বৃদ্ধি কাকে বলে ? বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ, স্থান, সময়কাল ও বৃদ্ধির বলয়

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

বৃদ্ধি কাকে বলে এবং বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ, স্থান, সময়কাল ও বৃদ্ধির বলয়

বৃদ্ধি কাকে বলে – What is Growth : সুপ্রিয় পাঠকগন আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা বৃদ্ধি কাকে বলে বা বৃদ্ধি কি এবং বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধির প্রকারভেদ, বৃদ্ধির স্থান, সময়কাল ও বৃদ্ধির বলয় সম্পর্কে নিঁখুত ভাবে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

বৃদ্ধি কাকে বলে :

কোনো কোশ বা অঙ্গ বা সমগ্র জীবের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজন স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়ভাবে বেড়ে যাওয়াকে বৃদ্ধি বলে। নতুন কোশীয় পদার্থের সংশ্লেষণ, কোশের বৃদ্ধি (growth) এবং বিভাজনের ফলে জীবের বৃদ্ধি ঘটে। উপচিতি বিপাকের হার অপচিতি বিপাকের হার অপেক্ষা বেশি হলে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।

পড়ুন : আগ্ৰহ কাকে বলে এবং শ্রেণীবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য ? 

বুদ্ধির প্রকারভেদ :

জীবদের বৃদ্ধি নানা ধরনের হয়ে থাকে সেগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল-

A. প্রকৃতি অনুসারে

i. অঙ্গজ বৃদ্ধি বা দৈহিক বৃদ্ধি : সকল প্রকার জীবের জীবনচক্রে প্রথম পর্যায়ের বৃদ্ধিতে দেহগঠনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জীবদেহের সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে যেমন বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম, শিশু উদ্ভিদের সৃষ্টি, পরে শাখাপ্রশাখা সহ পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদদেহ সৃষ্টি অর্থাৎ পুষ্পমুকুল সৃষ্টির পূর্ব পর্যন্ত সময়কাল হল অঙ্গজ বৃদ্ধি। প্রাণীদের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে জাইগোট, ভ্রূণ, শিশু প্রাণী থেকে পরিণত প্রাণীদেহ গঠন পর্যাপ্ত সময়কালের বৃদ্ধি হল অঙ্গজ বৃদ্ধি।

ii. জননগত বৃদ্ধি : পূর্ণাঙ্গ জীব পরিণত বয়সে জননের জন্য তৈরি হয়। এই সময়ের বৃদ্ধিকে জননগত বৃদ্ধি বলে। যেমন- পরিণত উদ্ভিদদেহে পুষ্পমুকুলের সূত্রপাত ঘটে, পরে ফুল, ফল ও বীজ সৃষ্টি হয়। প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই সময় শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় বৃদ্ধি পায়, জননকোশ উৎপন্ন হয়।

iii. ক্ষয়পূরণজাত বৃদ্ধি : জীবদেহে ক্ষত সৃষ্টি হলে কোশ বিভাজন ও বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষত নিরাময় হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবদেহের খণ্ডাংশ থেকে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ জীব সৃষ্টি হয়। এই প্রকার বৃদ্ধিকে ক্ষয়পূরণজাত বৃদ্ধি বলে।

B. অঙ্গ পরিস্ফুরণের আনুপাতিক হার হিসেবে

i. সমানুপাতী বৃদ্ধি : এই ধরনের বৃদ্ধিতে সব অঙ্গ দেহের সঙ্গে সম অনুপাতে বাড়ে। উদাহরণ- মাছ।

ii. অসমানুপাতী বৃদ্ধি : এই ধরনের বৃদ্ধিতে সব অঙ্গ দেহের সঙ্গে সম অনুপাতে বাড়ে না, কোনো অঙ্গ তাড়াতাড়ি বাড়ে আবার কোনো অঙ্গ ধীরে ধীরে বাড়ে। যথা- মানুষের ভ্রূণের দু-মাস পর্যন্ত সময়কালে মাথার বৃদ্ধি বেশি হয়, তারপরে ধড়ের বৃদ্ধি বেশি হয়।

C. বৃদ্ধির সময়কালের ওপর ভিত্তি করে 

বুদ্ধির সময়কালের উপর ভিত্তি করে বুদ্ধি দুই ভাবে সম্পন্ন হয় যথা- নিয়ত বুদ্ধি ও অনিয়ত বুদ্ধি ।

i. নিয়ত বৃদ্ধি কাকে বলে : যে বৃদ্ধি জীবদেহে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়, তাকে নিয়ত বৃদ্ধি বলে। যথা-বর্ষজীবী উদ্ভিদে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়ে ফুল, ফল ধরে এবং অবশেষে মারা যায়। প্রাণীর বৃদ্ধিও নির্দিষ্ট সময় পর বন্ধ হয়ে যায়।

ii. অনিয়ত বৃদ্ধি কাকে বলে : যে বৃদ্ধি জীবদেহে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঘটে, তাকে অনিয়ত বৃদ্ধি বলে। বহুবর্ষজীবী কাষ্ঠল উদ্ভিদদেহে এই প্রকার বৃদ্ধি দেখা যায়।

D. বৃদ্ধির পর্যায়ের ওপর ভিত্তি করে

বৃদ্ধির পর্যায়ের উপর ভিত্তি করে বৃদ্ধি দুই ভাবে হয় যথা- অবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি ও বিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি ।

i. অবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি কাকে বলে : যে প্রকার বৃদ্ধি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাধাহীনভাবে চলতে থাকে, তাকে অবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি বলে। প্রায় সব জীবেই অবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি ঘটে। বিশেষত উদ্ভিদদেহে এই প্রকার বৃদ্ধি দেখা যায়।

ii. বিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি কাকে বলে : যে প্রকার বৃদ্ধি শুরু হওয়ার পর বিশেষ পর্যায়ে স্থগিত থাকে, পরে আবার শুরু হয়, তাকে বিচ্ছিন্ন বৃদ্ধি বলে। যথা—পতঙ্গের বৃদ্ধি নির্মোচনের সময় সাময়িকভাবে থেমে যায় এবং ইনস্টার দশায় আবার শুরু হয়।

E. কোশের বৃদ্ধি অনুসারে 

i. অক্সেনটিক বৃদ্ধি : এক্ষেত্রে কোশের আয়তন বৃদ্ধি পায় কিন্তু সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে না। যথা- অ্যাসকারিস।

ii. মাল্টিপ্লিকেটিড বৃদ্ধি : এক্ষেত্রে কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে কিন্তু আয়তন বৃদ্ধি কম হয়। যথা- প্রাক্-ভূণজ বৃদ্ধি।

iii. অ্যাক্রিশনারি বৃদ্ধি : এক্ষেত্রে যোগ কলায় ধাত্র, তন্তু ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে বৃদ্ধি ঘটে, তাকে অ্যাক্সিশনারি বৃদ্ধি বলে।

বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য :

 বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য গুলি হল-

i. একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুর বৃদ্ধি ঘটে।

ii. বৃদ্ধি সহজেই পর্যবেক্ষণযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য।

iii. বৃদ্ধি পুষ্টিকর খাদ্য, উপযুক্ত পরিবেশ এবং কিছুটা অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল।

iv. শিশুদের মধ্যে বৃদ্ধির হারের পার্থক্য দেখা যায়।

v. বংশধারা ও পরিবেশের মিথস্ক্রিয়া এর ফলেই বৃদ্ধি ঘটে।

উদ্ভিদের বৃদ্ধির স্থান :

উন্নত উদ্ভিদদেহে অগ্রস্থ ভাজক কলার অঞ্চল বৃদ্ধির প্রধান স্থান। মূল ও কান্ডের অগ্রভাগে অবস্থিত অগ্রস্থ বা শীর্ষস্থ ভাজক কলার বৃদ্ধির ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটে, একে প্রাথমিক বৃদ্ধি বলে। আবার কান্ডের নালিকা বান্ডিলে জাইলেম ও ফ্রোয়েমের মাঝখানে পার্শ্বস্থ ভাজক কলা বা ক্যাম্বিয়ামের কার্যকারিতার ফলে উদ্ভিদদেহ প্রস্থে বৃদ্ধি পায়, একে গৌণ বৃদ্ধি বলে। প্রাণীদেহে কোনো নির্দিষ্ট বৃদ্ধি অঞ্চল থাকে না। প্রাণীদের বৃদ্ধি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে এবং সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সমান তালে ঘটে।

বৃদ্ধির সময়কাল :

এককোশী উদ্ভিদ এবং বর্ষজীবী বীরুৎ শ্রেণির উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি জীবনচক্রের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এদের বৃদ্ধি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বা আমৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে।

বৃদ্ধিবলয় :

বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ জাতীয় দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে বিশেষ ঋতুতে ক্যাম্বিয়ামের সক্রিয়তার ফলে গৌণ জাইলেমের সুস্পষ্ট বৃদ্ধিস্তর গঠিত হয়। গৌণ জাইলেমে বড়ো ব্যাসযুক্ত জাইলেম বাহিকা (বসন্ত কাঠ) এবং গ্রীষ্মকালে ছোটো ব্যাসযুক্ত জাইলেম বাহিকা (গ্রীষ্ম কাঠ) একটির পর একটি এককেন্দ্রীন আবর্তে সাজানো থাকে। প্রস্থচ্ছেদে এই বৃদ্ধিস্তরগুলি বলয়াকার দেখায় বলে এদের বৃদ্ধিবলয় বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি বিশেষ ঋতুতে (সাধারণত বসন্ত ঋতুতে) ঘটে বলে প্রতি বৎসরের গৌণ জাইলেম এক একটি বলয় গঠন করে, তাই একে বর্ষবলয় বলে। বর্ষবলয়ের সংখ্যা থেকে উদ্ভিদের বয়স অনুমান করা যায়।

আরও পড়ুন :

মনোযোগ কাকে বলে ? মনোযোগের শ্রেণীবিভাগ, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য ? 

Leave a Comment