স্নায়ুকলা কাকে বলে ? স্নায়ুকলার কাজ ও উপাদান | Nervous Tissue

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

স্নায়ুকলা কাকে বলে : সুপ্রিয় পাঠকবন্ধুরা আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা স্নায়ুকলা কাকে বলে এবং স্নায়ুকলার কাজ ও উপাদান সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।চলুন দেখে নেওয়া যাক স্নায়ুকলা কাকে বলে

স্নায়ুকলা কাকে বলে ? স্নায়ুকলার কাজ ও উপাদান | Nervous Tissue

স্নায়ুকলা :

উচ্চশ্রেণির প্রাণীতে যেসব কোশ স্নায়ুকলা গঠন করে সেগুলির গঠন বৈশিষ্ট্য হল দেহের এক অংশের সংবাদ গ্রহণ এবং অপর দেহাংশে সংবাদ প্রেরণ। পরিবেশের যে-কোনো পরিবর্তন বা দেহের ভেতরের কোনও পরিবর্তন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। কোনো প্রদত্ত উদ্দীপনায়, এই কোশগুলি উত্তেজিত হয় এবং উদ্দীপনা স্নায়ু তত্ত্ব মারফত নির্দিষ্ট অঙ্গে পরিবাহিত হয়। সুতরাং উত্তেজিতা এবং সংবাহিতা এই দুটি হল স্নায়ুকলার প্রাথমিক ধর্ম। স্নায়ুকলা প্রধানত স্নায়ুকোশ ও স্নায়ুতন্তু দিয়ে গঠিত।

স্নায়ুকলা কাকে বলে :

স্নায়ুকোশ দ্বারা গঠিত যে কলা যা প্রাণীদেহে বিভিন্ন উদ্দীপনা গ্রহণ, উদ্দীপনা প্রেরণ, উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া ইত্যাদি কাজগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত, তাকে স্নায়ু কলা বলে।

স্নায়ুকলার উপাদান :

স্নায়ুকলা দুটি প্রধান ধরনের কোশ দ্বারা গঠিত, যথা- 1. স্নায়ুকোশ ও 2. ধারক কোশ।

1. স্নায়ুকোশ বা নিউরোন :

নিউরোন হল স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত এবং কার্যগত একক। মানুষের স্নায়ুকোশ 10 বিলিয়নের চেয়েও বেশি। স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না, কোনো কারণে স্নায়ুকোশ বিনষ্ট হলে এটি পুনরায় পরিপূরণ হয় না। নিউরোগ্লিয়া মৃত স্নায়ুকোশের শূন্যস্থান পূরণ করে।

আদর্শ নিউরোনের গঠন : আদর্শ নিউরোনের (স্নায়ুকোশের) প্রধান তিনটি অংশ বর্তমান, যথা- কোশদেহ বা সোমা বা সাইটন বা পেরিক্যারিয়ন, অ্যাক্সন এবং ডেনড্রন।

কোশদেহ :

i. আকার- গোলাকার, ত্রিভুজাকৃতি, নক্ষত্রাকৃতি, বহুভুজাকৃতি।

ii. ব্যাস 5-20 হতে পারে।

iii. দেহের অন্যান্য কোশের মতো নিউরোনও কোশঝিল্লি, নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম দ্বারা গঠিত। তবে অন্যান্য কোশের সঙ্গে এই কোশের পার্থক্য আছে।

iv. কোশের অভ্যন্তরে সুস্পষ্ট বৃহৎ নিউক্লিয়াস বর্তমান। ক্রোমাটিনের স্বল্পতার জন্য নিউক্লিয়াস অস্পষ্ট বর্ণ গ্রহণ করে।

v. সেন্ট্রোজোম নিষ্ক্রিয় থাকায় স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আকারে বৃদ্ধি পায়।

vi. সাইটোপ্লাজম দানাযুক্ত এবং তন্তুময়। অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া, অন্তঃকোশীয় জালক, গলগি বস্তু, লাইসোজোম দেখা যায়। নিজল দানাগুলি (nissh granules) রাইবোনিউক্লিও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

vii. নিজল দানাগুলি স্নায়ুপ্রবাহের সময় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এই দানাগুলির হ্রাসবৃদ্ধি স্নায়ুকোশের বিভিন্ন অবস্থার উপর নির্ভরশীল।

viii. নিউরোফাইব্রিল স্নায়ুকোশের ডেনড্রন প্রাপ্ত থেকে অ্যাক্সন প্রান্ত পর্যন্ত কোশদেহের মধ্য দিয়ে প্রসারিত থাকে।

ix. কোশদেহ থেকে এক বা একাধিক পাতলা প্রোটোপ্লাজমীয় প্রবর্ধক নির্গত হয়, এদের অ্যাক্সন এবং ডেনড্রন বলে।

x. কোশদেহ মস্তিষ্কের ধূসর বস্তু এবং সুষুম্নাকাণ্ডে উপস্থিত।

2. ধারক কোশ :

ধারক কোশ গুলি অপরিবাহী এবং নিউরোনের খুব নিকট সংস্পর্শে অবস্থান করে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এই ধারক কোশগুলি নিউরোগ্লিয়া  বা গ্লিয়াল সেল বলে। পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্রে সোয়ান কোশ যা স্নায়ুকোশ প্রবর্ধককে আবৃত করে এবং স্যাটেলাইট কোশ যা গ্যাংলিয়ার কোশ দেহকে আবৃত করে। সোয়ান কোশ এবং স্যাটেলাইট কোশ নিউরাল ক্রেস্ট সেল থেকে উৎপন্ন হয়। এগুলি তিন ধরনের- a. সোয়ান কোশ, b. স্যাটেলাইট কোশ এবং c. নিউরোগ্লিয়া।

a. সোয়ান কোশ : নিউরোনের অ্যাক্সন মায়েলিন সিদ দ্বারা আবৃত থাকে। নিউরোলেমার ঠিক নীচেই নিউক্লিয়াস সমন্বিত সাইটোপ্লাজমকে নিউক্লিয়াই অব সোয়ান সেলস্ বলে এবং এরা নিউরোলেমা গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সোয়ান কোশ প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে স্নায়ুকোশ প্রবন্ধককে আবৃত করে।

b. স্যাটেলাইট কোশ : গ্যাংলিয়ার নিউরোনের কোশদেহ যেসব ক্ষুদ্র, ঘনকাকৃতি কোশ দ্বারা আবৃত থাকে তাদের স্যাটেলাইট কোশ বলে। প্যারাভার্টিব্রাল এবং পেরিফেরাল গ্যাংলিয়ার নিউরোনের প্রবর্ধক স্যাটেলাইট কোশেদের মধ্যে প্রবেশ করে সাইন্যাপস তৈরি করে। স্যাটেলাইট কোশ নিউরোনের চারপাশের সাইটনের নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোপরিবেশ বজায় রাখে। এছাড়া স্যাটেলাইট কোশ বৈদ্যুতিক ইনসুলেশন এবং বিপাকীয় আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করে।

c. নিউরোগ্লিয়া : নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোশ 4 প্রকারের, যথা-i. অলিগোডেন্ড্রোগ্লিয়া, ii. অ্যাস্ট্রোসাইট, iii. মাইক্রোগ্লিয়া এবং iv. এপেনডাইমাল কোশ।

i. অলিগোডেন্ড্রোগ্লিয়া : কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মায়েলিন গঠনকারী কোশ। পাশাপাশি অনেক অ্যাক্সনের মায়েলিন গঠন করে।

ii. অ্যাস্ট্রোসাইট : রক্ত জালক এবং নিউরোনের মধ্যে পুষ্টিদ্রব্যের প্রবাহ ঘটায়।

iii. মাইক্রোগ্লিয়া : বহিরাগত বস্তু এবং ব্যাকটেরিয়াদের ভক্ষণ করে। সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র নিউরোগ্লিয়া কোশ এবং এদের নিউক্লিয়াস দণ্ডাকৃতির। এদের কোশদেহ এবং প্রবর্ধক অসংখ্য কাঁটা দ্বারা আবৃত। এর মধ্যে থাকে অসংখ্য লাইসোজোম, ভেসিকলস্, অল্প ER, অণুনালিকা এবং মাইক্রোফিলামেন্ট। এরা রক্ত ও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের মধ্য বিভিন্ন উপাদানের বিনিময় ঘটায়, রক্তে নিউরোপেপটাইড মেশায় এবং CSF উৎপাদন করে।

iv. এপেনডাইমাল কোশ : এরা মস্তিষ্ক ও সুষুস্নাকান্ডের কেন্দ্রীয় নালীর আবরণ গঠন করে।

স্নায়ুকলার কাজ :

স্নায়ুকলার কাজ গুলি হল-

i. তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে জীবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ এবং তাদের কাজের মধ্যে সংহতি সাধন করে স্নায়ু কলা।

ii. অ্যাক্সন অপর নিউরোনের ডেনড্রনের কাছে বিন্যস্ত হয়, বা অ্যাক্সন পেশিতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে। এই সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বলে।

iii. এক প্রকার রাসায়নিক বস্তু সাইন্যাপসের ডেনড্রন ও অ্যাক্সনের শাখা-প্রশাখার মধ্যে যোগসূত্র ঘটায়। এই রাসায়নিক পদার্থটিকে নিউরোহিউমর বলে। বিভিন্ন স্নায়ুপ্রেরক পদার্থ, যথা-অ্যাসিটাইল কোলিন, নর-অ্যাড্রিনালিন স্নায়ুকলাতে সর্বদা একই দিকে স্নায়ু সংবেদ ইত্যাদি পরিবাহিত করে।

আরও পড়ুন :

আবরণী কলা কাকে বলে ? আবরণী কলার বৈশিষ্ট্য, কাজ ও শ্রেণীবিভাগ ?

যোগ কলা কাকে বলে ? যোগ কলার বৈশিষ্ট্য, কাজ, গঠন ও প্রকারভেদ ?

পেশি কলা কাকে বলে ? পেশির উৎস, বৈশিষ্ট্য, উপাদান, কাজ ও প্রকারভেদ ?

Leave a Comment