হৃৎপিণ্ড কাকে বলে ? হৃৎপিণ্ডের কাজ,অবস্থান, আকৃতি, আবরণ, খাঁজ, প্রাচীর, প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, ছিদ্র ও নানান তথ‍্য

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

হৃৎপিণ্ড কাকে বলে ? হৃৎপিণ্ডের কাজ,অবস্থান, আকৃতি, আবরণ, খাঁজ, প্রাচীর, প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, ছিদ্র ও নানান তথ‍্য

হৃৎপিণ্ড কাকে বলে – What is Heart : প্রিয় পাঠকগন আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা হৃৎপিণ্ড কাকে বলে এবং হৃৎপিণ্ডের অবস্থান, আকৃতি, আবরণ, খাঁজ, প্রাচীর, প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, ছিদ্র ও হৃৎপিণ্ডের কাজ সম্পর্কে নিঁখুত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

◆ হৃৎপিণ্ড :

হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি মাংসল, ফাঁপা, স্বয়ংক্রিয়, পেশিবহুল পাম্পযন্ত্রবিশেষ, যা ছান্দিক গতিতে সংকুচিত-প্রসারিত হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও কলায় বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ ও কলা থেকে দূষিত রক্ত গ্রহণ করে। হৃৎপিণ্ডের গহ্বর চারটি প্রকোষ্ঠে (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়) বিভক্ত।

◆ হৃৎপিণ্ড কাকে বলে :

রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত যে পাম্পযন্ত্র অবিরাম ছান্দিক গতিতে স্পন্দিত হয়ে (মিনিটে গড়ে 72 বার) সারাদেহে রক্ত সঞ্চালন করে তাকে হৃৎপিণ্ড বলে।

◆ হৃৎপিণ্ডের অবস্থান :

মানুষের হৃৎপিণ্ডটি বক্ষগহ্বরের মেডিয়াস্টিনাম স্থানে ফুসফুস দুটির মাঝখানে বাঁদিক ঘেঁষে তির্যকভাবে অবস্থিত। হূৎপিণ্ডের সম্মুখতল স্টারনামের দিকে, পশ্চাদতল মেরুদন্ডের দিকে এবং নিম্নতল মধ্যচ্ছদার ওপরে থাকে। হৃৎপিণ্ডটি ডান দ্বিতীয় পঞ্জরাস্থি থেকে বাম পঞ্চম পঞ্জরাস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত। হৃৎপিণ্ডের সম্মুখভাগের প্রশস্ত অংশটি ওপরের দিকে থাকে এবং একে মূলদেশ বলে। এর পশ্চাদভাগের ছুঁচোলো অংশটি নীচের দিকে পঞ্চম পাঁজরের ফাঁকে মধ্য অক্ষের 9 সেমি বাঁদিকে থাকে, যাকে শীর্ষদেশ বলে। এটি বাম নিলয় দ্বারা গঠিত।

◆ হৃৎপিণ্ডের আকৃতি :

মানুষের হৃৎপিণ্ডটি পেশিবহুল ফাঁপা এবং শাঙ্কবাকার। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে প্রায় 12 সেমি ও 9 সেমি এবং এটি 6 সেমি পুরু। পুরুষদের হূৎপিণ্ডের ওজন 280-340 গ্রাম এবং মহিলাদের হৃৎপিণ্ডের ওজন 230-280 গ্রাম। পুরুষ ও মহিলাদের হৃৎপিণ্ডের ওজন, দেহ-ওজনের যথাক্রমে 0.45% ও 0.40% ।

◆ হৃৎপিণ্ডের আবরণ :

হূৎপিণ্ডকে ঘিরে একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট পাতলা স্বচ্ছ যোজক কলার আবরণ থাকে, একে পেরিকার্ডিয়াম বা হৃদ্ধরাঝিল্লি বলে। পেরিকার্ডিয়ামের হৃৎপিণ্ড সংলগ্ন স্তরটিকে ভিসেরাল স্তর এবং বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল স্তর বলে। দুটি স্তরের মাঝে একটি সংকীর্ণ গহ্বর থাকে। এই গহ্বরকে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর বলে যা পেরিকার্ডিয়াল তরল দ্বারা পূর্ণ থাকে।

পেরিকার্ডিয়াল তরলের কাজ :

i. এটি হৃৎপিণ্ডকে বিনা বাধায় সংকুচিত প্রসারিত হতে সাহায্য করে। ii. হৃৎপিণ্ডকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে।

◆ হৃৎপিণ্ডের খাঁজ :

হূৎপিণ্ডের বহিঃতলে দুটি খাঁজ থাকে। যথা-

i. করোনারি সালকাস : এটি একটি আড়াআড়ি খাঁজ যা হৃৎপিণ্ডকে অলিন্দ অংশ ও নিলয় অংশে বিভক্ত করে।

ii. আন্তঃনিলয় খাঁজ : এই খাঁজটি হৃৎপিণ্ডের দৈর্ঘ্য বরাবর বিস্তৃত থাকে।

◆ হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর :

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর ত্রিস্তরবিশিষ্ট হয়। এর বাইরের স্তরটিকে এপিকার্ডিয়াম, মধ্যস্তরটিকে মায়োকার্ডিয়াম এবং ভিতরের স্তরটিকে এন্ডোকার্ডিয়াম বলে।

i. এপিকার্ডিয়াম : এটি প্রকৃতপক্ষে সেরাস পেরিকার্ডিয়ামের ভিসেরাল বা অন্তঃস্তর।

ii. মায়োকার্ডিয়াম : এটি হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরের মধ্যস্তর। এই স্তরটি সর্বাপেক্ষা পুরু এবং হৃদপেশি দ্বারা গঠিত। এই স্তরটি হৃৎপিণ্ডের সংকোচক অংশ। হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে হৃদপেশির স্থূলতার তারতম্য দেখা যায়। অলিন্দে মায়োকার্ডিয়ামের স্থূলতা নিলয়ের চেয়ে কম।

iii. এন্ডোকার্ডিয়াম : এটি হৃদপ্রাচীরের ভিতরের স্তর যা মসৃণ এবং অপেক্ষাকৃত পাতলা। এই স্তরটি এন্ডোথেলিয়াম কলা দ্বারা গঠিত। এটি হৃৎপিণ্ডের গহ্বরকে আবৃত করে, হৃদ- কপাটিকা তৈরি করে এবং রক্তের সরাসরি সংস্পর্শে আসে।

◆ হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ :

মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। দুটি অলিন্দ (বাম অলিন্দ ও ডান অলিন্দ) এবং দুটি নিলয় (বাম নিলয় ও ডান নিলয়)। অলিন্দ হৃৎপিণ্ডের গ্রাহক প্রকোষ্ঠ এবং নিলয় হৃৎপিণ্ডের প্রেরক প্রকোষ্ঠ হিসেবে কাজ করে।

দুটি অলিন্দ এবং দুটি নিলয় পরস্পর যথাক্রমে আন্তঃঅলিন্দ পর্দা এবং আন্তঃনিলয় পর্দা দ্বারা পৃথক করা থাকে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডে দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্তের মিশ্রণ ঘটে না।

বাম অলিন্দ ও বাম নিলয় এবং ডান অলিন্দ ও ডান নিলয় যথাক্রমে বাম অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র এবং ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র দিয়ে পরস্পর সংযোগ রক্ষা করে।

1. অলিন্দ :

দুটি অলিন্দই পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট প্রকোষ্ঠ, কারণ অলিন্দের সংকোচনে রক্ত কেবল নিলয় অবধি পৌঁছোয়। মাসকিউলি পেকটিনাটি ছাড়া অলিন্দের গাত্র মসৃণ। অলিন্দ দুটির মাঝে আন্তঃঅলিন্দ প্রাচীর থাকে। এর ফলে দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্তের মিশ্রণ ঘটে না। ডান অলিন্দটি বাম অলিন্দের চেয়ে সামান্য বড়ো। আন্তঃঅলিন্দ প্রাচীরে একটি অবতল অংশ থাকে, একে ফোসা ওভালিস বলে। এটি ফোরামেন ওভালি নামক ছিদ্রের লুপ্তপ্রায় অংশ।

i. বাম অলিন্দ : বাম অলিন্দ হূৎপিণ্ডের মূলদেশের বেশিরভাগ অংশ গঠন করে। এটি একটি ছোটো ত্রিকোণাকার প্রকোষ্ঠ (যাকে বলা হয় অরিকল) বিশেষ। প্রতি পাশে দুটি করে পালমোনারি বা ফুসফুসীয় শিরা বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। একটি বৃহৎ ছিদ্রের মাধ্যমে এটি বাম নিলয়ে উন্মুক্ত হয়।

ii. ডান অলিন্দ : এটি হৃৎপিণ্ডের মূলদেশের ডান অংশ গঠন করে। ডান অলিন্দের আকার একটি ঘনকের মতো। তিনটি বৃহৎ শিরা ডান অলিন্দে উন্মুক্ত হয়। ঊর্ধ্ব মহাশিরা , নিম্ন মহাশিরা ও করোনারি সাইনাস একটি বৃহৎ ছিদ্রের (দক্ষিণ অলিন্দ- নিলয় ছিদ্র) মাধ্যমে এটি ডান নিলয়ে উন্মুক্ত হয়।

2. নিলয় :

উভয় নিলয়ই পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট প্রকোষ্ঠ। বাম নিলয়ের প্রাচীর ডান নিলয়ের প্রাচীর অপেক্ষা বেশি পুরু। এর কারণ বাম নিলয়ের সংকোচনে সারাদেহে রক্ত প্রবাহিত হয়, কিন্তু ডান নিলয়ের সংকোচনে রক্ত কেবল হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে পৌঁছোয়। দুটি নিলয়ের প্রাচীরেই খাঁজ থাকে। এই খাঁজগুলিকে কলামনি কারনি বা ট্রাবিকিউলি কারনি বলে এই খাঁজে প্যাপিলারি পেশি বা মাসকিউলারিস প্যাপিলারিস নামক বিশেষ হৃদপেশি যুক্ত থাকে। নিলয় দুটি আন্তঃনিলয় প্রাচীর দ্বারা পরস্পর থেকে পৃথক থাকে, এর ফলে নিলয়ে দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্তের মিশ্রণ ঘটে না।

i. বাম নিলয় : এটি একটি ত্রিকোণাকার প্রকোষ্ঠ। বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের বাম তল এবং বহিরাংশ ও হূৎপিণ্ডের শীর্ষদেশ গঠন করে। এর প্রাচীর দক্ষিণ নিলয় অপেক্ষা প্রায় তিনগুণ পুরু। এর কারণ বাম নিলয়কে ধমনি চাপের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয় যা নিলয় চাপের চেয়ে বেশি।

বাম নিলয় থেকে মহাধমনি সৃষ্টি হয়েছে যার মাধ্যমে বিশুদ্ধ রক্ত সিস্টেমিক সংবহনে প্রবাহিত হয়। বাম অলিন্দ-নিলয়ের সংযোগস্থলে দ্বিপত্র কপাটিকা বর্তমান। কপাটিকা নিলয়ের প্যাপিলারি পেশির সঙ্গে কর্ডি টেনডনির দ্বারা যুক্ত থাকে।

ii. ডান বা দক্ষিণ নিলয় : এর আকার একটি ত্রিকোণাকার পিরামিডের মতো। এর ওপরের অংশ একটি মসৃণ শঙ্কু আকৃতির থলি গঠন করে (যাকে বলা হয় ইনফান্ডিবিউলাম) যা পালমোনারি ট্রাংক হিসেবে সম্প্রসারিত হয়। এই পালমোনারি ট্রাংকের মাধ্যমে দূষিত রক্ত ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে সংবাহিত হয়।

ডান অলিন্দ-নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত ত্রিপত্র কপাটিকার পত্রকগুলি কর্ডি টেনডনির (একধরনের সূক্ষ্ম দৃঢ় তন্তু) সঙ্গে যুক্ত থাকে। কর্ডি টেনডনি আবার প্যাপিলারি পেশির সাহায্যে নিলয়ের মেঝের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর ফলে নিলয়ের সংকোচনে ত্রিপত্র কপাটিকা বন্ধ হয়ে যায়।

◆ হৃৎপিণ্ডের কপাটিকা :

হৃৎপিণ্ডে দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্তের মিশ্রণ প্রতিহত করার জন্য এবং হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহ একমুখী করার জন্য হৃৎপিণ্ড মধ্যস্থ বিভিন্ন ছিদ্রপথে কপাটিকা থাকে। হৃৎপিণ্ডের অন্তঃপ্রাচীর ভাঁজ হয়ে কপাটিকা গঠন করে। হৃৎপিণ্ডে চার ধরনের কপাটিকা থাকে। যথা-

1. ত্রিপত্র কপাটিকা বা ট্রাইকাসপিড ভালব : ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের ছিদ্রপথে তিনপাল্লাযুক্ত কপাটিকা থাকে।

2. দ্বিপত্র কপাটিকা বা বাইকাসপিড ভালব বা মাইট্রাল ভালব : বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে দুইপাল্লাযুক্ত কপাটিকা বা বাইকাসপিড ভালব থাকে। একে মাইট্রাল ভালব বলে।

3. পালমোনারি কপাটিকা : ডান নিলয় ও ফুসফুসীয় ধমনিপথে তিনটি খণ্ডবিশিষ্ট অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা বা পালমোনারি কপাটিকা থাকে।

4. অ্যাওর্টিক কপাটিকা : বাম নিলয় ও মহাধমনির ছিদ্রপথে অ্যাওর্টিক কপাটিকা থাকে। উল্লেখ্য, পালমোনারি কপাটিকা ও অ্যাওর্টিক কপাটিকাগুলিকে সেমিলিউনার কপাটিকা বলে এবং এরাও ত্রিপত্রবিশিষ্ট।

◆ হৃৎপিণ্ডের ছিদ্র :

হৃৎপিণ্ডের মধ্যে যেসব ছিদ্রগুলি পরিলক্ষিত হয়, সেগুলি হল-

1. অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র : অলিন্দ দুটি নিলয়দ্বয়ের সঙ্গে যে ছিদ্র দিয়ে উন্মুক্ত থাকে তাদের অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র বলে।

2. ডান অলিন্দের ছিদ্র : ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র ছাড়া ডান অলিন্দের সঙ্গে আরও তিনটি ছিদ্র যুক্ত থাকে। সেগুলি হল- i. ওপরের দিকে ঊর্ধ্ব মহাশিরার ছিদ্র, ii. নীচের দিকে নিম্ন মহাশিরার ছিদ্র এবং iii. করোনারি সাইনাস-এর ছিদ্র।

3. বাম অলিন্দের ছিদ্র : বাম অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র ছাড়া বাম অলিন্দের ওপর যে চারটি ছিদ্র থাকে তা হল ফুসফুসীয় শিরা ছিদ্র।

4. ডান নিলয়ের ছিদ্র : ডান নিলয় একটি ছিদ্র দিয়ে ফুসফুসীয় ধমনিতে উন্মুক্ত থাকে।

5. বাম নিলয়ের ছিদ্র : বাম নিলয় একটি ছিদ্র দিয়ে মহাধমনিতে উন্মুক্ত থাকে।

◆ হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে যুক্ত শিরা ও ধমনি :

1. ঊর্ধ্ব মহাশিরা : এটি হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের ঊর্ধ্বপ্রান্তে যুক্ত থাকে। এই শিরার মাধ্যমে দেহের ঊর্ধ্বভাগ থেকে বেশি CO2 যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে আসে।

2. নিম্ন মহাশিরা : এটি হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দের নিম্নপ্রান্তে যুক্ত থাকে। এই শিরার মাধ্যমে দেহের নিম্নভাগ থেকে বেশি CO2 যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে আসে।

3. করোনারি শিরা : হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে হৃদ্‌পেশি থেকে বেশি CO2 যুক্ত রক্ত করোনারি সাইনাস দিয়ে ডান অলিন্দে আসে।

4. ফুসফুসীয় শিরা : হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দের সঙ্গে চারটি ফুসফুসীয় শিরা যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে ফুসফুস থেকে বেশি O2 যুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে আসে।

5. মহাধমনি : এটি হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বাম নিলয় থেকে বেশি O2 যুক্ত রক্ত মহাধমনিতে প্রবেশ করে।

6. ফুসফুসীয় ধমনি : এটি হৃৎপিণ্ডের ডান নিলয়ের সঙ্গে যুক্ত। এর মাধ্যমে ডান নিলয় থেকে বেশি CO,2 যুক্ত রক্ত ফুসফুসে যায়।

7. করোনারি ধমনি : এটি হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে রক্ত হৃদপেশিতে সরবরাহ হয়।

◆ হৃৎপিণ্ডের মূল কাজ :

ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সারা দেহে পৌঁছে দেওয়া ও দেহের অন্যান্য অংশ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুসে পৌঁছে দেওয়া। যাতে ফুসফুস সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্তকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তে রূপান্তরিত করে হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে আবার পুরো দেহে পৌঁছে দিতে পারে।

আরও পড়ুন :

RNA কাকে বলে ? প্রকারভেদ ও গঠন ? 

DNA কাকে বলে ? গঠন, কাজ ও প্রকারভেদ ? 

প্রোটিন কাকে বলে ? প্রোটিনের উৎস, কাজ, গঠন, শ্রেণীবিভাগ ও পুষ্টিগত গুরুত্ব ? 

1 thought on “হৃৎপিণ্ড কাকে বলে ? হৃৎপিণ্ডের কাজ,অবস্থান, আকৃতি, আবরণ, খাঁজ, প্রাচীর, প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, ছিদ্র ও নানান তথ‍্য”

Leave a Comment