নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য PDF

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য PDF

নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য PDF : নিরক্ষীয় জলবায়ু সাধারণত বিষুবরেখার কাছাকাছি পরিলক্ষিত হয়।এই জলবায়ু সারাবছর প্রচুর সূর্যালোক দ্বারা চিহ্নিত করা হয় যা অধিক তাপমাত্রার দিকে পরিচালিত করে। আজকে আমরা নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য গুলি।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে :

ক্রান্তীয় অঞ্চলের মধ‍্যে একমাত্র নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 0° থেকে 5° বা 10 ° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ‍্যবর্তী স্থানে চিরসবুজ অরণ্য সমৃদ্ধ যে উষ্ণ আর্দ জলবায়ু বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু এবং স্থানটিকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে।

নিরক্ষীয় জলবায়ুর অঞ্চলের অবস্থান :

A অক্ষাংশগত অবস্থান : নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল নিরক্ষরেখার ( 0 ° ) উভয় দিকে 5 ° বা 10 ° অক্ষরেখার মধ্যবর্তী স্থানসমূহে বিস্তৃত ( অর্থাৎ কোনো জায়গায় 0 ° থেকে 5 ° , আবার কোনো জায়গায় 0 ° থেকে 10 ° অক্ষরেখা পর্যন্ত নিরক্ষীয় জলবায়ুর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় ) । এর মধ্যে নিরক্ষীয় জলবায়ুর সর্বাধিক প্রভাব লক্ষ করা যায় 2 ° উত্তর থেকে 8 ° উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে।

নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য :

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে উষ্ণতা প্রায় সারাবছরই বেশি থাকে । উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত নিরক্ষীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য গুলি হল –

A. উষ্ণতার বৈশিষ্ট্য :

1. সারাবছর দিনেরবেলা প্রায় একই উষ্ণতার প্রাধান্য : পৃথিবীর মেরুরেখা বা অক্ষ ( axis ) কক্ষতলের সঙ্গে সর্বদাই 66.1/2 ° কোণে , হেলে অবস্থান করে বলে বছরের অধিকাংশ সময় মধ্যাহ্নে সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে এবং দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয় । এজন্য নিরক্ষরেখা – সংলগ্ন অঞ্চলসমূহে , বিশেষত 5 ° -10 ° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে সারাবছরই দিনেরবেলা উষ্ণতা বেশি থাকে এবং তা খুব বেশি ওঠা নামা করে না । তাই উন্নতার প্রসর খুব কম এবং ঋতু পরিবর্তন হয় না , অর্থাৎ এখানে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে।

2. বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর কম : নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে বার্ষিক গড় উষ্ণতা থাকে 24 ° সেঃ থেকে 27 ° সেঃ এবং বার্ষিক উয়তার প্রসর 2 ° সেঃ থেকে 3 ° সেঃ এর বেশি হয় না । সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন উয়তার মধ্যে এত অল্প পার্থক্য অন্য জলবায়ু অঞ্চলে পরিলক্ষিত হতে দেখা যায় না।

3. দৈনিক উষ্ণতার প্রসর সর্বোচ্চ : বার্ষিক উন্নতার তারতম্য খুব বেশি না হলেও এখানে সারাদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্মতার মধ্যে পার্থক্য 5 ° সেঃ থেকে 20 ° সেঃ পর্যন্ত হয় । এর কারণ মধ্যাহ্নে উষ্ণতা খুব বেড়ে গেলেও বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টিপাতের পর রাতের উন্নতা কমে 15 ° সেঃ চলে আসে এবং তখন কিছুটা ঠান্ডাও অনুভূত হয়।

B. বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য :

1. স্থায়ী নিম্নচাপ বলয় : নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলে সারাবছর নিম্নচাপ বিরাজ করে এর কারণ হল-

i. নিরক্ষরেখায় প্রায় সারাবছর মধ্যাহ্নে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে । এজন্য এখানে সব সময়ই বায়ু উয় ও হালকা থাকে।

ii. পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য ( নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে ওপরের স্তরের বায়ু সারাবছরই উত্তর ও দক্ষিণে ছিটকে যায়।

iii. নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের তুলনায় জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকে । জলীয় বাষ্প বায়ুর থেকে হালকা বলে সবসময়ই ওপরে উঠে যায় । এই তিনটি কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর ঘনত্ব সবসময়ই কম থাকে , অর্থাৎ বায়ুতে নিম্নচাপ বিরাজ করে , ফলে বায়ু সর্বদাই ঊর্ধ্বমুখী থাকে।

2. নিরক্ষীয় শান্তমণ্ডল : যেহেতু নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ বিরাজ করে , তাই দুই দিকের দুই উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় ( কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি ) থেকে দুটি আয়ন বায়ু ( উত্তর – পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ – পূর্ব আয়ন বায়ু ) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায় । এই দুই আয়নবায়ু 5 ° -10 ° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ বরাবর পরস্পর মিলিত হয়ে ওপরে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে নিরক্ষরেখা সংলগ্ন স্থানসমূহে ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে সমান্তরাল বা অনুভূমিকভাবে বায়ুর কোনো প্রবাহ থাকে না । তাই এক শান্ত অবস্থা বিরাজ করে । এজন্য নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চল নিরক্ষীয় শান্তমণ্ডল  (Equatorial Doldrum) নামে অভিহিত।

3. ইন্টার ট্রপিক্যাল কনভার্জেন্স জোন : উত্তর – পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ – পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের কাছাকাছি ( 5 ° -10 ° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে ) এসে পরস্পর মিলিত হলে উগ্ন হয়ে কালক্রমে ওপরে উঠে যায় । তাই এই অঞ্চলে ইন্টার ট্রপিক্যাল কনভার্জেন্স জোন ( Inter Tropical Convergence Zone ( ITCZ ) বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসারী অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে।

C. বায়ুতে জলীয় বাষ্পের বৈশিষ্ট্য :

নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের তুলনায় জলভাগ অনেক বেশি । প্রচণ্ড সূর্যরশ্মিতে এই জলভাগ থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে যায় । তাই এই অঞ্চলের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকে এবং এখানে প্রায় প্রতিদিনই অপরাহ্নে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয় । এখানকার বায় বেশি উয় ও আর্দ্র বলে আবহাওয়া বেশ ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর হয় । তবে অপরাহ্নে বৃষ্টিপাতের পর আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হয়ে যায়।

D. মেঘ ও বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য :

1. কিউমুলোনিম্বাস মেঘের আধিপত্য : এই অঞ্চলে সকালের আকাশ পরিষ্কার এবং রোদ ঝলমলে থাকে । কিন্তু বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকে বলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে মেঘের সঞ্চার ঘটে এবং ক্রমশ তা ঘন কালো কিউমুলোনিম্বাস ( ‘ নিম্বাস ’ কথার অর্থ বর্ষণ ) মেঘে রূপান্তরিত হয়ে বিকাল 3 টে থেকে 4 টের মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ – সহ বৃষ্টিপাত ঘটায় । এজন্য একে ‘ Four O’clock Rain ‘ বলে।

2. পরিচলন বৃষ্টিপাতের প্রাধান্য : বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উয় ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় ( অর্থাৎ পরিচলন স্রোত সৃষ্টি করে ) এবং তারপর ওপরে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায় । এইভাবে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন বিকালের দিকে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয় ।

3. বার্ষিক বৃষ্টিপাত : প্রায় প্রতিদিনই ( বছরে গড়ে 200 থেকে 300 দিন ) বৃষ্টিপাত হয় বলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই বেশি।

4. বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন : বৃষ্টিপাতের বণ্টন সর্বত্র সমান নয়। পেরুর ইকুইটসে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় 261 সেমি । কিন্তু আকাসায় এর পরিমাণ প্রায় 365 সেমি। আফ্রিকায় ক্যামেরুন পর্বতের পাদদেশে এর পরিমাণ প্রায় 1000 সেমি।

5. বজ্রঝড়ের আগমন : বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রঝড় হয় । এই অঞ্চলের সর্বত্র বছরে প্রায় 75 থেকে 150 দিন বজ্রঝড় হয়ে থাকে।

6. বৃষ্টি বলয়ের স্থানান্তর : এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সঙ্গে সঙ্গে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় যথাক্রমে সামান্য উত্তর ও দক্ষিণে সরে যায় বলে নিরক্ষীয় বৃষ্টি বলয়ও উত্তরে ও দক্ষিণে সরে যায় । তাই বলা হয় , এখানে বৃষ্টি সূর্যের অনুগামী ( Rain follows the Sun ) ।

E. ঋতুবৈচিত্র্যহীন বৈশিষ্ট্য :

বছরের প্রতিটি দিনই ছায়াবৃত্ত নিরক্ষরেখাকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে । তাই , নিরক্ষরেখায় সারাবছরই 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত্রি হয় , অর্থাৎ দিন – রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস – বৃদ্ধি হয় না ( বছরের প্রায় প্রতিটি দিন সূর্য একই সময় উদিত হয় এবং অস্ত যায় ) । এজন্য বছরের বিভিন্ন সময় উত্তাপের তারতম্য হয় না , ফলে এখানে ঋতু পরিবর্তনও লক্ষ করা যায় না । সারাবছর একটি ঋতু বিরাজ করে এবং সেটি হল উয় – আর্দ্র গ্রীষ্ম ঋতু । বছরের যে – কোনো দিনের আবহাওয়া ঠিক তার আগের দিনের আবহাওয়ার মতো হয় । এর ফলে নিরক্ষীয় জলবায়ুর মধ্যে একটা বৈচিত্র্যহীন একঘেয়েমি ভাব বিরাজ করে।

আরও পড়ুন : 

সবুজ বিপ্লবের পটভূমি, সময়কাল ও ফলাফল

সুনামি সৃষ্টির কারণ ও ফলাফল

ভূমিধসের কারণ ও ফলাফল

ব্লিজার্ড কি এবং বৈশিষ্ট্য

PDF DOWNLOAD ZONE

File Name : নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য
Language : বাংলা
Size: 105 KB 
Clik Here To Download

2 thoughts on “নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য PDF”

Leave a Comment