বাংলা যাত্রাপালা

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

বাংলা যাত্রাপালা

বাংলা যাত্রাপালা : সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা আজকে তোমাদের সাথে শেয়ার করলাম বাংলা যাত্রাপালা প্রবন্ধ রচনাটি সম্পর্কে। চলুন দেখে নেওয়া যাক আজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনাটি।

বাংলা যাত্রাপালা :

ভূমিকা :

বিভিন্ন উৎসব ও পূজা পার্বনের সময় গ্ৰাম বাংলা ও শহরে রং বেরঙের পোশাক পরে আনন্দ দেওয়াকেই যাত্রা বলা হত। বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের প্রধানতম ধারা বাংলার যাত্রাগান। কলকাতার রাজা – মহারাজা এবং বাবু সম্প্রদায় প্রভাবিত সংস্কৃতির অতীত ইতিহাসে যাত্রাগানের একটা বিশেষ মর্যাদা ছিল । কিন্তু পরবর্তীকালে যাত্রাকে তার ঐতিহ্যের মাটি থেকে তুলে এনে নানা আধুনিক উপকরণে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। ফলে এই লোকশিল্পটি আধুনিক হয়ে উঠলেও নিজস্ব মর্যাদা হারিয়েছে।

যাত্রাপালার অতীতকাল :

অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাগানবাড়ি ও বৈঠকখানার হইহুল্লোড়ে সমকালীন অপরাপর বিনোদনগুলির পাশাপাশি যাত্রাগানের একটি বিশিষ্ট জায়গা ছিল । বাৎসরিক পূজাপার্বণ এবং নানারকম পারিবারিক উৎসব উপলক্ষ্যে অবস্থাপন্ন বাড়িতে যাত্রার আসর বসত । পরবর্তীকালে যাত্রাগানের মূল বিষয় কৃষ্ণকাহিনিকে আশ্রয় করে পাঁচালি ও কীর্তন জনপ্রিয় হয়ে উঠলে যাত্রাকে তার বৈচিত্র্যহীনতা থেকে মুক্ত করবার প্রয়োজন দেখা গেল । সেই তাগিদে এবং সর্বোপরি বাবুবিলাসের নব নব চাহিদার স্রোতের মুখে পড়ে কবিগান , আখড়াই , বাইনাচ , সং , ভাঁড়ামি প্রভৃতি যাত্রার মধ্যে ঢুকতে শুরু করল । ফলে যাত্রা একটা তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারল । কিন্তু খুব দ্রুত কলকাতার শিক্ষিত – ভদ্র সমাজ কুরুচিপূর্ণ লঘু রসিকতা থেকে যাত্রাকে মুক্ত করবার চেষ্টা শুরু করল।

চন্দননগরের মদনমোহন চট্টোপাধ্যায় যাত্রাপালার রচনা ও প্রয়োগরীতি ছাড়াও নাচ – গান – সংলাপ , সাজসজ্জা , সংগীতবিদ্যা প্রভৃতি সব কিছু সংস্কার করে যাত্রায় সর্বপ্রথম একটি সার্বিক রূপান্তর আনতে পেরেছিলেন । এই সময় কেশবচন্দ্র সেনের কমলকুটিরে ‘ নিমাই সন্ন্যাস ’ পালা দেখে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সমাধিস্থ হয়েছিলেন।

বাংলা যাত্রাপালার বর্তমান সময় :

বিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশকের সূচনায় পালাসম্রাট ব্রজেন্দ্রকুমার দে পরিবর্তন এনেছেন । তাঁর লেখা যাত্রাপালাগুলির মধ্যে আকালের দেশ, স্বামীর ঘর, পরশমণি, নিষিদ্ধ ফল, প্রভৃতি ছিল বিখ্যাত। ছয়ের দশকের শেষদিকে সামাজিক পালার চূড়ান্ত সার্থকতা দেখা দিল নবরঞ্জন অপেরা অভিনীত বিধায়ক ভট্টাচার্য রচিত স্বপনকুমার নির্দেশিত মাইকেল মধুসূদন পালার প্রযোজনার সাফল্যে । এর ঠিক পরেই তরুণ অপেরার হিটলার, বীণাপাণি অপেরার, স্বামী বিবেকানন্দ। এই প্রসঙ্গে শান্তিগোপালের ‘ আমি সুভাষ বলছি ’ , ‘ মাও – সে – তুং ’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে যাত্রার সমস্যা :

বর্তমানে যাত্রার সেদিন আর নেই। ব্রজেন্দ্রবাবুর মতো পালাকারের আজ বড়ো অভাব। যোগ্য সুরকারের অভাব রয়েছে বাংলা যাত্রায়। বায়না দর ক্রমশই বেড়ে চলেছে। দক্ষ পরিচালকেরও প্রয়োজন। প্রয়োজন ভালো মেকআপ ম্যানের। তা ছাড়া যাত্রাশিল্পটি তিন মাস চলে । এর পরেই যাত্রা ও অনুসারী শিল্পের কলাকুশলীরা বেকার হয়ে পড়েন। এর থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা।

মূল‍্যায়ন :

বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে যাত্রাশিল্পের আজ বিলুপ্ত ঘটেছে। তবু আশার কথা অনেক ভালো ভালো কলাকুশলী আজ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন । সেইসঙ্গে প্রয়োজন ঐতিহ্যের প্রতি অনুরক্ত প্রকৃত আধুনিক মনোভাবাপন্ন সংস্কারকের , যিনি তাঁর ভালোবাসা আর বুদ্ধির জোরে ই পালা , অভিনেতা , সুরকার , মেকআপ ম্যান সকলের মধ্যে একটি সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। দক্ষ কলাকুশলীর অভাবে আজ বাংলা যাত্রাপালা বিলুপ্তর পথে।

আরও পড়ুন : শীতের সকাল রচনা

Leave a Comment