অনৈচ্ছিক পেশি কাকে বলে ? অনৈচ্ছিক পেশির কাজ, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

অনৈচ্ছিক পেশি কাকে বলে ? অনৈচ্ছিক পেশির কাজ, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

অনৈচ্ছিক পেশি কাকে বলে : সুপ্রিয় পাঠকবন্ধুরা আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা অনৈচ্ছিক পেশি কাকে বলে এবং অনৈচ্ছিক পেশির বৈশিষ্ট্য, ও কাজ সম্পর্কে নিখুঁত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক অনৈচ্ছিক পেশি কাকে বলে

◆ অনৈচ্ছিক পেশি কাকে বলে :

অনুপ্রস্থ রেখাবিহীন, স্বেচ্ছায় সংকোচনশীল নয় এমন পেশিকে অনৈচ্ছিক পেশি বলে।

বিস্তৃতি : হৃৎপিণ্ড ব্যতিরেকে বেশিরভাগ দেহ অভ্যন্তরস্থ অঙ্গই এই পেশি দ্বারা গঠিত। গ্রাসনালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, জরায়ু, মূত্রথলি, শ্বাসনালি, পিত্তথলি, গ্রন্থির নালিসমূহ, শিরা ও ধমনির প্রাচীর এবং আবরক ঝিল্লী এই পেশি দ্বারা গঠিত। ইচ্ছাশক্তির দ্বারা এই পেশি পরিচালিত হয় না, তবে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ু একে নিয়ন্ত্রণ করে।

অনৈচ্ছিক পেশির উদাহরণ : arrector pilli muscle, ডারটস পেশি, চক্ষুর আইরিশ এবং সিলিয়ারি পেশিতে এই প্রকার পেশি দেখা যায়।

◆অনৈচ্ছিক পেশির বৈশিষ্ট্য :

অনৈচ্ছিক পেশির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য গুলি হল-

i. পেশিতন্তুগুলি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র।

ii. পেশির উভয় প্রান্ত সূচালো, দৈর্ঘ্যে 40-80 u এবং প্রস্থে 0.06-1.0 u হয়।

iii. পেশি কোশগুলি সারকোলেমাযুক্ত তবে অস্পষ্ট। লম্বালম্বি ডোরাকাটা।

iv. ধাত্রবস্তু দ্বারা কতকগুলি পেশি তন্তু পরস্পর যুক্ত থাকে।

v. কোশে নিউক্লিয়াসের সংখ্যা এক বা দুটি, অবস্থান পেশির মধ্যবর্তী স্ফীত অংশে। নিউক্লিয়াস দণ্ডাকার বা উপবৃত্তাকার।

vi. সাইটোপ্লাজমের সংকোচনী উপাদান হল অ্যাকটিন ও মায়োসিন।

vii. বড়ো পেশিগুচ্ছে স্থূল শ্বেততত্ত্ব ও স্থিতিস্থাপক তন্তু থাকে।

viii. এই পেশিতে কন্ডরা অনুপস্থিত কারণ বেশির ভাগ পেশিই নরম দেহাংশের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

ix. নিউক্লিয়াসের কাছে লম্বা মাইটোকন্ড্রিয়া, দানাদার ER এবং গলগি বডি থাকে। গ্লাইকোজেন দানা যথেষ্ট পরিমাণে থাকে।

x. পেশিতন্তুর চারপাশে যোগকলার আবরণী থাকে।

xi. পেশিতে নিউক্লিওপ্রোটিনের ভাগ বেশি থাকে।

◆অনৈচ্ছিক পেশির কাজ :

i. অনৈচ্ছিক পেশি ধীরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংকুচিত থাকে। কোনো শক্তি ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে সংকুচিত অবস্থায় থাকতে পারে।

ii. অনৈচ্ছিক পেশি তরঙ্গের মতো সংকুচিত হতে পারে যা গ্যাস্ট্রো-ইনটেসটিনাল নালিতে এবং পুংজনন নালিতে পেরিস্ট্যালটিক বিচলন প্রদর্শন করে।

iii. স্নায়ু উদ্দীপনা ব্যতিরেকেই মসৃণ পেশি নিরবচ্ছিন্ন সংকোচন ক্রিয়া দেখায়।

iv. মসৃণ বা অনৈচ্ছিক পেশির সংকোচন অটোনোমাল স্নায়ুতন্ত্রের পোস্টগ্যংলিওনিক নিউরোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

v. বেশির ভাগ মসৃণ পেশি কোশে সিমপ্যাথেটিক এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর সরবরাহ বর্তমান।

vi. মসৃণ পেশির সংকোচন হরমোন দ্বারাও উদ্দীপিত হতে পারে, যথা- পশ্চাৎ পিটুইটারি গ্রন্থির অক্সিটোসিন।

vii. ঐচ্ছিক পেশির তুলনায় এই পেশির সংকোচন ক্ষমতা কম তবে পেশি সংকোচন দীর্ঘস্থায়ী।

আরও পড়ুন : 

পেশিকলা কাকে বলে ? পেশিকলার উৎস, বৈশিষ্ট্য, উপাদান, কাজ ও প্রকারভেদ ?

Leave a Comment