রসের উৎস্রোত কাকে বলে ? রসের উৎস্রোতের পরীক্ষা ও মতবাদ

টেলিগ্ৰামে জয়েন করুন

রসের উৎস্রোত কাকে বলে ? রসের উৎস্রোতের পরীক্ষা ও মতবাদ

রসের উৎস্রোত কাকে বলে : সুপ্রিয় পাঠকগন আমাদের এই নতুন পোষ্টে স্বাগতম , এই পর্বটিতে আমরা রসের উৎস্রোত কাকে বলে এবং রসের উৎস্রোতের পরীক্ষা ও মতবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা আপনাদের জন‍্য খুবই হেল্পফুল হবে।

পড়ুন : প্রস্বেদন কি 

রসের উৎস্রোত কাকে বলে :

যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ শোষিত জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজলবণ, এক কথায় রস, অভিকর্ষের বিপরীতে জাইলেম বাহিকা দিয়ে ঊর্ধ্বমুখে বাহিত হয়ে পাতায় পৌঁছায়, তাকে রসের উৎস্রোত বা অ্যাসেন্ট অব্ স্যাপ বলে। উদ্ভিদের জাইলেম কলার ট্রাকিড ও ট্রাকিয়ার মাধ্যমে প্রধানত রসের উৎস্রোত সংগঠিত হয়।

রসের উৎস্রোতের পরীক্ষা :

উপকরণ : সাদা ফুলসহ ও পত্রযুক্ত বিটপ, ইওসিন দ্রবণ, বিকার, স্ট্যান্ড, ব্লেড, স্লাইড, অণুবীক্ষণ যন্ত্র।

পরীক্ষা : সদ্য সংগ্রহ করা পত্রযুক্ত গাছের কান্ডটিকে জলের নীচে রেখে কেটে কাটা কাণ্ডটিকে সঙ্গে সঙ্গে বিকারের লাল বর্ণের ইওসিন দ্রবণে ডুবিয়ে স্ট্যান্ডের সাহায্যে আটকে খাড়াভাবে রাখতে হবে।

পর্যবেক্ষণ : কয়েক ঘণ্টা পরে পাতার শিরা-উপশিরা ও সাদা ফুলগুলিকে লাল বর্ণ ধারণ করতে দেখা যাবে। কান্ড ও পাতার প্রস্থচ্ছেদ কেটে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নীচে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে জাইলেম লাল বর্ণ ধারণ করেছে।

সিদ্ধান্ত : উদ্ভিদের কাণ্ডের কাটা অংশ দিয়ে পাতা পর্যন্ত ইওসিন মিশ্রিত জল প্রবেশ করেছে অর্থাৎ রসের উৎস্রোত হয়েছে এবং রসের উৎস্রোত জাইলেম বাহিকা দিয়েই ঘটেছে।

রসের উৎস্রোত সম্পর্কিত বিভিন্ন মতবাদ :

প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে জলস্তম্ভ কোনো উদ্ভিদ কান্ডের মধ্য দিয়ে 10m এর বেশি উঠতে পারে না, কিন্তু অনেক উদ্ভিদই 10m-এর বেশি উচ্চতাসম্পন্ন। এই উদ্ভিদগুলিতে রসের উৎস্রোতের সাহায্যে কীভাবে অভিকর্ষজ বলের বিরুদ্ধে জল ওপরে ওঠে তা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ বর্তমান-

1. ভাইটাল তত্ত্ব :

বিজ্ঞানী J. C. Bose 1923 খ্রিস্টাব্দে Desmodium নামক উদ্ভিদে পর্যবেক্ষণ করেন যে মূলের অন্তঃস্থ কর্টেক্স, জাইলেম বহিঃস্থ কর্টেক্স ইত্যাদির পাস সৃষ্টিকারী ক্রিয়াশীলতার মাধ্যমে জলের ঊর্ধ্বমুখী পরিবহণ ঘটে। একে Pulsation Theory ও বলে। বিষ প্রয়োগে মৃত বা তাপে মৃত কোনো কোশে রসের উৎস্রোত হয়। তাই এই তত্ত্ব খারিজ করা হয়।

2. মূলজ চাপ তত্ত্ব :

মূলরোম দ্বারা শোষিত জল কোশান্তর অভিস্রবণের মাধ্যমে বহিঃস্তরের বাইরে থেকে ভিতরের দিকে প্রবেশ করে। বহিঃস্তরের পূর্ণ রসস্ফীত কোষগুলি মৃত জাইলেম বাহিকার মধ্যে যে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করে জলের উৎস্রোত ঘটায়, তাকে মূলজ চাপ বলে। এর ফলে মূলের কর্টেক্স থেকে জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ মূলের জাইলেম বাহিকার মধ্য দিয়ে ঊর্ধ্বমুখে সংবাহিত হয়।

3. বাষ্পমোচন টান :

পত্ররন্দ্রের মাধমে উদ্ভিদদেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পমোচন (Transpiration) বলে। পত্ররন্দ্র ছাড়াও উদ্ভিদ ত্বক ও লেন্টিসেলের মাধ্যমেও সামান্য পরিমাণ বাষ্পমোচন হয়।

মূল দ্বারা শোষিত জল ঊর্ধ্বমুখী সংবহনের ফলে পাতার মেসোফিল কলায় এসে পৌঁছায়। মেসোফিল কলায় জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব পাতাসংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের ঘনত্বের চেয়ে বেশি হওয়ায় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে জল বাষ্পাকারে নির্গত হয়। এই কারণে মেসোফিল কলার কোশগুলিতে ব্যাপন চাপ ঘাটতি বেড়ে যায় বা জল বিভব কমে যায়। দেখা গেছে যে বৃক্ষের ওপরের দিকের পাতায় বাষ্পমোচনের ফলে জল বিভব 30 বার পর্যন্ত কমে যায়।

প্রোটোপ্লাজমে জলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য মেসোফিল কলার কোশ নিকটবর্তী জাইলেম বাহিকা থেকে জল শোষণ করতে থাকে ও ফলস্বরূপ জাইলেম বাহিকায় একটি চোষণ চাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপের ফলেই খনিজ লবণমিশ্রিত জল মূল থেকে জাইলেম বাহিকার মাধ্যমে ঊর্ধ্বমুখে পরিবাহিত হয় যাকে রসের উৎস্রোত বলে। বাষ্পমোচনের ফলে মেসোফিল কলায় যে ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা যায় তা জাইলেম বাহিকায় যে বিশেষ চোষণ চাপ সৃষ্টি করে মূল থেকে খনিজ লবণমিশ্রিত জলকে ঊর্ধ্বমুখে পরিবাহিত করে, তাকে বাষ্পমোচন টান বা প্রস্বেদন টান বলে।

আরও পড়ুন :

অভিস্রবণ কাকে বলে ? অভিস্রবণের প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও শর্তাবলি ? 

অটোজোম কাকে বলে ? 

Leave a Comment