একটি গ্ৰামের আত্মকথা PDF

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

একটি গ্ৰামের আত্মকথা PDF :

একটি গ্ৰামের আত্মকথা PDF : আমরা সবাই জানি ভারতের অধিকাংশ মানুষ গ্ৰামে বসবাস করে। গ্ৰামের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন বহু কবিগন। আজকে আমরা এই পর্ব আলোচনা করবো একটি গ্ৰামের আত্মকথা রচনা-টি সম্পর্কে। চলুন দেখে নেওয়া যাক আজকের বিস্তারিত আলোচনাটি।

একটি গ্ৰামের আত্মকথা :

ভূমিকা :

নিজের রূপের প্রশংসা করতে করই বা ভালো লাগে ? আমিও অবশ্য তা পছন্দ করি না। আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গে যে হাজার হাজার গ্রাম আছে , আমি হলাম সেই ধরনের অখ্যাত একটি গ্রাম । প্রবাদ আছে , ঈশ্বর তৈরি করেছেন country বা গ্রাম , আর মানুষ তৈরি করেছে town বা শহর । এই সূত্রে বলা যায় , মানুষের আগ্রহে অনেক গ্রাম শহরে পরিণত হয়ে গেছে । কিন্তু সৌভাগ্য হোক বা দুর্ভাগ্য, আগে যেমন গ্রাম ছিলাম, এখনও সেইরকম একটি গ্রাম হয়ে আছি। একসময় এখানকার পুকুর ও ডোবায় প্রচুর চিংড়ি মাছ পাওয়া যেত, সেই সূত্র ধরেই আমার নাম হয়েছে  চিংড়িপোতা ’।

গ্রামের অবস্থান :

আমার অবস্থান বৃহ‍ৎ। শুনেছি শহর কলকাতার গায়ে রয়েছে ট্যাংরা, তপ্‌সে, বাগদা, ভাঙ্গড় ইত্যাদি নামের জনপদ। মাছের নামে এদেরও নাম । এগুলিও এক সময় ছিল গ্রাম। এখন এরা কলকাতার সঙ্গে শহর হয়ে গেছে। আমার কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। শ – খানেক মাটির ঘর , বিশ পঁচিশখানা পাকা বাড়ি আর হাজার তিনেক লোকসংখ্যা নিয়ে আমি রয়ে গেছি ধুধু মাঠের মাঝে। পথঘাট কাঁচা , বর্ষায় কাদা এবং গ্রীষ্মে এই পথ ধুলোয় ভরা । তা রাস্তাঘাট যেমন – তেমন হোক না কেন , আমার ভিতর রয়েছে বিস্তর সবুজ গাছপালা । রয়েছে অজস্র পাখির কুহু কুহু কলকাকলি । ফিঙে থেকে কাক – কোকিল টিয়া , কারও অভাব এই চিংড়িপোতায় নেই। এখানকার অধিবাসীরা পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে আবার পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে।

গ্ৰামের উন্নতি :

আমার সবচেয়ে বড়ো সম্পদ হল প্রকৃত ও মানুষ। আমার এলাকায় রাস্তাঘাটের তেমন সুবন্দোবস্ত না  থাকলেও , ধীরে ধীরে আমার এলাকায় বেশ কিছু উন্নতি চোখে পড়ছে। আগে সারাবছর আমার এলাকার মাঠগুলিতে বছরে একবার করে চাষ হত। খালবিল কাটার ফলে গত তিরিশ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে দু বার করে এখানে চাষ হচ্ছে। সেচের এই ব্যবস্থার ফলে ধান, গম, আলু ইত্যাদির ফলন ভালোই হয় । আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে চাষ করতে হত এখন তা আর হয় না এখন বেশিরভাগ গ্ৰামে মোটর পাম্পের সাহায‍্যে জলসেচ ব‍্যবস্থা করে চাষাবাদ করা হয়।

বর্তমানে গ্রামের লোকেদের সাংসারিক অবস্থা বেশ ভালোই হয়েছে। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর গ্রামে চালু হয়েছিল একটি প্রাইমারি স্কুল। বছর দশেক আগে এখানে একটি আট ক্লাসের স্কুল খুলেছে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা এখানেই পড়ছে । সাইকেল চেপে উঁচু ক্লাসের ছেলেরা গঞ্জ হাবিবপুরে পড়তে যায় । গাঁয়ে একটা পোস্ট অফিসও হয়েছে , ছোটো পোস্ট অফিস । ফোনের লাইনও এসেছে । ছেলেমেয়েদের হাতে মোবাইল ঘুরছে।

জীবন ও জীবিকা :

আমাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কত জীবন ও জীবিকার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। বংশ পরমপরায় গড়ে উঠেছে এক একটি বসতিভিত্তিক পরা। ব্রাক্ষ্ণণদের পূজা-পাঠ, সংস্কৃতি জীবন ও জীবিকা ছাড়াও, কৃষিজীবিরা তাদের শ্রম ও নিষ্ঠার মধ‍্য দিয়ে ফসল উৎপাদন করে চলেছে। এছাড়াও কুমোর, কামার, জেলি, তাঁতি, গোয়ালা প্রভৃতি জাতির মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছে হাসিমুখে।

গ্রামের সংস্কৃতি :

চিংড়িপোতা গ্রামের লোকেরা আমোদ – আহ্লাদ করতে ভালোবাসে। আগে পাল্লা দিয়ে দুটি দুর্গাপুজো হত এখনও হয় চারটি এবং কালীপুজোও হয় চারটি। পুজোর সময় বসত যাত্রার আসর । শীতকালে হত পালাকীর্তন , এখনও তা হয় । ইদানীং গ্রামে ইলেকট্রিক লাইন এসেছে। এসেছে রেডিয়ো এবং দূরদর্শন। সন্ধ্যাবেলায় কাজকর্মের শেষে সকলে টিভির সামনে ভিড় করে বসে।

মূল‍্যায়ন :

শান্তির নীড় চিংড়িপোতা গ্রামটিতে যারা বসবাস করে , তারা খুবই সরল সাদাসিধে মানুষ। এখানে চাকুরিজীবী মানুষ নেই।বেশিরভাগ মানুষই হল কৃষিজীবী কিংবা ছোটো ছোটো দোকানি। ধান – চালের কারবারও অনেকে করে। এই গ্রামে জাতপাত নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। বিরোধ নেই হিন্দু – মুসলমানের ভিতরেও। সকলেই নিজের নিজের ধর্ম শান্তিতে পালন করে থাকে । মন্দিরে সন্ধ্যার আরতি ঘণ্টার ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে মসজিদেও আজান শোনা যায়। আরও কিছু পরে দূরের জঙ্গল থেকে ভেসে আসে শেয়ালের ডাক। অন্ধকার ফুঁড়ে চাঁদ ওঠে আকাশে। গ্রাম চিংড়িপোতা এরপর নিশ্চিন্তে নিদ্রা যায়।

আরও পড়ুন :

একটি নদীর আত্মকথা

একটি বটগাছের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা

PDF DOWNLOAD ZONE

File Name : একটি গ্ৰামের আত্মকথা 
Language : বাংলা 
Size : 81 KB
Clik Here To Download

1 thought on “একটি গ্ৰামের আত্মকথা PDF”

Leave a Comment