কোশের প্রোটোপ্লাজমে প্রকৃত নিউক্লিয়াস পাওয়া যায় । উদ্ভিদকোশের কোশপ্রাচীরের কাছাকাছি এবং প্রাণীকোশে সাধারণত কোশের কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস অবস্থিত । প্রোক্যারিওটিক কোশে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না।

নিউক্লিয়াসের গঠন :

নিউক্লিয়াস সাধারণত গোলাকার বা উপবৃত্তাকার হয় । এটি প্রধানত চারটি অংশ নিয়ে গঠিত যথা-  1. নিউক্লীয় পর্দা , 2. নিউক্লীওপ্লাজম , 3. নিউক্লিওলাস ও 4. নিউক্লীয় জালিকা।

1. নিউক্লীও পর্দা কাকে বলে :

নিউক্লিয়াসকে ঘিরে যে সজীব দ্বিস্তরীয় আবরণী থাকে , তাকে নিউক্লীও পর্দা বলে । এই পর্দা প্রোটিন ও স্নেহপদার্থ দিয়ে তৈরি । দ্বিস্তরীয় পর্দার দুটি স্তরের অন্তবর্তী স্থানকে পেরিনিউক্লিয়ার সিস্টারনি বলে । নিউক্লীয় পর্দার গায়ে অসংখ্য ছিদ্র থাকে । এদের নিউক্লীয় ছিদ্র বলে।

2. নিউক্লীওপ্লাজম কাকে বলে :

নিউক্লিয়াসের অর্ধতরল , স্বচ্ছ পদার্থকেই নিউক্লীয় রস বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে । নিউক্লিওপ্লাজম , সাইটোপ্লাজমের তুলনায় অনেক বেশি দানাদার এবং ঘন জেলির মতো হয়।

3. নিউক্লিওলাস কাকে বলে :

নিউক্লিয়াসের অপেক্ষাকৃত ঘন , গোলাকার অংশকে নিউক্লিওলাস বলে । সাধারণত একটি নিউক্লিয়াসে একটিমাত্র নিউক্লিওলাস থাকে । নিউক্লিওলাসের গুরুত্বপূর্ণ চারটি অংশ হল – 1. দানাদার অংশ , 2. সূত্রাকার অংশ , 3. অনিয়তাকার অংশ এবং 4. ক্রোমাটিন অংশ।

4. নিউক্লীও জালিকা কাকে বলে :

নিউক্লীয় রসের মধ্যে যে সূক্ষ্ম সুতোর মতো অংশ অস্পষ্টভাবে জালকাকারে অবস্থান করে , তাদের নিউক্লীয় জালিকা বা ক্রোমাটিন জালিকা বলে । কোশ বিভাজনকালে জল বিয়োজনের ফলে নিউক্লীয় জালিকাগুলি স্পষ্ট ও মোটা হয় । তখন তাদের ক্রোমোজোম বলে । ক্রোমোজোমে জিন থাকে।

নিউক্লিয়াসের কাজ বা বৈশিষ্ট্য :

1. কোশের মস্তিষ্ক হিসেবে নিউক্লিয়াস সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

2. কোশ বিভাজনের সময়ে ক্রোমোজোম গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে । ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে।

3. নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ক্রোমোজোম DNA সংশ্লেষে অংশগ্রহণ করে।

4. নিউক্লিয়াস প্রোটিন সংশ্লেষ ও RNA গঠনে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন : 

সাইটোপ্লাজম কাকে বলে ? গঠন ও কাজ

কোষপর্দা কাকে বলে ? গঠন ও কাজ